দীর্ঘ বন্দিদশা শেষে অবশেষে মুক্তির মুখ দেখলেন আরও কয়েক হাজার ফিলিস্তিনি। যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে সোমবার ইসরাইলি কারাগার থেকে ৩ হাজার ৭০০ জন ফিলিস্তিনিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে—যা যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে একটুখানি স্বস্তির খবর হয়ে এসেছে। তবে এখনো ইসরাইলের কারাগারে বন্দি রয়েছেন প্রায় ১১ হাজার ৪৬০ জন ফিলিস্তিনি, তাদের মধ্যে অন্তত ৪০০ শিশু—অধিকৃত পশ্চিম তীর থেকেই যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এই তথ্য নিশ্চিত করেছে একটি ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংস্থা।
মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে কেউ কেউ বছরের পর বছর পরিবারের মুখ দেখেননি। দুই ধাপে কারাগার ত্যাগের এই প্রক্রিয়ায় প্রথম দফায় ১ হাজার ৯৬৮ জন বন্দিকে রামাল্লার ‘ওফের’ কারাগার থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তারা পরে খানের ইউনিসে পৌঁছান, যেখানে পরিবার ও স্বজনরা অশ্রুসিক্ত চোখে তাদের স্বাগত জানান। দ্বিতীয় দফায় দক্ষিণ ইসরাইলের কারাগার থেকে আরও ১ হাজার ৭১৮ জনকে মুক্তি দেওয়া হয়। এই দলটির মধ্যে ছিলেন ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরাইলি অভিযানের সময় আটক হওয়া অসংখ্য ফিলিস্তিনি।
কিন্তু যুদ্ধবিরতির মধ্যেও শান্তির বার্তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। গাজা সিটির সেজায়া এলাকায় ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, নিহতরা তাদের ‘হলুদ সীমা’ অতিক্রম করেছিল, তাই গুলি চালানো হয়। তবে নিহতদের কাছে কোনো অস্ত্র ছিল কি না, সে বিষয়ে কিছু জানায়নি আইডিএফ।
অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতির সময়ই গাজায় হামাস কর্তৃপক্ষ ইসরাইলকে সহযোগিতা করার অভিযোগে ৩৩ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে। সংগঠনটি জানায়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ প্রমাণিত হয়, এবং তাদের গুলি করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
যুদ্ধের ভয়াবহতা, বন্দিদশার যন্ত্রণা আর প্রতিশোধের এই চক্র যেন এখনো গাজার মানুষের জীবনে থেমে নেই। কেউ ফিরে আসছেন মায়ের কোলেপিঠে, আবার কেউ হারিয়ে যাচ্ছেন আগুনের ধোঁয়ায়—একই মাটিতে, দুই বিপরীত বাস্তবতায়।

