যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন পশ্চিমা দেশ যখন অভিবাসীবিরোধী নীতি ও পদক্ষেপ জোরদার করছে, তখন ইউরোপের দেশ স্পেন নিচ্ছে ভিন্ন ও অভিবাসীবান্ধব উদ্যোগ। স্পেনে বসবাসরত অবৈধ অভিবাসীদের বৈধ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে দেশটির সরকার। এই উদ্যোগের ফলে অন্তত পাঁচ লাখ অবৈধ অভিবাসী উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সূত্র: বিবিসি
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, যেসব বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার তথ্য নেই, তারাই এই সুযোগ পাবেন। এজন্য আবেদনকারীদের প্রমাণ করতে হবে যে তারা গত বছরের ৩১ ডিসেম্বরের আগে অন্তত পাঁচ মাস ধরে স্পেনে অবস্থান করছেন।
স্পেনের সামাজিক নিরাপত্তা ও অভিবাসনবিষয়কমন্ত্রী এলমা সাইজ এই উদ্যোগকে ঐতিহাসিক উল্লেখ করে বলেন, এটি দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। বৈধকরণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে এক বছরের জন্য স্পেনে বসবাসের অনুমতি দেওয়া হবে। পরবর্তীতে এই মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগও রাখা হয়েছে।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী এপ্রিল মাস থেকে অবৈধ অভিবাসীরা বৈধ হওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। এই আবেদন প্রক্রিয়া চলবে আগামী জুন মাস পর্যন্ত।
এলমা সাইজ আরো বলেন, স্পেন মানবাধিকার, সামাজিক সমন্বয় ও সহাবস্থানের ওপর ভিত্তি করে একটি অভিবাসন মডেল অনুসরণ করছে, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক সংহতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিপুলসংখ্যক অভিবাসী স্পেনে প্রবেশ করেছেন, যাদের বড় একটি অংশ লাতিন আমেরিকা থেকে এসেছে। চিন্তক প্রতিষ্ঠান ফাঙ্কাসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৭ সালে স্পেনে নথিপত্রহীন অভিবাসীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৭ হাজার ৪০৯ জন। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা প্রায় আট গুণ বেড়ে ৮ লাখ ৩৭ হাজার ৯৩৮ জনে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমানে স্পেনে বসবাসরত অবৈধ অভিবাসীদের বড় অংশই কলম্বিয়া, পেরু ও হন্ডুরাস থেকে এসেছেন। স্পেনের সোশ্যালিস্ট নেতৃত্বাধীন জোট সরকার অভিবাসন নীতিতে ইউরোপের অন্যান্য বড় দেশের তুলনায় ভিন্ন পথ অনুসরণ করছে। অর্থনীতিতে অভিবাসীদের অবদান বিবেচনায় রেখে এই নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য উন্নত অর্থনীতির দেশের তুলনায় স্পেনের অর্থনৈতিক অবস্থান তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী হয়েছে। ২০২৫ সালে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রায় ৩ শতাংশ হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে স্পেনের অর্থনীতির একটি দুর্বল দিক ছিল উচ্চ বেকারত্ব। তবে গত মঙ্গলবার প্রকাশিত তথ্যানুসারে, ২০০৮ সালের পর এই প্রথম দেশটিতে বেকারত্বের হার ১০ শতাংশের নিচে নেমেছে।

