মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ সংক্রান্ত মামলা সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছে। সর্বোচ্চ আদালতে মুখোমুখি হচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন, কয়েকটি অঙ্গরাজ্য ও ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এই রায়ের দিকে তাকিয়ে রয়েছে পুরো বিশ্ব।
এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন নিম্ন আদালতের রায় দ্রুত বাতিলের জন্য সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন করেছিল। ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট সতর্ক করেছেন, নিম্ন আদালতের রায় প্রশাসনের ‘উল্লেখযোগ্য দর কষাকষির ক্ষমতা’ কেড়ে নিয়েছে। যদি এই রায় বহাল থাকে, তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রকে আর্থিকভাবে দুর্বল করবে। সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের পক্ষে রায় না দিলে, শুল্ক থেকে অর্জিত বিলিয়ন ডলার ফেরত দিতে হতে পারে।
এর আগে একটি মার্কিন আপিল আদালতের রায় জানিয়েছিল, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে ব্যাপকভাবে শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে তার সীমা অতিক্রম করেছেন। তবে বিচারকরা আপিলের জন্য মধ্য অক্টোবর পর্যন্ত শুল্ক বহাল রাখার অনুমতি দিয়েছেন।
চলতি বছর দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে ট্রাম্প প্রায় সকল বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর পারস্পরিক শুল্ক আরোপ করেছেন। আপিল আদালত জানিয়েছে, জরুরি আইন প্রয়োগ করে শুল্ক আরোপে ট্রাম্প তার ক্ষমতা লঙ্ঘন করেছেন। এই রায়ের ফলে তার অন্যান্য বাণিজ্যিক চুক্তি, যেমন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে করা চুক্তি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
ট্রাম্প এই লড়াইকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, মামলায় হেরে গেলে তা তার বাণিজ্য আলোচনায় হাত-পা বেঁধে দেবে এবং জাতীয় নিরাপত্তাকেও বিপদের মুখে ফেলবে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারকরা শুনানি শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে শুনানিতে যোগ দেবেন না। তিনি বলেছেন, এতে কোনো বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে।

