ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে সীমান্তবর্তী ও প্রত্যন্ত এলাকায় বসবাসরত আদিবাসীরা এবার নিজেদের সুরক্ষার জন্য আগ্নেয়াস্ত্র রাখার লাইসেন্স পাবেন। আসামের ভারতীয় জনতা পার্টির নেতৃত্বাধীন সরকার সম্প্রতি এ সংক্রান্ত নতুন নীতি অনুমোদন করেছে।
এ বিষয়ে এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ব্যবস্থা মূলত “অরক্ষিত ও প্রত্যন্ত” অঞ্চলে বসবাসরত নাগরিকদের আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। গত ১৪ আগস্ট আসাম সরকার অস্ত্রের লাইসেন্সের জন্য একটি ডিজিটাল পোর্টালও চালু করেছে, যার মাধ্যমে আবেদন করা যাবে সহজেই।
আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা জানিয়েছেন, রাজ্যের কিছু অঞ্চলে লাইসেন্স প্রাপ্তি প্রক্রিয়া সহজ করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, “যদি কেউ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে বা দুই রাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকায় থাকে, বা এমন এক সংবেদনশীল অঞ্চলে থাকে যেখানে তার সম্প্রদায়ের মানুষের সংখ্যা কম, সেখানে ছোটখাট ঘটনায়ও উত্তেজনা তৈরি হতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে পুলিশ পৌঁছাতে অনেক সময় লাগতে পারে। তাই পুলিশ আসার আগে নিজের সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এই লক্ষ্যেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
অস্ত্রের লাইসেন্স প্রাপ্তির জন্য কিছু শর্তও নির্ধারণ করা হয়েছে। আবেদনকারীর বয়স অবশ্যই ২১ বছরের বেশি হতে হবে। আবেদনকারীকে “অরক্ষিত, সংবেদনশীল ও প্রত্যন্ত” অঞ্চলের বাসিন্দা হতে হবে। এছাড়া কোনো ফৌজদারি মামলা বা অপরাধের রেকর্ড থাকলে লাইসেন্স দেওয়া হবে না। আবেদনকারীর শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ হওয়া বাধ্যতামূলক। ২০১৬ সালের অস্ত্র আইনের নিয়ম অনুযায়ী প্রশিক্ষণের সনদ থাকা আবশ্যক।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত আরও জানান, পূর্বে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা আক্রমণ ও হুমকির মুখোমুখি হয়েছেন। সেই প্রেক্ষাপটেই রাজ্য সরকার এই বিশেষ অস্ত্র প্রকল্প চালু করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, “এটি কোনো ধর্মীয় উদ্দেশ্য নয়। আদিবাসী, সীমান্তবর্তী এবং অন্তত তিন প্রজন্ম ধরে ভারতে বসবাসকারী মানুষকে আত্মরক্ষার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।”

