যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাজ্যকে সতর্ক করেছেন চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়ে। শুক্রবার কেনেডি সেন্টারে ‘মেলানিয়া’ চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ারের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এমন মন্তব্য করেন। এই ঘটনাটি পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনার নতুন ইঙ্গিত তৈরি করেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর প্রকাশ করেছে।
ট্রাম্প বলেছেন, চীনের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্যিক সম্পর্ক তাদের জন্য “খুবই বিপজ্জনক” হতে পারে। তবে তিনি বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি।
একই সময়ে, চীনে সফররত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার দুই দেশের সম্পর্ক নতুনভাবে ‘রিসেট’ করার সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সুফল তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক নতুনভাবে গড়ে তোলা যুক্তরাজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
স্টারমার আরও জানিয়েছেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শির সঙ্গে তার বৈঠক খুবই আন্তরিক ছিল এবং এতে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়েছে। বিশেষ করে ভিসামুক্ত ভ্রমণ সুবিধা এবং হুইস্কির ওপর শুল্ক কমানোকে তিনি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির উদাহরণ হিসেবে দেখিয়েছেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাজ্যকে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে কোন একটিকে বেছে নিতে হবে, এমন নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশের প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, গোয়েন্দা ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে তিনি অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে উল্লেখ করেছেন।
সম্প্রতি ট্রাম্প কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন। এমন হুমকি ব্রিটেনের ক্ষেত্রে আসতে পারে কি না—এ প্রশ্নে মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক মন্তব্য করেছেন, ব্রিটেন এমন অবস্থানে নেই যে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতে জড়াতে হবে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের অনিশ্চিত নীতির মধ্যেও ইউরোপের নেতারা চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে আগ্রহী। ফ্রান্স ও জার্মানির নেতারা সম্প্রতি চীন সফর করেছেন বা সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এই পরিস্থিতি ইউরোপের রাজনৈতিক এবং বাণিজ্যিক নেতাদের চীনের সঙ্গে নতুন ধরনের সংযোগ স্থাপনের দিকেই ধাবিত করছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ককে রক্ষা করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

