মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ভেনিজুয়েলা থেকে আসা একটি মাদকবাহী নৌকায় যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হামলা চালিয়েছে। দক্ষিণ ক্যারিবিয়ান সাগরে পরিচালিত এ অভিযানে ১১ জন নিহত হয়েছে, যাদেরকে ট্রাম্প “নার্কোটেররিস্ট” বা মাদক-সন্ত্রাসী বলে অভিহিত করেছেন।
ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের বাহিনী ভেনিজুয়েলার কাছাকাছি একটি নৌকাকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে। সেই নৌকায় বিপুল পরিমাণ মাদক বহন করা হচ্ছিল।” তিনি আরও জানান, পুরো ঘটনার বিষয়ে তাকে অবহিত করেছেন মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন।
পরে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ লিখেছেন, “আজ সকালে আমার নির্দেশে মার্কিন সামরিক বাহিনী দক্ষিণ কমান্ডের আওতাধীন এলাকায় ভেনিজুয়েলার অপরাধী সংগঠন ‘ট্রেন দে আরাগুয়া’র সদস্যদের বিরুদ্ধে একটি অভিযান চালিয়েছে। এতে ১১ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। আমাদের কোনো সেনা আহত হয়নি। এটি যেন সবার জন্য সতর্কবার্তা হয়—আমেরিকায় মাদক আনতে চাইলে সর্বনাশ ডেকে আনবেন।”
তার পোস্টের সঙ্গে যুক্ত ছিল একটি ঝাপসা আকাশপথের ভিডিও। তাতে দেখা যায়, উত্তাল সমুদ্রে দ্রুতগামী একটি মোটরবোট হঠাৎ বিস্ফোরণে আগুনে পুড়ে যায়। তবে ভেনিজুয়েলার যোগাযোগমন্ত্রী ফ্রেডি নানেজ পাল্টা দাবি করেছেন, ভিডিওটি কৃত্রিমভাবে তৈরি, এমনকি তিনি এও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে বানানো হতে পারে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও এক্স-এ (পূর্বে টুইটার) পোস্ট দিয়ে অভিযানের কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি লিখেছেন, “আজ মার্কিন সামরিক বাহিনী দক্ষিণ ক্যারিবিয়ান সাগরে ভেনিজুয়েলা থেকে যাত্রা করা একটি মাদকবাহী নৌকার ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে। নৌকাটি একটি স্বীকৃত সন্ত্রাসী সংগঠনের নিয়ন্ত্রণে ছিল।”
তবে এখনো স্পষ্ট নয়, নৌকাটিতে ঠিক কী ধরনের মাদক বহন করা হচ্ছিল।
ভেনিজুয়েলাকে ঘিরে মার্কিন চাপ বৃদ্ধি
এ বছরের জানুয়ারিতে আবারও হোয়াইট হাউসে ফেরার পর ট্রাম্প প্রশাসন লাতিন আমেরিকার কয়েকটি কুখ্যাত অপরাধী ও মাদক-চক্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকায় যুক্ত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ভেনিজুয়েলার ট্রেন দে আরাগুয়া ও কুখ্যাত কার্টেল অব দ্য সানস। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, পরের সংগঠনটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্বয়ং প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং ভেনিজুয়েলার সেনা ও গোয়েন্দা সংস্থার উচ্চপদস্থ কয়েকজন কর্মকর্তা।
গত দুই মাসে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে নৌবাহিনী ও মেরিন সেনাদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজ ও হাজারো সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। ট্রাম্প বারবার ইঙ্গিত দিচ্ছেন, প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহার করে আমেরিকায় মাদকের স্রোত ঠেকানো হবে। প্রেসিডেন্টের ভাষায়, “এটাই শেষ নয়, সামনে আরও আছে।”
মাদুরোর কড়া প্রতিক্রিয়া
অন্যদিকে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এ পরিস্থিতিকে ভয়াবহ হুমকি বলে আখ্যা দিয়েছেন। সোমবার এক ভাষণে তিনি বলেন, “যদি আমেরিকা আমাদের আক্রমণ করে, তবে আমরা অস্ত্রধারী প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করব। আমাদের মহাদেশ গত ১০০ বছরে এমন বড় হুমকি আর দেখেনি।”
মার্কিন প্রশাসনের দেওয়া ৫ কোটি ডলারের পুরস্কার এখনও ঝুলছে মাদুরোর মাথায়। যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করেছে, মাদুরো সরাসরি আন্তর্জাতিক মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তবে মাদুরো স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যে কোনো মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ভেনিজুয়েলা লড়বে শেষ পর্যন্ত।

