ইথিওপিয়ার আফার প্রদেশে একটি কার্গো ট্রাক উল্টে গেলে ২২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরো ৬৫ জন। নিহত ও আহত সবাই ইথিওপিয়ার নাগরিক। গতকাল মঙ্গলবার উত্তরাঞ্চলীয় আফার প্রদেশের সিমেরা শহরের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে আফার পুলিশ।
পুলিশ জানায়, এসব নাগরিক চোরাই পথে অবৈধভাবে প্রতিবেশী দেশ জিবুতির উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। যে এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে সেটি জিবুতির সীমান্ত থেকে কয়েক শত কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তায় আফার পুলিশের জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, ট্রাকটিতে শতাধিক লোক ছিলেন এবং স্থানীয় মানবপাচার দালালদের প্রলোভনে তারা এই যাত্রায় নামেন। ভ্রমণপথের ঝুঁকি সম্পর্কে তাদের পূর্ব ধারণা ছিল না।
দুর্ঘটনার পরপরই আফার আঞ্চলিক সরকারের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী উদ্ধার অভিযান শুরু করে। আহতদের নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে প্রাদেশিক সরকার। একই সঙ্গে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে।
পূর্ব আফ্রিকার সোমালিয়া, ইথিওপিয়া, ইরিত্রিয়া এবং জিবুতিকে সম্মিলিতভাবে ‘হর্ন অব আফ্রিকা’ বলা হয়। এদের মধ্যে ইথিওপিয়া ও ইরিত্রিয়া স্থলবেষ্টিত দেশ হলেও সোমালিয়া ও জিবুতি নয়। জিবুতির লোহিত সাগরের উপকূল থেকে সাগরপথে ইয়েমেন বা সৌদি আরবে পৌঁছানো সম্ভব হওয়ায় এই পথকে অনেক অভিবাসনপ্রত্যাশীর লক্ষ্য পূরণের একটি ধাপ হিসেবে দেখা হয়।
ইথিওপিয়ার বহু অভিবাসনপ্রত্যাশীর লক্ষ্য মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো। এই লক্ষ্য পূরণে তারা প্রথমে জিবুতিতে যান, সেখান থেকে লোহিত সাগর পাড়ি দিয়ে ইয়েমেনে পৌঁছান এবং এরপর সেখান থেকে সৌদি আরবসহ অন্যান্য উপসাগরীয় দেশের উদ্দেশে যাত্রা করেন।
তবে ইথিওপীয়দের জিবুতি পৌঁছানোর জন্য মানবপাচারকারীদের ব্যবহৃত রুটটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশনের (আইওএম) তথ্যে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই রুটে ৮৯০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। সংস্থাটি এই পথকে বিশ্বের সবচেয়ে বিপদসঙ্কুল অভিবাসন রুটগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেছে।
তবুও ঝুঁকি কমছে না। কারণ আইওএমের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে এ পথই বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত অভিবাসন রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

