ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার উপকণ্ঠ নাজিরাবাদে দুটি গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর এখন পর্যন্ত ২১টি দেহাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো দেহ শনাক্ত করতে পারেনি।
নাজিরাবাদে দু’টি গুদাম ছিল—একটি ডেকরেটরসের এবং অন্যটি একটি মোমো ও কোমল পানীয় তৈরির কারখানা।
গত রোববার গভীর রাতে এই দুটি গুদামে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, ডেকরেটরসের গুদামে কর্মীরা পিকনিক করছিলেন, আর মোমো কারখানায় কর্মীরা কাজ করছিলেন। গুদামগুলোতে প্রচুর দাহ্য পদার্থ ছিল।
মোমো কারখানার কর্তৃপক্ষ অগ্নিকাণ্ডের দায় অস্বীকার করেছে এবং দাবি করেছে, আগুন পাশের গুদাম থেকে ছড়িয়েছে।
বারুইপুরের পুলিশ সুপার শুভেন্দ্র কুমার জানিয়েছেন, দুই দিনের ব্যবধানে ২১টি দেহাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত দেহাংশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে ২৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
মঙ্গলবার একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি (সিট) গঠন করা হয়েছে, যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন পুলিশ সুপার শুভেন্দ্র কুমার ও অতিরিক্ত এসপি সৌম্যজিৎ বড়ুয়া। নিখোঁজদের পরিবারকে রক্তের নমুনা দিতে বলা হয়েছে, যাতে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে দেহাংশ শনাক্ত করা যায়। ইতিমধ্যে ২৭ জনের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
মোমো প্রস্তুতকারী সংস্থা ‘ওঁয়াও মোমো’ নিহত তিনজনের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের পর গুদামের মালিক গঙ্গাধর দাস পালিয়ে যান। মঙ্গলবার গভীর রাতে তাকে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ গ্রেপ্তার করে। ধৃত মালিক দাবি করেছেন, অগ্নিকাণ্ড শুরু হয় মোমো কারখানার গুদাম থেকে।
ফরেনসিক দল ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। গঙ্গাধর দাসের বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরিতে এবং তিনি ৪০ বছর ধরে ডেকোরেটরস ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।
রাজ্য পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গুদামে কাজ করছিলেন রাজ্যের অন্যান্য জেলার শ্রমিকরাও। ২১টি উদ্ধারকৃত দেহাংশ পুরোপুরি পুড়ে ছারখার, তাই ডিএনএ ছাড়া শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব।
দূর্ঘটনায় অব্যবস্থাপনা ও অগ্নিনির্বাপণের শৃঙ্খলা না থাকার অভিযোগে পুলিশ এবং দমকল কর্তৃপক্ষ পৃথকভাবে মামলা দায়ের করেছে।
রাজ্য সরকার নিহত পরিবারকে প্রতি জন ১০ লাখ রুপি করে আর্থিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা করেছে।
সূত্র: প্রথম আলো

