মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নেতৃত্বকে নির্দেশ দিয়েছেন, তিন দশকেরও বেশি সময় পর আবারও পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা শুরু করতে। তার যুক্তি—রাশিয়া ও চীনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রগুলো যে গতিতে নিজেদের অস্ত্রভাণ্ডার উন্নত করছে, সেই প্রতিযোগিতায় আমেরিকাকেও সমানভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে।
বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, “অন্য দেশগুলোর পরীক্ষামূলক কর্মসূচির কারণে আমি প্রতিরক্ষা বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছি আমাদের পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষাও সমানভাবে শুরু করতে।” পোস্টটি তিনি দেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ায় বৈঠকের ঠিক আগে।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এখনো বিশ্বের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার রয়েছে—দ্বিতীয় স্থানে রাশিয়া, আর “অনেক দূরে” তৃতীয় স্থানে চীন। তবে তিনি স্বীকার করেন, ১৯৯২ সালের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র আর কোনো পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা চালায়নি।
এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময় এসেছে, যখন কয়েক দিন আগেই ট্রাম্প প্রকাশ্যে রাশিয়াকে তীব্র সমালোচনা করেছিলেন তাদের একটি পারমাণবিকচালিত ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কারণে—যার পরিসীমা বলা হয় ‘প্রায় সীমাহীন’।
ট্রাম্প তার পোস্টে পারমাণবিক অস্ত্রের “অসাধারণ বিধ্বংসী শক্তি”র কথা স্বীকার করলেও বলেন, তার “কোনো বিকল্প ছিল না”—প্রথম মেয়াদেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার আধুনিকায়ন শুরু করতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি আরও দাবি করেন, চীনের পারমাণবিক কর্মসূচি “আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই” আমেরিকার কাছাকাছি পৌঁছে যাবে।
যদিও ট্রাম্প তার বার্তায় পরীক্ষার ধরণ বা সময়সূচি নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য দেননি, তবে স্পষ্ট করে লিখেছেন—“প্রক্রিয়াটি অবিলম্বে শুরু হচ্ছে।”
এটি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নীতির একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। সর্বশেষ ১৯৯২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা চালায়, যা ছিল “ডিভাইডার” নামে একটি গোপন প্রকল্প। পশ্চিম যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদা মরুভূমির ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় ওই বিস্ফোরণটি হয়েছিল। এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ১,০৫৪তম পারমাণবিক পরীক্ষা—লস আলামোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির তত্ত্বাবধানে, যারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় প্রথম পারমাণবিক বোমা তৈরির প্রকল্পেও মূল ভূমিকা রেখেছিল।
নেভাদা টেস্ট সাইট, যা লাস ভেগাস শহর থেকে প্রায় ১০৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত, এখনও মার্কিন সরকারের অধীনে সক্রিয়ভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশনের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব নিউক্লিয়ার সায়েন্স অ্যান্ড হিস্ট্রি’-র তথ্য অনুযায়ী, প্রয়োজন মনে হলে সেখানে আবারও পারমাণবিক পরীক্ষা চালানোর অনুমতি দেওয়া সম্ভব।
ট্রাম্পের এই ঘোষণা এমন এক সময় এসেছে, যখন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দক্ষিণ কোরিয়ায় অবতরণ করছেন—২০১৯ সালের পর দুই নেতার প্রথম মুখোমুখি বৈঠক। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তখন ‘মেরিন ওয়ান’ হেলিকপ্টারে চড়ে গিমহে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পথে ছিলেন, আর সেই সময়েই তার বার্তাটি বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলে।
তিন দশক পর আবারও যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক পরীক্ষার পথে ফিরছে কিনা—এ নিয়ে এখনই নিশ্চিত কিছু বলা না গেলেও, ট্রাম্পের নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু নীতিতে এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

