ভারতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের নিয়ে নানা সময়ে নানা রকম রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়। বিশেষ করে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে বিজেপির অবস্থান বরাবরই কড়াকড়ি। তবে এই বিতর্কের মধ্যেই বিজেপির বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় মুখ খুলেছেন পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্র।
একটি সর্বভারতীয় ইংরেজি চ্যানেলে ভার্চুয়াল আলোচনায় অংশ নিয়ে মহুয়া সোজাসাপ্টা বলে দিলেন— “বাংলাদেশিরা কেন ভারতে আসবে? তাদের দেশের অবস্থা তো এখন ভারতের চেয়েও ভালো!”
সাক্ষাৎকারের সঞ্চালক যখন বাংলাদেশ থেকে ভারতে ‘অনুপ্রবেশ’ প্রসঙ্গ তোলেন, তখন স্পষ্ট বিরক্তি নিয়ে মহুয়া পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন— “কারা আসছে? কোথায় সেই ভয়াবহ অনুপ্রবেশ? আমি নিজেই সীমান্ত এলাকার এমপি। আমার এলাকা কৃষ্ণনগরের একপাশে বাংলাদেশ, কুষ্টিয়া জেলা। আমি জানি ওদের অবস্থা এখন কী রকম। অনেক সূচকেই তারা আমাদের চেয়ে ভালো করছে।”
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অবকাঠামো এমনকি জিডিপিতেও আমাদের ছাড়িয়ে গেছে। তাহলে কেউ ভারতে আসবে কেন?” এ সময় তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “মোদিজি আর অমিত শাহ যেন বুঝতে পারেন, পৃথিবীর সবাই ভারতের নাগরিকত্ব পেতে ব্যাকুল— এই ভাবনা থেকে বেরিয়ে আসা দরকার।”
মহুয়া আরও জানান, গত তিন বছরে ১১ লাখ ভারতীয় নাগরিক স্থায়ীভাবে বিদেশে চলে গেছেন। কেউ দুবাই, কেউ ইউরোপ, কেউ বা পর্তুগাল। “স্বপ্নের দেশ” ভারতের নাগরিকরাই আজ অন্যত্র ‘গোল্ডেন ভিসা’ নিতে লাখ লাখ ডলার খরচ করছেন, অথচ সরকার ধরে নিচ্ছে বাংলাদেশিরা নাকি দলে দলে ভারতে ঢুকছে।
তিনি বলেন, “আপনারা সিএএ চালু করলেন, বললেন বাংলাদেশি হিন্দুরা নির্যাতিত। তাহলে কেন তারা বৈধভাবে আবেদন করছেন না? এখন পর্যন্ত দুই হাজারও মানুষ নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেনি। এটা প্রমাণ করে এই আইন আসলে ভিত্তিহীন একটা ভয় বা ধারণার উপর দাঁড় করানো হয়েছে।”
সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে সরকারের ব্যর্থতার কথাও সরাসরি তুলে ধরেন মহুয়া। তার প্রশ্ন— “২ লাখ কোটি রুপি বাজেট দিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে, তার কী হলো? যদি কেউ অনুপ্রবেশ করেও থাকে, সেটার দায় তো আপনারই। সীমান্তে নিরাপত্তা দেন, প্রযুক্তি বসান, আলো লাগান— তাহলেই তো বন্ধ হয়ে যাবে। কেবল বাংলাদেশিদের দোষ দিয়ে কী লাভ?”
এই বক্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দিলেন মহুয়া মৈত্র— রাজনৈতিক স্বার্থে বাংলাদেশকে ভয় দেখানো বন্ধ হোক। বাস্তবতা হলো, আজকের বাংলাদেশ অনেক দিকেই ভারতের চেয়ে এগিয়ে আছে। তাই, অনুপ্রবেশ নয়, বরং আত্মসমালোচনার সময় এখন ভারতের।

