গাজায় যুদ্ধবিরতির ঘোষণা হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে সেই বিরতি যেন কেবল কাগজেই থেকে গেছে। আলজাজিরা জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ৯৭ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও দুই শতাধিক মানুষ। গাজার সরকারি গণমাধ্যম কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল অন্তত ৮০ বার এই চুক্তি ভঙ্গ করেছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, হামাস প্রথমে যুদ্ধবিরতির শর্ত ভেঙেছে, আর সেই কারণেই তারা ‘পাল্টা’ হামলা চালিয়েছে। তবে হামাস এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, “গাজায় যুদ্ধবিরতি এখনো বহাল রয়েছে, এবং ওয়াশিংটন শান্তি রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে।” কিন্তু গাজার রাস্তায় ছড়িয়ে থাকা ধ্বংসস্তূপ, হাসপাতালের করিডরে শুয়ে থাকা রক্তাক্ত শিশু আর কাঁদতে থাকা মায়েরা যেন অন্য গল্প বলছে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৬৮ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহতের সংখ্যা পেরিয়ে গেছে এক লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি। অন্যদিকে, যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটানো ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলায় ইসরায়েলে নিহত হয় ১ হাজার ১৩৯ জন এবং প্রায় দুই শতাধিক মানুষকে বন্দি করা হয়েছিল।
শনিবার দেইর আল-বালাহর আল-আকসা হাসপাতালে নিহতদের মরদেহ পৌঁছানোর পর শোকের আর্তনাদে ভরে ওঠে চারপাশ। স্বজনদের কান্না, ভাঙা খেলনা হাতে বসে থাকা শিশুরা আর রক্তমাখা কাপড়ে মোড়ানো লাশগুলো—সবকিছু যেন একটাই প্রশ্ন তুলে দেয়,
এই যুদ্ধবিরতি কাদের জন্য? শান্তি কোথায়?

