ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় প্রায় দুই বছর ধরে চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৬২ হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ১৮ হাজার ৮৮৫ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে। বুধবার (২০ আগস্ট) আল জাজিরা গাজার সরকারি গণমাধ্যম কার্যালয়ের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।
জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ) মঙ্গলবার জানায়, গাজায় শিশুদের জন্য কোথাও আর নিরাপদ আশ্রয় নেই। ইসরায়েলের অবরোধের কারণে ভয়াবহ খাদ্যসংকট ও চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
জাতিসংঘ পরিচালিত স্কুলগুলো ঘরবাড়ি ধ্বংস হওয়া লাখো মানুষকে আশ্রয় দিলেও সেগুলোও হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে। ইউএনআরডব্লিউএ বলেছে, “ফিলিস্তিনিরা জাতিসংঘের পতাকার নিচে নিরাপত্তা খুঁজেছে, অথচ সেই আশ্রয়কেন্দ্রগুলোই মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। গাজায় শিশুদের আর কোনো নিরাপদ স্থান নেই। আমরা অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবি জানাই।”
সংস্থাটি ইউনিসেফের তথ্য তুলে ধরে জানায়, ইসরায়েল একতরফাভাবে যুদ্ধবিরতি ভেঙে আবার হামলা শুরুর পর গত পাঁচ মাসে গড়ে প্রতি মাসে ৫৪০ জনের বেশি শিশু নিহত হয়েছে।
আল জাজিরার হাতে আসা এক ভিডিওতে দেখা যায়, ১২ বছর বয়সী আমনা আল-মুফতির শেষ মুহূর্ত। পরিবারের জন্য পানি আনতে গিয়ে তিনি ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে প্রাণ হারান। ভিডিওতে তার বাবার হৃদয়বিদারক কান্নাও ধরা পড়ে।
এদিকে জাতিসংঘের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে মঙ্গলবার ভোর থেকে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় অন্তত ৫১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে আটজন খাদ্য সহায়তার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সমর্থিত জিএইচএফের বিতরণকেন্দ্রের কাছে সেনাদের গুলিতে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। মে মাস থেকে শুধু খাদ্য সহায়তার লাইনে প্রাণ হারানো মানুষের সংখ্যা প্রায় দুই হাজারে দাঁড়িয়েছে।
গাজার বিভিন্ন হাসপাতাল জানিয়েছে, খান ইউনিসে বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়কেন্দ্রে হামলায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। দেইর আল-বালাহতে একটি তাঁবুতে হামলায় আরও চারজনের মৃত্যু হয়। একই সময়ে গাজা সিটিতেও হামলা জোরদার করেছে ইসরায়েলি সেনারা। মঙ্গলবার ভোরে জেইতুন এলাকায় বিমান হামলায় অন্তত চারজন নিহত হন।
এছাড়া শহরের দক্ষিণাংশে একাধিক বাড়ি ধ্বংস করা হয়েছে এবং পূর্ব গাজার তুফাহ এলাকায়ও ভারী গোলাগুলির খবর পাওয়া গেছে।

