ইরানে চলমান বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪৫ জনে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। একই সময়ে সংস্থাটি দাবি করেছে, দেশজুড়ে ১০ হাজার ৭২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়েছিল গত ২৮ ডিসেম্বর। শুরুতে তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারের ব্যবসায়ীরা জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও ইরানি রিয়ালের রেকর্ড দরপতনের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছিলেন। অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই আন্দোলনটি সহিংস হয়ে ওঠে।
ইরানের নিরাপত্তাবাহিনী বিক্ষোভ দমন করতে ব্যস্ত থাকলেও- গত বৃহস্পতিবার দেশের হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। শুক্রবারও বিক্ষোভকারীরা রাজপথের দখল নেন। নিরাপত্তাবাহিনী ওই দুই দিনে সবচেয়ে বেশি গুলি ছোড়ায় শত শত মানুষ আহত ও নিহত হন। সরকারি সূত্র বলেছে, নিরাপত্তাবাহিনীর শতাধিক সদস্যও নিহত হয়েছেন, যদিও বিক্ষোভকারীদের হতাহতের সংখ্যা সংস্থা থেকে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
ইরান অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে উস্কানি দিয়েছে, যা সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। দেশটির কর্মকর্তারা বিক্ষোভকারীদের ‘সশস্ত্র দাঙ্গাবাজ’ হিসেবে উল্লেখ করে জানিয়েছে, তারা বিভিন্ন সরকারি অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে।
অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভ চলাকালীন সময়ে হুমকি দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীরা হত্যার শিকার হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হস্তক্ষেপের কথা ভাবছে। তবে কোথায় বা কীভাবে তারা হস্তক্ষেপ করবে, তা তিনি স্পষ্ট করেননি।
এদিকে, দেশজুড়ে ১৬ দিন ধরে চলা আন্দোলনের কারণে ইরান ১০০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন রেখেছে।

