যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত সিরিয়াল কিলার জোসেফ নাসো অন্তত ২৬ জন নারীকে হত্যা করেছেন। তিনি নামের প্রথম ও শেষ অক্ষর মিলিয়ে নারীদের লক্ষ্য করতেন, যার কারণে তিনি ‘অ্যালফাবেট কিলার’ নামে পরিচিত। তাঁর হাতে নিহত নারী সম্পর্কিত ‘সেরা শিকারদের’ তালিকাও ছিল।
৯১ বছর বয়সী নাসো চারজন নারী হত্যার মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি কারাগারে সাজা ভোগ করছেন। ২০১৩ সালে চারটি হত্যা মামলায় তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। হত্যাকাণ্ডগুলো হলো:
- ১৯৭৭ সালে ফেয়ারফ্যাক্সের কাছে ১৮ বছর বয়সী রক্সেন রগ্যাশ,
- ১৯৭৮ সালে পোর্ট কস্তায় ২২ বছর বয়সী কারমেন কোলন,
- ১৯৯৩ সালে ইউবা কাউন্টিতে ৩৮ বছর বয়সী পামেলা পারসন্স,
- ১৯৯৪ সালে ইউবা কাউন্টিতে ৩১ বছর বয়সী ট্রেসি টাফোয়া।

কারাগারের অন্য বন্দী বিল নোগুয়েরা জানিয়েছেন, নাসো এক দশকের বেশি সময় তার হত্যাকাণ্ড নিয়ে গর্ব করেছিলেন এবং কিছু হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্যও প্রকাশ করেছিলেন। তিনি ছয়জনকে হত্যা করার আগে মৃতদেহের মতো সাজিয়ে তাঁদের ছবি তুলতেন। এছাড়া, খুন করার সময় বিশেষভাবে দ্য ডোর্স ব্যান্ডের গান ‘Riders on the Storm’ শুনতেন।
নাসো নিজেকে ওকল্যান্ড অ্যাথলেটিকসের আলোকচিত্রী হিসেবে পরিচয় দিতেন। তিনি লিটল লিগ কোচ ও একটি স্কুলের আলোকচিত্রী হিসেবেও কাজ করতেন। নাসো বিভিন্ন নারীকে প্রলুব্ধ করার পর ধর্ষণ ও হত্যা করতেন। তাঁর ‘সেরা শিকারদের’ মধ্যে একজন ছিলেন ১৯ বছর বয়সী পামেলা ল্যাম্বসন, যাকে তিনি ছবি তুলার সময় মৃত্যুর আগে সাজিয়ে রেখেছিলেন।
নাসোকে নিয়ে নির্মিত নতুন প্রামাণ্যচিত্র ‘ডেথ রো কনফিডেনশিয়াল: সিক্রেটস অব আ সিরিয়াল কিলার’ ১৩ সেপ্টেম্বর অক্সিজেন চ্যানেলে সম্প্রচার হবে। এতে তাঁর সাক্ষাৎকারও থাকবে।

