রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে কি না তা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তের ওপর বলে জানায়, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৈঠকের প্রস্তাব দিলেও এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সময় ও স্থান চূড়ান্ত করেনি।
ল্যাভরভ হাঙ্গেরির ইউটিউব চ্যানেল আল্ট্রাহাং-কে সাক্ষাৎকারে বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বুদাপেস্টে বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, প্রেসিডেন্ট পুতিন তা গ্রহণ করেছেন এবং প্রস্তুতির কাজ শুরু করার কথা বলেছিলেন। তবে এখন এই বৈঠক নিয়ন্ত্রণ ওয়াশিংটনের হাতে।”
তিনি আরো উল্লেখ করেন, “আমরা ভদ্র মানুষ। আমন্ত্রণ দিলে আমরা ‘হ্যাঁ’ বলি। কোথায়, কবে এবং কিভাবে বৈঠক হবে, তা ঠিক করা হয়। কিন্তু আমন্ত্রণ পরে স্থগিত করা হয়, যা হোয়াইট হাউসও স্বীকার করেছে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব এখন তাদের, যারা এই প্রক্রিয়া শুরু করেছে।”
ল্যাভরভ জানান, সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে তার ফোনালাপ ফলপ্রসূ হয়েছে। তিনি বলেন, “এই আলাপ এতটাই কার্যকর ছিল যে আপাতত নতুন কোনো বৈঠকের প্রয়োজন মনে করা হয়নি। গত আগস্টে আলাস্কায় ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকের ফলাফলও আলোচনায় এসেছে।”
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ ভূখণ্ড ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়েও কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, “আমাদের একটি বাফার জোন দরকার। ইউক্রেন এখনো রুশ ভূখণ্ডে গোলাবর্ষণ, বোমাবর্ষণ ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। ব্রিয়ানস্ক, বেলগোরদ ও কুরস্কও হামলার শিকার হয়েছে, যেগুলো আগে কখনও বিতর্কের মধ্যে ছিল না।”
ল্যাভরভের মতে, রাশিয়ার লক্ষ্য অপরিবর্তিত — কিয়েভকে অবশ্যই নিরপেক্ষ থাকতে হবে, ন্যাটোয় যোগ না দেওয়া, পারমাণবিক অস্ত্র না রাখা এবং রুশভাষীদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, ইউরোপীয় দেশগুলো যুদ্ধবিরতি বিষয়ে বাড়াবাড়ি করছে এবং যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া সংলাপকে বাধাগ্রস্ত করছে।
ফিনল্যান্ডের ন্যাটো সদস্যপদ প্রসঙ্গেও ল্যাভরভ সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “এটি ভুল সিদ্ধান্ত। এমন পদক্ষেপ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে এবং রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র সংলাপকে আরও জটিল করছে।”

