ভারতের আসাম রাজ্যে দুটি বড় জ্বালানি প্রকল্পে ৬৩০ বিলিয়ন রুপি বা প্রায় ৭.১৭ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে আদানি গ্রুপ। এর মধ্যে রয়েছে উত্তর-পূর্ব ভারতের সবচেয়ে বড় বেসরকারি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং পাম্পড স্টোরেজ (জলবিদ্যুৎ-সঞ্চয়) প্রকল্প। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়বে এবং অন্তত ৩,৫০০ স্থায়ী কর্মসংস্থান তৈরি হবে।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে আদানি গ্রুপ জানিয়েছে, তাদের বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আদানি পাওয়ার প্রায় ৪৮০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়ে ৩.২ গিগাওয়াট (৩,২০০ মেগাওয়াট) ক্ষমতাসম্পন্ন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করবে। প্রকল্পটি ধাপে ধাপে ২০৩০ সালের ডিসেম্বর থেকে চালু হবে। গত মাসে আসাম সরকারের নিলামে ৩.২ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের টেন্ডারে আদানি পাওয়ার সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত হয়।
দীর্ঘ এক দশক ধরে ভারতের নতুন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বেসরকারি বিনিয়োগ স্থবির ছিল। আদানি গ্রুপের এই নতুন উদ্যোগ সেই স্থবিরতা কাটানোর ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে আগস্টে কোম্পানিটি আরো দুইটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল। আদানি পাওয়ারের লক্ষ্য ২০৩২ সালের মধ্যে উৎপাদনক্ষমতা ১৮ গিগাওয়াট থেকে ৪২ গিগাওয়াটে উন্নীত করা।
একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে যুক্ত প্রতিষ্ঠান আদানি গ্রীন এনার্জি আসামে দুটি পাম্পড স্টোরেজ প্রকল্পে প্রায় ১৫০ বিলিয়ন রুপি বিনিয়োগ করবে। দুটি প্রকল্পের মোট ক্ষমতা ২,৭০০ মেগাওয়াট, যার মধ্যে ৫০০ মেগাওয়াট সম্প্রতি একটি টেন্ডারে পেয়েছে। বর্তমানে কোম্পানিটির নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনক্ষমতা ১৬.৭ গিগাওয়াট, যা ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০ গিগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।
চলতি বছর আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানি উত্তর-পূর্ব ভারতে ৫০০ বিলিয়ন রুপি বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। নতুন ঘোষণাটি সেই অঙ্গীকারের অংশ। এছাড়া আগামী এক দশকে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ রাজ্যে বিভিন্ন খাতে ১ ট্রিলিয়ন রুপি বিনিয়োগের পরিকল্পনাও করেছে গ্রুপটি।

