যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তে সম্প্রতি তৈরি হওয়া উত্তেজনা প্রশমনের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সোমবার (১৩ অক্টোবর) ওয়াশিংটন থেকে ইসরায়েলগামী এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আমি শুনেছি, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে এখন যুদ্ধ চলছে। দেশে ফিরে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করব। জানেনই তো, আমি যুদ্ধ বন্ধ করতে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারি।”
ট্রাম্প তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ভারত ও পাকিস্তানের সংঘাতসহ বিশ্বব্যাপী প্রায় আটটি যুদ্ধে তিনি শান্তি স্থাপন করেছেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, চীনও দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান সোমবার এক বিবৃতিতে বলেন, “আমরা সাম্প্রতিক সংঘর্ষ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং আশা করি পরিস্থিতি দ্রুত শান্ত হবে।”
একই দিনে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও ইসলামাবাদ ও কাবুলকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানায়। রাশিয়ার বিবৃতিতে বলা হয়, তাদের কাছে আসা তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হচ্ছে এবং এই প্রক্রিয়াকে তারা স্বাগত জানাচ্ছে।
অপরদিকে, নয়াদিল্লি সফররত আফগান তালেবান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি জানান, আফগানিস্তান কারও সঙ্গে যুদ্ধ করতে চায় না। “আমাদের অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো। সমস্যার সমাধান যুদ্ধ নয়; সংলাপই একমাত্র পথ।”
তবে তালেবান মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ পাকিস্তানের তেহরিক-ই-লাব্বাইক (টিএলপি) আন্দোলন দমন করতে বলপ্রয়োগের সমালোচনা করলে পাকিস্তান কঠোরভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দফতর সতর্ক করে জানায়, “নিজেদের দেশের বিষয়ে মনোযোগ দিন এবং অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে মন্তব্য থেকে বিরত থাকুন। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রথা অনুযায়ী, অন্য দেশের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়।”
সীমান্ত পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, শনিবার গভীর রাতে আফগান দিক থেকে আকস্মিক হামলার পর সীমান্তে সংঘর্ষে কমপক্ষে ২৩ জন পাকিস্তানি সেনা এবং ২০০-এর বেশি তালেবান ও সংশ্লিষ্ট জঙ্গি নিহত হয়েছে।

