অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার কিছু সময়ের মধ্যেই আফগানিস্তানের কান্দাহার প্রদেশের স্পিন বোলদাক শহরে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তানের বিমান বাহিনী।
তোলো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলায় অন্তত ৪০ জন নিহত এবং আরও ১৭৯ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের সবাই বেসামরিক, যাদের বড় অংশই নারী ও শিশু।
স্পিন বোলদাক আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তবর্তী একটি শহর। শহরের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা করিমুল্লাহ জুবাইর আগা নিশ্চিত করেছেন, হতাহতদের বেশিরভাগই সাধারণ মানুষ। যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই এই হামলা চালানো হয়।
হামলার প্রত্যক্ষদর্শী হাজি বাহরাম বলেন, “আমি এমন অবিচার কখনও দেখিনি। মুসলিম পরিচয়ধারী একটি দেশ নারী, শিশু ও নিরীহ মানুষদের ওপর এমন হামলা চালাবে— এটা অকল্পনীয়।”
বিমান হামলার পাশাপাশি পাকিস্তানি স্থলবাহিনী স্পিন বোলদাকের নোকলি, হাজি হাসান কেলাই, ওয়ার্দাক, কুচিয়ান, শহীদ ও শোরবাক এলাকায় একের পর এক আর্টিলারি গোলা নিক্ষেপ করে। এতে বহু ঘরবাড়ি ও দোকান ধ্বংস হয়েছে, হতাহতও হয়েছে অনেকে।
১১ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সীমান্ত সংঘাতের পর ১৫ অক্টোবর পাকিস্তান ও আফগান সেনাবাহিনী ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতিতে যায়। তবে ১৭ অক্টোবর দুপুরে যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাকিস্তানের এই হামলা সংঘটিত হয়।
আফগানিস্তান-পাকিস্তান উত্তেজনার পেছনে রয়েছে নিষিদ্ধ সংগঠন তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)। পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগান তালেবান সরকার টিটিপিকে আশ্রয় দিচ্ছে, যদিও কাবুল এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
এর আগে ৯ অক্টোবর কাবুলে বিমান হামলা চালিয়ে টিটিপির শীর্ষ নেতা নূর ওয়ালি মেহসুদকে হত্যা করে পাকিস্তান। এরপর থেকেই সীমান্তে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করে।

