ইংল্যান্ডে ১৬ বছরের নিচে শিশু-কিশোরদের কাছে এনার্জি ড্রিংক বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা আনতে নতুন আইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছে দেশটির সরকার। এ আইন কার্যকর হলে রেড বুল, মনস্টার, প্রাইমের মতো জনপ্রিয় পানীয় আর দোকান, রেস্তোরাঁ, ক্যাফে, ভেন্ডিং মেশিন কিংবা অনলাইনে অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে বিক্রি করা যাবে না। বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।
সরকার বলছে, তরুণ প্রজন্মের স্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। যদিও যুক্তরাজ্যের অনেক সুপারমার্কেট ইতোমধ্যে স্বেচ্ছায় এনার্জি ড্রিংক বিক্রিতে বয়সসীমা নির্ধারণ করেছে, তথাপি গবেষণায় দেখা গেছে দেশটিতে প্রতি সপ্তাহে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিশু এ ধরনের উচ্চ ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় পান করে। কিছু জনপ্রিয় এনার্জি ড্রিংকে দুই কাপ কফির চেয়েও বেশি ক্যাফেইন থাকে।
স্বাস্থ্য ও সমাজসেবা বিষয়ক মন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং জানিয়েছেন, অভিভাবক ও শিক্ষকদের উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতেই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “শিশুদের স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য এই বিক্রিনিষেধ অপরিহার্য।”
তবে কম ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় যেমন চা-কফি বা ডায়েট কোক এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসবে না। বিষয়টি নিয়ে আগামী ১২ সপ্তাহের জন্য একটি পরামর্শকাল চলবে, যেখানে বিশেষজ্ঞ, সাধারণ মানুষ, খুচরা বিক্রেতা ও উৎপাদকরা মতামত দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
টিভি শেফ জেমি অলিভার দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের মধ্যে এনার্জি ড্রিংকের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। তার মতে, “অনেক শিশু নাশতায় এনার্জি ড্রিংক খেয়ে স্কুলে যায় এবং সারাদিন অস্থির থাকে। এক বোতলে তিন-চার শট এসপ্রেসো আর বিপুল পরিমাণ চিনি থাকে—যেন দুঃস্বপ্নের মতো।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের শরীর ছোট এবং মস্তিষ্ক এখনও বিকাশমান হওয়ায় তারা ক্যাফেইনের প্রভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণে মাথাব্যথা, ঘুমের সমস্যা, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন এমনকি খিঁচুনিও হতে পারে। বিরল হলেও অতিরিক্ত ক্যাফেইনের কারণে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।
বর্তমান আইন অনুযায়ী, লিটারপ্রতি ১৫০ মিলিগ্রামের বেশি ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়ের লেবেলে সতর্কবার্তা লিখতে হয়—“উচ্চ ক্যাফেইনযুক্ত। শিশু, গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী নারীর জন্য উপযোগী নয়।” বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য দৈনিক সর্বোচ্চ ৪০০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন নিরাপদ, যা চার কাপ ইনস্ট্যান্ট কফি বা পাঁচ কাপ চায়ের সমান।
মন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং বলেন, “শিশুদের কাছে এই পানীয় বিক্রি বন্ধ করে আমরা আগামী প্রজন্মকে আরও সুস্থ ও সুখী জীবনের ভিত্তি উপহার দিতে চাই।” পাশাপাশি উত্তর আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসেও একই ধরনের আইন প্রণয়নের কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।

