ফেব্রুয়ারির উত্তপ্ত বৈঠকের সঙ্গে তুলনা করলে এবার দৃশ্যপট একেবারেই ভিন্ন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন যেন তাঁদের সম্পর্ককে কোনোভাবেই সংঘাতপূর্ণ না মনে হয়।
জেলেনস্কি এদিন স্যুট পরে উপস্থিত হয়েছিলেন—যদিও প্রচলিত ধাঁচের নয়। ট্রাম্প তাঁর পোশাকের প্রশংসা করেন। আর জেলেনস্কি বারবার “থ্যাঙ্ক ইউ” বলতে থাকেন, যা তাঁর মার্কিন স্বাগতিককে যথেষ্টই খুশি করেছে বলে মনে হয়।
ওভাল অফিসে শুরুতে জেলেনস্কি খুব বেশি কথা বলেননি। হয়তো তিনি বুঝতে পারছিলেন, তাঁর বক্তব্য ট্রাম্পের ইচ্ছার সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। তবে ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মতভেদ সামনে চলে আসে।
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান। কিন্তু ট্রাম্প বলেন, স্থায়ী সমাধানের আগে যুদ্ধবিরতি জরুরি নয়। জেলেনস্কি এ প্রসঙ্গে নীরব থাকেন।
বৈঠকের আড়ালে আলোচনার মূল বিষয় ছিল ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এবং জেলেনস্কি-পুতিন বৈঠকের সম্ভাবনা। সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, তবে জেলেনস্কি নিরাপত্তা নিশ্চয়তাকে যুদ্ধের ইতি টানার “প্রথম ধাপ” হিসেবে উল্লেখ করেন।
হোয়াইট হাউসের বাইরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, নিরাপত্তা নিশ্চয়তার অংশ হিসেবে কিয়েভ ও ওয়াশিংটনের মধ্যে প্রায় ৯০ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্রচুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও অঘোষিত কিছু অস্ত্র অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের ড্রোন কিনবে বলেও জানান তিনি, যা স্থানীয় উৎপাদন বাড়াতে সহায়ক হবে।
সবচেয়ে আলোচিত প্রসঙ্গ ছিল তাঁর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে বসার আগ্রহ। তিনি বলেন, যদি মস্কো রাজি হয়, তবে আলোচনায় ট্রাম্পও যোগ দিতে পারেন। পুতিন অবশ্য এখন পর্যন্ত এই প্রস্তাবে সাড়া দেননি।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে তিনি ইউক্রেনের একটি মানচিত্র দেখান এবং জোর দিয়ে বলেন, গত এক হাজার দিনে রাশিয়া ইউক্রেনের এক শতাংশেরও কম এলাকা দখল করেছে। এটি হোয়াইট হাউসের জন্য নতুন তথ্য ছিল, যা নাকি ট্রাম্পের মনোভাবেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
“আমি সেই মানচিত্র নিয়েই লড়ছি,” বলেন জেলেনস্কি। “এখানে কোন এলাকা দখল হয়েছে, কতটুকু হয়নি—এসব ছোটখাটো বিষয়ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
বৈঠক শেষে জেলেনস্কি আলোচনাকে “উষ্ণ” আখ্যা দেন। তাঁর এই ইতিবাচক সুর ছিল স্পষ্টতই কৌশলগত—পূর্বের মতো বিরোধিতা এড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ইউরোপীয় দৃষ্টিভঙ্গি মেনে নেওয়ার জন্য রাজি করানোর প্রচেষ্টা।
তবে বাস্তবিক দিক থেকে সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো—এই সফর ইউক্রেনকে আরও কিছুটা সময় এনে দিয়েছে। একইভাবে, ট্রাম্প-পুতিন ফোনালাপও দেখিয়েছে রাশিয়াও নিজের জন্য সময় কিনে নিয়েছে।
আলাস্কা আর ওয়াশিংটনের শীর্ষ বৈঠক ঘিরে যত ভয় ছিল, আপাতত কোনো বিপর্যয় ঘটেনি। পরিস্থিতি যেখানে ছিল, সেখানেই স্থির হয়ে আছে—স্ট্যাটাস কু বজায়।

