২০২৫ সালের নোবেল পুরস্কারের ঘোষণা শেষ হলো। গত সপ্তাহে শুরু হয় চিকিৎসা বা শারীরবিজ্ঞানের নোবেলজয়ীর নাম ঘোষণা দিয়ে। এরপর পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য, শান্তি এবং অবশেষে অর্থনীতিতে বিজয়ীর নাম প্রকাশ করা হলো।
এই বছর বিশেষ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল শান্তিতে নোবেল পুরস্কার। অনেকেই কৌতূহলী ছিলেন, এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নোবেল পাবেন কি না। শেষ পর্যন্ত শান্তির নোবেল অর্জন করেছেন ভেনেজুয়েলার রাজনীতিবিদ ও মানবাধিকারকর্মী মারিয়া কোরিনা মাচাদো।
প্রতি বছর ছয়টি ক্ষেত্র—চিকিৎসা, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য, শান্তি ও অর্থনীতি—এ অসাধারণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়। প্রতিজয়ী পান এক কোটি ১০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার।
চিকিৎসা নোবেল এই বছর পেয়েছেন ম্যারি ই. ব্রুনকো, ফ্রেড রামসডেল এবং শিমন সাকাগুচি। তারা মানুষের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে করা গবেষণার জন্য এই স্বীকৃতি পেয়েছেন।
পদার্থবিজ্ঞানে যৌথভাবে নোবেল পেয়েছেন জন ক্লার্ক, মিশেল দেভরেট ও জন এম. মার্টিনিস। ম্যাক্রোস্কোপিক কোয়ান্টাম মেকানিক্যাল টানেলিং এবং ইলেকট্রিক সার্কিটে এনার্জি কোয়ান্টাইজেশন নিয়ে তাদের গবেষণা নোবেলের যোগ্যতা অর্জন করেছে।
রসায়নে এই বছর নোবেল পেয়েছেন সুসুমু কিতাগাওয়া, রিচার্ড রবসন এবং ওমর এম. ইয়াগি। তারা ‘মেটাল-অর্গানিক ফ্রেমওয়ার্ক’ নামক নতুন আণবিক কাঠামো আবিষ্কারের জন্য পুরস্কৃত হয়েছেন।
সাহিত্যে নোবেল জয় করেছেন হাঙ্গেরিয়ান লেখক লাজলো ক্রাজনাহরকাই, যিনি তার গভীর দৃষ্টিভঙ্গি এবং মানবজীবনের অস্থিরতা ও মহাপ্রলয়ের মধ্যেও শিল্পের শক্তিকে পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য পরিচিত।
শান্তিতে নোবেল পেয়েছেন মারিয়া কোরিনা মাচাদো, যিনি ভেনেজুয়েলার জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় এবং একনায়কতন্ত্র থেকে ন্যায়ভিত্তিক ও শান্তিপূর্ণ গণতন্ত্রে উত্তরণের সংগ্রামে অবিরাম প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছেন।
অর্থনীতিতে এই বছর নোবেল পেয়েছেন তিনজন—ইওয়েল মোকিয়র, ফিলিপ আগিয়োঁ ও পিটার হাউইট। রয়েল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস জানায়, উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বোঝানোর জন্য তাদের এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
নোবেল পুরস্কার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সুইডিশ রসায়নবিদ ও উদ্যোগপতি আলফ্রেড নোবেল, যিনি মৃত্যুর আগে উইলে লিখেছিলেন, তার সম্পদের বড় অংশ দেওয়া হবে এমন ব্যক্তিদের হাতে যারা মানবজাতির কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন।

