ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণকারী সশস্ত্র সংগঠন হামাস যতদিন পর্যন্ত নিহত সব ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহ ফেরত না দেবে, ততদিন পর্যন্ত গাজায় যুদ্ধ শেষ হবে না বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলি সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়া’য়াল জামির।
সোমবার রাজধানী জেরুজালেমে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) লেফটেন্যান্ট কমান্ডার পর্যায়ের ইউনিট কমান্ডারদের সম্মেলনে বক্তব্য দেন তিনি।
সেখানে জামির বলেন, “আমাদের যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি। আমরা একটি পবিত্র মিশনে আছি, যার দুটি প্রধান লক্ষ্য— নিহত সব ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহ উদ্ধার এবং হামাসের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখা।”
তিনি আরো যোগ করেন, “আইডিএফ অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যায়। আমাদের নৈতিক ও পেশাগত দায়িত্ব আমরা দৃঢ়তা ও সাহসের সঙ্গে পালন করব।”
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস দক্ষিণ ইসরায়েলে আকস্মিক হামলা চালিয়ে ১ হাজার ২০০ জনকে হত্যা ও প্রায় ২৫০ জনকে জিম্মি করে নিয়ে যায়। এর পরদিন ৮ অক্টোবর গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে আইডিএফ। দুই বছরে এই অভিযানে ৬৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর ২৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজায় যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত একটি ২০ দফা পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। ইসরায়েল ও হামাস পরিকল্পনায় সম্মতি দেওয়ার পর ১০ অক্টোবর থেকে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
পরিকল্পনার প্রথম ধাপে উল্লেখ ছিল, হামাস জীবিত সব ইসরায়েলি জিম্মি এবং নিহত জিম্মিদের মরদেহ বা দেহাবশেষ ফেরত দেবে। সেই অনুযায়ী হামাস তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ২০ জন জীবিত জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে। তবে নিহতদের মরদেহ ফেরত দেওয়া নিয়েই জটিলতা তৈরি হয়েছে।
হামাসের দাবি, ২৮ জন ইসরায়েলি জিম্মি নিহত হয়েছেন এবং তাদের মরদেহ কোথায় আছে তা বর্তমান নেতৃত্ব জানে না, কারণ যেসব সদস্য এ তথ্য জানতেন তারা আইডিএফের অভিযানে নিহত হয়েছেন।
তবে ইসরায়েল এই ব্যাখ্যা মানতে অস্বীকৃতি জানিয়ে হামাসের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে। ইসরায়েলের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত ২৮ মৃত জিম্মির মধ্যে ১৫ জনের মরদেহ ফেরত পেয়েছে, বাকি ১৩ জনের মরদেহ এখনো ফেরত মেলেনি।

