যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল পাকিস্তানে পৌঁছানোর আগেই ইসলামাবাদ সফর শেষ করে দেশ ত্যাগ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। ২৫ এপ্রিল ২০২৬, শনিবার দিনভর উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে তিনি তেহরানের উদ্দেশে রওনা হন।
সফরকালে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, সেনাপ্রধান ও ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরসহ দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকগুলোতে আঞ্চলিক পরিস্থিতি, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৈঠক শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় শাহবাজ শরিফ আলোচনাকে “উষ্ণ ও ফলপ্রসূ” হিসেবে উল্লেখ করেন। একইভাবে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার জানান, দুই দেশের মধ্যে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সংলাপ ও কূটনীতির গুরুত্বের ওপর বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়েছে।
এর আগে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু ছবিতে দেখা যায়, একটি মোটর শোভাযাত্রার মাধ্যমে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাজধানী ত্যাগ করছেন। এতে স্পষ্ট হয়, তার সফর নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ হয়েছে।
এদিকে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল একই দিনে পাকিস্তানে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ওই দলে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা জ্যারেড কুশনার।
তবে তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, এই সফর ছিল একটি আঞ্চলিক ত্রিদেশীয় সফরের অংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা ছিল না।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের আগমনের আগেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর শেষ করা কূটনৈতিকভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করতে পারে। এটি হয়তো সরাসরি আলোচনার পরিবর্তে নিজস্ব কৌশলগত অবস্থান বজায় রাখার ইঙ্গিত দেয়।
সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে এই সফর ও তার সময়সূচি কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, পরবর্তী পর্যায়ে আলোচনার গতি কোন দিকে এগোয়।

