ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনায় গাজায় হামাসের অস্ত্র সমর্পণের বিষয় উঠে আসায় তা নিয়ে প্রকাশ্যভাবে দ্বিধা প্রকাশ করেছেন হামাসের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজাল।
গত বুধবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে এক্সক্লুসিভ এক সাক্ষাৎকার দিয়েছেন মোহাম্মদ নাজাল। সেখানে রয়টার্স তাকে হামাসের অস্ত্র সমর্পণের ব্যাপারে প্রশ্ন করেছিল। জবাবে তিনি বলেছেন, “আমি এ প্রশ্নের উত্তর ‘হ্যাঁ’ কিংবা ‘না’-তে দিতে পারব না। এটি (হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ) একটি প্রকল্প এবং সরাসরি বলতে গেলে— হামাসের অস্ত্র সমর্পণের বিষয়টি নির্ভর প্রকল্পের ধরনের ওপর। আপনার যে অস্ত্রসমর্পণ বা নিরস্ত্রীকরণ প্রকল্পের কথা বলছেন, তার অর্থ কী? অস্ত্র গ্রহণ করবে কে? কার কাছে আমরা অস্ত্র সমর্পণ করব?”
নাজাল বলছেন, যুদ্ধবিরতির প্রথম পর্যায়ে এখনও যে ক্রান্তিকালীন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে—সাংঘাত থেমে যাওয়া, ত্রাণ প্রবাহ স্বাভাবিক হওয়া—তার সঙ্গে অপরাধমূলক ঘটনা যেমন চুরি, ডাকাতি ও ত্রাণ লুটপাটও বাড়ছে এবং গাজায় অস্ত্রধারী গ্যাং গঠিত হচ্ছে। এজন্য তিনি জানান, হামাস গাজার নিরাপত্তায় অংশ নেবার আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং অস্ত্রসমর্পণের বিষয়টি যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় পর্যায়ে আলোচনা করা যেতে পারে।
নাজালের ভাষ্য অনুযায়ী, “এখন যুদ্ধবিরতির প্রথম পর্যায় চলছে। এটা একটা ক্রান্তিকালীন অবস্থা। একদিকে গাজায় সাংঘাত থেমেছে, ত্রাণের প্রবেশ স্বাভাবিক হচ্ছে—অন্যদিকে চুরি–ডাকাতি, ত্রাণ লুটপাটের মতো অপরাধ বাড়ছে। অস্ত্রধারী গ্যাং তৈরি হচ্ছে। যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের কথা বলা হয়েছে এবং হামাস সেই সরকারের অংশ হিসেবে গাজার নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে চায়। তাছাড়া শুধু হামাসই নয়, গাজায় আরও সশস্ত্র গোষ্ঠী রয়েছে—তাদেরও অস্ত্রসমর্পণ করা প্রয়োজন।”
গত ২৯ সেপ্টেম্বর ডোনাল্ড ট্রাম্প এই নতুন যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনাটি প্রস্তাব আকারে পেশ করেন; এতে মোট ২০টি পয়েন্ট ছিল এবং পরে ইসরায়েল ও হামাস দুপক্ষই তাতে সম্মতি জানানোর পর ১০ অক্টোবর থেকে গাজায় ওই পরিকল্পনার প্রথম ধাপ হিসেবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে অস্ত্রসমর্পণের আচার-ব্যবহার ও কার্যকর প্রক্রিয়া কী হবে—এই প্রশ্নেই এখন সংকট দেখা দিয়েছে।
রয়টার্স নাজালের সাক্ষাৎকারের প্রতিক্রিয়া জানতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সেখানে বলা হয়, যুদ্ধবিরতির প্রথম পর্যায়ে হামাসকে জীবিত জিম্মি ও মৃত জিম্মিদের মরদেহ হস্তান্তরের দায়িত্ব ছিল—“তারা তা করেনি। হামাস খুব ভালোভাবেই জানত যে জিম্মিরা এবং মৃত জিম্মিদের দেহাবশেষ কোথায় আছে।”
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “বর্তমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় হামাসকে অবশ্যই অস্ত্রসমর্পণ করতে হবে; এখানে কোনো ‘যদি’, ‘কিন্তু’ নেই এবং এটা যত দ্রুত ঘটে, ততই ভালো। হামাস অনর্থক সময় নষ্ট করছে।”
রয়টার্সের প্রশ্নে হোয়াইট হাউসও প্রতিক্রিয়া জানায়—সেখানে বলা হয়, “তারা (হামাস) আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং আমরা আশা করি যে তারা এই প্রতিশ্রুতিকে সম্মান করবে।”
উল্লেখ্য, ট্রাম্পের প্রস্তাব আনার অনেক আগে থেকেই অস্ত্রসমর্পণের বিষয়টি বিভিন্ন আয়োজনে উঠে এসেছে এবং আগেও কয়েকবার হামাসকে অস্ত্রসমর্পণের আহ্বান জানানো হয়েছে; প্রতিবারই গোষ্ঠীটি তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
মোহাম্মদ নাজাল এবার বললেন, অস্ত্রসমর্পণ নিয়ে আলোচনা সম্ভব হলে সেটি হবে যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় পর্যায়ে—কিন্তু “কার কাছে” এবং “কীভাবে” এই প্রশ্নগুলোর স্পষ্ট ও গ্রহণযোগ্য সমাধান নিরূপণ করা প্রয়োজন।

