ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যদি সরাসরি সামরিক অভিযান চালায়, সে ক্ষেত্রে ব্রিটেন তাতে অংশ নেবে না—এমন ইঙ্গিতই দিয়েছে লন্ডন। তবে তেহরান যদি পাল্টা হামলা চালায় এবং মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মিত্র দেশগুলো ঝুঁকির মুখে পড়ে, তাহলে তাদের সুরক্ষায় ব্রিটিশ বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সম্ভাব্য উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কাতারে ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) একাধিক ‘টাইফুন’ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইরানের সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হামলা মোকাবিলার একটি স্পষ্ট বার্তা।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা সূত্র বলছে, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রথম আঘাত’ আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে যুক্তরাজ্যের অবস্থানের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে এমন অভিযানে সরাসরি যুক্ত হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। তবে কাতার বা অন্যান্য আঞ্চলিক মিত্র দেশ আত্মরক্ষার প্রয়োজনে সহায়তা চাইলে, তখন ব্রিটেন পাশে দাঁড়াতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে লিংকনশায়ার থেকে আরএএফ-এর ১২ নম্বর স্কোয়াড্রন কাতারে স্থানান্তর করা হয়েছে। মূলত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কা থেকেই এই মোতায়েন, যা কাতারের অনুরোধেই করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, কাতারেই অবস্থিত মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় মার্কিন বিমানঘাঁটি আল-উদাইদ, যেখানে ব্রিটিশ সেনারাও দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছিল—ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন যদি দেশটির অভ্যন্তরীণ অস্থিরতায় সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করে, তবে অঞ্চলে থাকা মার্কিন ও মিত্র বাহিনীর ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
এদিকে চীন সফররত অবস্থায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই ইস্যুতে সরাসরি মন্তব্য এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে—এটাই তার সরকারের প্রধান লক্ষ্য। তার ভাষায়, “এই বিষয়ে আমাদের সব মিত্র একমত।”
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করে সম্ভাব্য সব সামরিক বিকল্প খোলা রাখছে। অতীতে, ২০২৪ সালের এপ্রিল ও অক্টোবরে ইসরায়েলের ওপর ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় ব্রিটেন আত্মরক্ষামূলক অভিযানে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিল।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টাইফুন যুদ্ধবিমান ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে কার্যকর হলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় এগুলো সীমিত। সে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্যাট্রিয়ট’ বা ‘থাড’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপরই নির্ভর করতে হয়।
বর্তমানে জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান মোতায়েন রয়েছে, যাদের প্রধান দায়িত্ব জর্ডান, ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলের আকাশসীমা নিরাপদ রাখা।

