ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিঙ্কির সংসদ ভবনে আত্মহত্যা করেছেন তরুণ সংসদ সদস্য এমেলি পেলটোনেন। মাত্র ৩০ বছর বয়সী এই এমপি সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রতিনিধিত্ব করতেন। মঙ্গলবার সকালে সংসদ ভবনের ভেতর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয় গণমাধ্যম ধারণা করছে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। পুলিশও জানিয়েছে, তার মৃত্যুর সঙ্গে কোনো অপরাধমূলক ঘটনার যোগসূত্র নেই। স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৬ মিনিটে পুলিশ এদুস্কুনতাতালোতে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে এবং প্রায় তিন ঘণ্টা পর সংসদ কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে খবরটি নিশ্চিত করে।
এমেলি পেলটোনেনের মৃত্যুতে ফিনল্যান্ড জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রাজনৈতিক বিভাজন ভুলে সব দলের নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্লামেন্টারি গ্রুপের চেয়ারপারসন টিটি তুপুরাইনেন বলেছেন, “তিনি আমাদের সম্প্রদায়ের অত্যন্ত প্রিয় সদস্য ছিলেন। তাকে আমরা ভীষণভাবে মিস করব। এত অল্প বয়সে এক তরুণ প্রাণের অবসান হলো।”
প্রধানমন্ত্রী পেত্তেরি অরপো মঙ্গলবার সব সরকারি রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেন এবং সহকর্মীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। সংসদের স্পিকার ইউসি হাল্লা-আহো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, পেলটোনেন ছিলেন “একজন প্রিয় সহকর্মী, যিনি সব দলের কাছেই সম্মানিত ছিলেন।”
দক্ষিণাঞ্চলীয় উউসিমা অঞ্চল থেকে নির্বাচিত এমেলি পেলটোনেন প্রথমবার ২০২৩ সালে সংসদ সদস্য হন। তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় অল্প বয়সে। মাত্র ১৮ বছর বয়সে তিনি ইয়্যারভেনপার সিটি কাউন্সিলে নির্বাচিত হন এবং ২২ বছর বয়সে সিটি বোর্ডের চেয়ারম্যান হন, যা ওই পদে দায়িত্ব নেওয়া সবচেয়ে কম বয়সী ব্যক্তির রেকর্ড।
সম্প্রতি স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভুগছিলেন পেলটোনেন। গত জুনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি জানিয়েছিলেন, কিডনির সংক্রমণের কারণে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে এবং তিনি গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে রয়েছেন। সেই সময় তিনি লিখেছিলেন, “এখন আমি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছি। তবে পরিস্থিতির কারণে গ্রীষ্মকালীন চিকিৎসা ছুটিতে আছি এবং পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার দিকে মনোযোগ দিচ্ছি।”
তার অকাল মৃত্যুতে ফিনল্যান্ডের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে।

