চীন ও রাশিয়ার মহাকাশ আধিপত্যের পরিকল্পনা ঠেকাতে চাঁদে পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের কর্মসূচি দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তত্ত্বাবধানে থাকা নাসার ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক শন ডাফি ৩১ জুলাইয়ের এক নির্দেশনায় এই প্রকল্পের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৪০ কিলোওয়াট থেকে বাড়িয়ে ১০০ কিলোওয়াট করার নির্দেশ দেন, যার লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যেই চাঁদে চুল্লি স্থাপন।
নাসা দীর্ঘদিন ধরে ফিশন সারফেস পাওয়ার (FSP) প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে, যা মহাকাশে দীর্ঘমেয়াদি মিশনের জন্য টেকসই বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করবে। পূর্ব পরিকল্পনায় চুল্লির স্বয়ংক্রিয়ভাবে ১০ বছর পরিচালনা ও ৪০ কিলোওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা নির্ধারিত থাকলেও নতুন নির্দেশনায় সময়সীমা ও ক্ষমতা উভয়ই বাড়ানো হয়েছে।
ডাফি সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে চীন ও রাশিয়া এগিয়ে যাবে। এ দুই দেশ ২০২৪ সালের মার্চে যৌথভাবে ২০৩৫ সালের মধ্যে চাঁদে পারমাণবিক চুল্লি বসানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। তাঁর মতে, যে দেশ প্রথম এই প্রযুক্তি বাস্তবায়ন করবে, তারা ‘নো-এন্ট্রি জোন’ তৈরি করে অন্যদের প্রবেশ ঠেকাতে পারবে- যা যুক্তরাষ্ট্রের আর্টেমিস মিশনের জন্য হুমকি।
নির্দেশনায় আগামী ৩০ দিনের মধ্যে Fission Surface Power (FSP) প্রোগ্রামের জন্য একজন নির্বাহী নিয়োগ এবং ৬০ দিনের মধ্যে বেসরকারি খাত থেকে উন্নত চুল্লি তৈরির প্রস্তাব আহ্বানের কথা বলা হয়েছে। এ সময়সূচি পূর্বের পরিকল্পনার তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে আনা হয়েছে।
চাঁদে রাত প্রায় ১৪ দিন দীর্ঘ হওয়ায় সৌরশক্তি অকেজো হয়ে পড়ে। ফলে স্থায়ীভাবে ছায়াচ্ছন্ন অঞ্চলগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য পারমাণবিক শক্তি অপরিহার্য, বিশেষত যেখানে পানি বা বরফ থাকার সম্ভাবনা আছে।
নাসা ইতোমধ্যেই FSP প্রকল্পের প্রথম ধাপ সম্পন্ন করেছে। ২০২২ সালে তিনটি কোম্পানিকে চুল্লির প্রাথমিক নকশার জন্য চুক্তি দেওয়া হয়েছিল, যেখানে বিদ্যুৎ রূপান্তর, তাপ নিয়ন্ত্রণ ও বিতরণ ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। ২০২৫ সালে দ্বিতীয় ধাপে একটি চূড়ান্ত নকশা বেছে নিয়ে পূর্ণমাত্রার পরীক্ষামূলক মিশনের প্রস্তুতি নেওয়া হবে। চাঁদে পৌঁছানোর পর প্রথম বছর চলবে প্রাথমিক পরীক্ষা এবং পরবর্তী নয় বছর পূর্ণ কার্যক্রম।
এছাড়া নাসা পারমাণবিক তাপ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রযুক্তি উন্নয়নে কাজ করছে। রোলস-রয়েস, ব্রাইটন এনার্জি ও জেনারেল ইলেকট্রিক উন্নত ব্রাইটন সাইকেল কনভার্টার তৈরির চুক্তি পেয়েছে। যদিও প্রযুক্তিটি বর্তমানে অকার্যকর, নাসা আশা করছে ভবিষ্যতে এটি ব্যবহারযোগ্য হবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের ২০২৬ সালের বাজেটে এ প্রকল্পের জন্য ৪০০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা ২০২৭ সালে বেড়ে ৫০০ মিলিয়ন ডলার হতে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে নাসার বাজেট ১৯৬১ সালের পর সবচেয়ে নিচু পর্যায়ে যাচ্ছে বলে দ্য প্ল্যানেটারি সোসাইটি জানিয়েছে।
সব মিলিয়ে, এই পারমাণবিক চুল্লি প্রকল্প যুক্তরাষ্ট্রের চন্দ্র মিশন ও ভবিষ্যৎ আন্তঃগ্রহ অভিযানের জন্য একটি কেন্দ্রীয় কৌশল হয়ে উঠেছে। তবে সফল হতে হলে চুল্লি দ্রুত, নিরাপদে এবং প্রতিদ্বন্দ্বীদের আগেই স্থাপন করতে হবে।

