ইরানে চলমান বিক্ষোভের গত ১০ দিনে বিক্ষোভকারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘাতে নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩৬ জন এবং আহত হয়েছেন আরো প্রায় ৬০ জন। নিহতদের মধ্যে চারজনের বয়স ১৮ বছরের নিচে বলে জানা গেছে। সূত্র: বিবিসি
একই সময়ে সংঘাত ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে দুই হাজার ৭৬ জনকে। ইরানভিত্তিক বিদেশি মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (হারানা) মঙ্গলবার তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানায়। তবে ইরান সরকার এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো দাপ্তরিক তথ্য প্রকাশ করেনি।
হারানার প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২৭টিতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এসব প্রদেশের ৯২টি শহরের ২৮৫টি স্থানে বিক্ষোভকারীরা অবস্থান নিয়েছেন। বিক্ষোভের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘাত এবং বিভিন্ন স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাও ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানি মুদ্রা রিয়েলের ধারাবাহিক অবমূল্যায়ন, তাতে সৃষ্ট মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরের দোকানমালিকরা গত ২৮ ডিসেম্বর ধর্মঘট ও বিক্ষোভের ডাক দেন। পরদিন ২৯ ডিসেম্বরও ব্যবসায়ীদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকে এবং তাদের সঙ্গে যোগ দেন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
এর মধ্যে গত ২ জানুয়ারি শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিক্ষোভের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সতর্ক করেন যে বিক্ষোভ দমনে যদি কঠোর পন্থা অবলম্বন করা হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র যে কোনো সময় সামরিক অভিযান চালাতে পারে। এই মন্তব্যের পর ইরান সরকার কিছুটা সতর্ক অবস্থান নেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বিক্ষোভকারীদের শান্ত থাকতে আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশ শত্রুদের কাছে নতিস্বীকার করবে না। অন্যদিকে বিচারমন্ত্রী গোলামহোসেইন মোহসেনি ৫ জানুয়ারি সোমবার এক বিবৃতিতে বিক্ষোভকারীদের ‘দাঙ্গাবাজ’ উল্লেখ করে নাগরিকদের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানান।

