ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনকে ঘিরে পরিস্থিতি ক্রমেই আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কড়া ভাষায় সতর্ক করে বলেছেন, ইরান এখন একটি ‘বড় বিপদের’ মধ্যে রয়েছে।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানান, ইরানি কর্তৃপক্ষ যদি বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র নীরব দর্শক হয়ে বসে থাকবে না। তার ভাষায়, প্রয়োজনে সরাসরি সামরিক হামলার নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় থাকবে।
ইরানের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের দখল বাড়ছে—এমন ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ার পরই ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। তিনি ইরানি কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে বলেন,
‘গুলি না চালালেই ভালো করবে। কারণ তোমরা গুলি চালালে আমরাও গুলি চালানো শুরু করব।’
ইরানে গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই অস্থিরতায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৬২ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ)। নিহতদের মধ্যে ৪৮ জন বিক্ষোভকারী এবং ১৪ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন।
বিক্ষোভের বিস্তার ঠেকাতে দেশটির কর্তৃপক্ষ একাধিক এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। আল-জাজিরা জানায়, তেহরানের অনেক বাসিন্দা পুলিশের কাছ থেকে সতর্কবার্তা পেয়েছেন—সহিংসতা কবলিত এলাকা এড়িয়ে চলার জন্য। অন্যদিকে আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, আন্দোলন দমনে পুলিশ আরও কঠোর ও সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত হচ্ছে।
এর মধ্যেই গতকাল সকালে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এই বিক্ষোভকে বিদেশি শক্তির, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সাজানো চক্রান্ত’ বলে আখ্যা দেন। তিনি দেশবাসীকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের’ বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দাঙ্গাকারীরা সরকারি স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে। খামেনি সরাসরি অভিযোগ করেন, ট্রাম্পের হাত ইরানিদের ‘রক্তে রঞ্জিত’, এবং তেহরান বিদেশিদের হয়ে কাজ করা ‘ভাড়াটে সৈন্যদের’ কোনোভাবেই সহ্য করবে না।
অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান তুলনামূলকভাবে নমনীয় অবস্থান নিয়ে জনগণের ‘প্রকৃত অভিযোগ’ শোনার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে একই সঙ্গে দেশটির কট্টরপন্থী নেতারা আন্দোলনকারীদের প্রতি কোনো সহানুভূতি না দেখানোর অবস্থানে অনড় রয়েছেন।
মাঠের পরিস্থিতিও ক্রমেই আরও সংঘাতময় হয়ে উঠছে। মানবাধিকার সংগঠন হেঙ্গা জানিয়েছে, বেলুচ সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জাহেদান শহরে জুমার নামাজের পর বের হওয়া একটি বিক্ষোভ মিছিলে গুলি চালানো হয়েছে, এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প বলেন, বিক্ষোভকারীরা এখন এমন সব এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছেন, যা কয়েক সপ্তাহ আগেও অকল্পনীয় ছিল। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বিক্ষোভকারীদের সম্ভাব্য সহায়তার ইঙ্গিত দেওয়ায় ইরানজুড়ে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেন, ইরানি বিক্ষোভকারীরা যেন নিরাপদ থাকেন। তবে একই সঙ্গে তিনি ইরানকে এই মুহূর্তে বিশ্বের ‘সবচেয়ে বিপজ্জনক জায়গা’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

