বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরবের পরিস্থিতি প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য নাজুক অবস্থায় রয়েছে। ‘ফ্রি ভিসা’ নামে হাজার হাজার শ্রমিক চার–পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে দেশটিতে গেছেন। কিন্তু সেখানে তাদের কপালে জুটছে পদে পদে ভোগান্তি। অনেকেই শুধু অল্প বেতন পাচ্ছেন, যা দিয়ে মৌলিক জীবনের খরচও চালানো কঠিন। এই পরিস্থিতিতে অনেকে বাধ্য হয়ে দেশে ফিরে আসছেন।
প্রবাসীরা জানাচ্ছেন, যারা সৌদি আরবে যেতে চান, তারা অবশ্যই ভিসার (আকামা) মেয়াদ, যে কোম্পানিতে কাজ করবে সেই কোম্পানির প্রকৃত কর্মসংস্থান, বেতনসহ সকল সুবিধা যাচাই করে তারপর সিদ্ধান্ত নেবে। এছাড়া সৌদি আরবের অনেক কোম্পানি ভিসার মেয়াদ, বেতন, কাজ ও থাকা–খাওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নয়। ফলে শ্রমিকরা প্রথম কয়েক মাস ভোগান্তিতে দিন কাটাচ্ছেন। সূত্র: নয়া দিগন্ত
জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদেশগামী শ্রমিকদের জন্য এখন কঠোর নিয়ন্ত্রণ রাখা হচ্ছে। তারা নিশ্চিত করছেন যে, কর্মীদের প্রশিক্ষণ, ভিসা, নিয়োগপত্র এবং দূতাবাসের সত্যায়ন সম্পন্ন হওয়ার পরই ছাড়পত্র ইস্যু করা হচ্ছে। তবে কিছু অসাধু রিক্রুটিং এজেন্সি ও তাদের সহযোগী কর্মকর্তাদের কারণে সৌদি আরবের শ্রমবাজার এখনও অস্থির।
জেদ্দায় এক প্রবাসী বলেন, “ফ্রি ভিসা নিয়ে এসে আমি প্রতারিত হয়েছি। পাঁচ মাস আগে ঢাকার মাধ্যমে সৌদি এসেছি, তিন মাসের আকামা দেওয়া হয়েছে। কাজ করছি, কিন্তু বেতন তিন মাস পর এক মাসের দেওয়া হচ্ছে। থাকার ও খাবারের খরচ নিজের। সংসার চালাতে যা লাগে, তা পাঠানোও মুশকিল।” তিনি আরো বলেন, “এখানে বন্ধু বা আত্মীয় নেই। সবকিছু নিজের দায়িত্বে। শেষ পর্যন্ত জরুরি খরচের জন্য ৫০০ রিয়াল রেখে বাকি দিয়ে দিয়েছি।”
বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর বৈধভাবে বিদেশে যাওয়া শ্রমিকদের প্রায় অর্ধেক সৌদি আরাবে যাচ্ছেন। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো জানিয়েছে, সৌদি আরবে কর্মরত শ্রমিক ও তাদের পরিবার থেকে লিখিত অভিযোগগুলো পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে বিদেশগামীদের ছাড়পত্র প্রদানে কঠোর অবস্থান নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে দেশ থেকে বিদেশগামী শ্রমিকের সংখ্যা কিছুটা কমলেও প্রতারণার ঝুঁকি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
তবে যারা ছোট মেয়াদের ভিসা নিয়ে যাচ্ছেন, তাদের ঝুঁকি এখনও বেশি। অন্যদিকে বৈধ নিয়োগপত্র ও বেতন নিশ্চিত শ্রমিকরা তুলনামূলকভাবে নিরাপদভাবে কাজ করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য জনশক্তি ব্যুরো সতর্ক থাকলেও কিছু অসাধু এজেন্সির কারণে প্রবাসীদের সমস্যা চলছেই।

