দুই বছরের যুদ্ধ শেষে গাজা এখন এক ভয়াবহ ধ্বংসস্তূপ। জাতিসংঘের তথ্যে দেখা গেছে, পুরো অঞ্চলজুড়ে জমে আছে ৬ কোটি ১০ লাখ টনের বেশি ধ্বংসাবশেষ। গাজার প্রায় তিন-চতুর্থাংশ ভবন সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদন ও উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণ করে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
১০ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় কার্যকর হয় ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি। এতে হামাস ও ইসরায়েলের ভয়াবহ সংঘাতের অবসান ঘটে এবং গাজা পুনর্গঠনের পথ খুলে যায়। তবে পুনর্গঠনের প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে এই বিপুল ধ্বংসাবশেষ।
২০২৫ সালের ৮ জুলাই পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার ভবন আংশিক বা পুরোপুরি ধ্বংস করেছে। জাতিসংঘের স্যাটেলাইট বিশ্লেষণ সংস্থা ইউএনওস্যাটের তথ্য অনুযায়ী, এটি গাজার মোট স্থাপনার প্রায় ৭৮ শতাংশ। ২২–২৩ সেপ্টেম্বর তোলা গাজা সিটির ছবিতে দেখা গেছে, শহরের প্রায় ৮৩ শতাংশ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের পরিমাণ প্রায় ৬ কোটি ১৫ লাখ টন—যা নিউইয়র্কের এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের ওজনের ১৭০ গুণেরও বেশি। গাজার প্রতি বর্গমিটারে জমে আছে প্রায় ১৬৯ কেজি ধ্বংসাবশেষ।
জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি) জানায়, এই ধ্বংসাবশেষের দুই-তৃতীয়াংশ তৈরি হয়েছে যুদ্ধের প্রথম পাঁচ মাসে। যুদ্ধবিরতির আগে ধ্বংসযজ্ঞ আরও বেড়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে জুলাইয়ের মধ্যে শুধু রাফাহ ও খান ইউনিসের মধ্যবর্তী দক্ষিণাঞ্চলেই তৈরি হয়েছে প্রায় ৮০ লাখ টন ধ্বংসাবশেষ।
২০২৫ সালের আগস্টে প্রকাশিত ইউএনইপির এক প্রাথমিক বিশ্লেষণে বলা হয়, এই ধ্বংসাবশেষ গাজার মানুষের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। সংস্থার মতে, অন্তত ৪৯ লাখ টন ধ্বংসাবশেষে অ্যাসবেস্টসের মতো ক্ষতিকর পদার্থ রয়েছে। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হলো উত্তরাঞ্চলের জাবালিয়া, মধ্যাঞ্চলের নুসেইরাত ও আল-মাঘাজি, এবং দক্ষিণের রাফাহ ও খান ইউনিস—যেখানে ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থীশিবির রয়েছে।
এ ছাড়া প্রায় ২৯ লাখ টন ধ্বংসাবশেষ শিল্পাঞ্চল থেকে আসা বিপজ্জনক বর্জ্যে দূষিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তীব্র ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৮ হাজার ২৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক। এই সংখ্যা হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া, যা জাতিসংঘ নির্ভরযোগ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

