চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যেখানে তিনি আগামী বছরের এপ্রিল মাসে বেইজিং সফরে যেতে সম্মতি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে শি জিনপিংকেও ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ট্রাম্প। দুই নেতার আলোচনায় বাণিজ্য থেকে শুরু করে ইউক্রেন যুদ্ধ, ফেন্টানিল সংকট ও তাইওয়ান ইস্যুসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় এক মাস আগে দক্ষিণ কোরিয়ায় বৈঠকের পর দুই নেতার মধ্যে এটি ছিল সর্বশেষ যোগাযোগ। বৈঠকের মতোই এই ফোনালাপেও বাণিজ্য ইস্যু ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ লিখেছেন, “চীনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত দৃঢ়!”
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দুই দেশ সমতা, সম্মান ও পারস্পরিক লাভের ভিত্তিতে ইতিবাচক অগ্রগতির গতি বজায় রাখতে সম্মত হয়েছে। বুসানে গত অক্টোবরে দুই নেতার বৈঠকে শুল্ক নিয়ে এক ধরনের ‘যুদ্ধবিরতি’ হয়, যার পর যুক্তরাষ্ট্র ফেন্টানিলের প্রবাহ কমাতে আরোপিত অতিরিক্ত ২০ শতাংশ শুল্ক অর্ধেকে নামায়। যদিও মোট শুল্ক এখনো গড়ে প্রায় ৫০ শতাংশের কাছাকাছি রয়েছে।
চীনা বিবৃতিতে আরো বলা হয়, সেই বৈঠকের পর চীন–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক সাধারণভাবে স্থিতিশীল ও ইতিবাচক পথে এগোচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে চীনা পণ্যে অতিরিক্ত ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি প্রত্যাহার করেছে। পাল্টা হিসেবে চীন বিরল ধাতু রপ্তানির নতুন নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিয়েছে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানান, সোমবারের ফোনালাপ প্রায় এক ঘণ্টা স্থায়ী হয় এবং আলোচনার মূল কেন্দ্র ছিল বাণিজ্য। তিনি বলেন, “চীনের পক্ষ থেকে আমরা যা দেখছি, তাতে আমরা সন্তুষ্ট এবং তারাও একই বিষয় অনুভব করছে।”
তবে আলোচনায় শুধুমাত্র বাণিজ্য নয়, বরং রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও তাইওয়ান ইস্যুও উঠে আসে। প্রেসিডেন্ট জিনপিং ট্রাম্পকে জানান, তাইওয়ানের “চীনে প্রত্যাবর্তন” যুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় চীনের ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত।
এই ইস্যুকে ঘিরে চীন–জাপান সম্পর্কেও উত্তেজনা রয়েছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সম্প্রতি বলেন, তাইওয়ানে চীনের কোনো হামলা হলে জাপান সামরিক প্রতিক্রিয়ায় যেতে বাধ্য হতে পারে। জাপান যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হওয়ায় এই অবস্থানকে ওয়াশিংটনও গুরুত্ব দিচ্ছে।
তবে ফোনালাপ নিয়ে ট্রাম্প তার পোস্টে তাইওয়ান প্রসঙ্গে কিছু উল্লেখ করেননি।

