ভারতের রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়িয়ে দিয়েছে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর মন্তব্য। সোমবার বিহারের পাটনায় তার ১৬ দিনের ‘ভোটার অধিকার যাত্রা’ শেষ করে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আক্রমণ করেন তিনি।
রাহুল বলেন, “খুব শিগগির ভোট চুরি নিয়ে অকাট্য প্রমাণ সামনে আনব। তখন বিজেপিকে হাইড্রোজেন বোমার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রী মোদি আর দেশের মানুষের সামনে মুখ দেখাতে পারবেন না।”
তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনের সহায়তায় বিজেপি পরিকল্পিতভাবে ভোটার তালিকায় কারচুপি করছে। কর্ণাটকের একটি বিধানসভা কেন্দ্রের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “ভোট চুরি মানে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া। এভাবে চলতে থাকলে বিজেপি একদিন রেশন কার্ড কিংবা অন্য অধিকারও কেড়ে নেবে।”
ময়দান থেকে ডঃ আম্বেদকর মূর্তি পর্যন্ত রাহুলের পদযাত্রা রূপ নেয় বিরাট জনসমুদ্রে। সেখানে তিনি মাল্যদান করেন। মিছিল ডাকবাংলা ক্রসিং এলাকায় পুলিশ আটকাতে চেয়েও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। তবে শেষ পর্যন্ত রাহুল ও সমর্থকদের থামানো যায়নি।
এ সময় তিনি ঘোষণা দেন, “এই সরকার ছ’মাসও টিকবে না, বিহারে বিরোধীরা নতুন সরকার আনবে।” পাশাপাশি আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারকে আক্রমণ করে বলেন, “নীতীশ দুর্নীতির ভীষ্ম পিতামহ হয়ে উঠেছেন। বিহারের মানুষ তাকে উৎখাত করবেন।”
রাহুলের যাত্রা সমাপ্ত হয় বিরাট সমাবেশে, যেখানে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে, ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন, এনসিপি নেত্রী সুপ্রিয়া সুলে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট, বামদলগুলোর নেতারা, তৃণমূল সাংসদ ইউসুফ পাঠান এবং শিবসেনার সঞ্জয় রাউত।
বিজেপির তরফে এই মন্তব্যকে আক্রমণ করে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশংকর প্রসাদ বলেন, “উত্তরপ্রদেশের দেওরিয়া থেকে হাজার হাজার মানুষ আনা হয়েছে রাহুলের সভায়। ভোটারদের অসম্মান করে তিনি নিজেকেই হীন প্রমাণ করেছেন।”

