প্রিয় ঘোড়া ফ্যাবলের পিঠে চেপে অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব প্রান্ত থেকে পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার ৪০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছেন মার্কিন অশ্বারোহী জিন জ্যাগোলা। সূত্র: এবিসি নিউজ
গত বছরের ২০ মে অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের দক্ষিণ উপকূলীয় শহর ট্যাথরা থেকে যাত্রা শুরু করেন ২৫ বছর বয়সী জ্যাগোলা। এরপর তিনি ভিক্টোরিয়া ও সাউথ অস্ট্রেলিয়া রাজ্যের উপকূল ধরে নুলারবোর সমভূমি অতিক্রম করে পশ্চিম দিকে এগিয়ে যান এবং ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া রাজ্যের পার্থে পৌঁছান। পার্থ শহর থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দক্ষিণে বুসেলটনের ফরেস্ট বিচে তাঁদের যাত্রার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।
জ্যাগোলার সঙ্গী ফ্যাবল কোনো প্রশিক্ষিত ঘোড়া নয়। এটি একটি ব্রাম্বি বা বুনো ঘোড়া, যা অস্ট্রেলিয়ার প্রাকৃতিক পরিবেশে ঘুরে বেড়ানো ঘোড়াগোষ্ঠীর অংশ। স্থানীয়ভাবে এসব ঘোড়াকে ‘ওয়াইল্ড হর্স অব অস্ট্রেলিয়া’ নামে ডাকা হয়।
অস্ট্রেলিয়ার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সাধারণত মানুষ গাড়ি ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু জ্যাগোলা সেই প্রচলিত পথ না বেছে নিয়েছেন বুনো ঘোড়ার পিঠে দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা।
জ্যাগোলা জানান, তিনি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে আট মাস ধরে এই পথ পাড়ি দিয়েছেন। তাঁর ঘোড়া দিনে সর্বোচ্চ ৩২ কিলোমিটার পর্যন্ত পথ অতিক্রম করেছে। এই গতিতে আট মাসে মোট প্রায় ৪ হাজার ৪০০ কিলোমিটার বা ২ হাজার ৭০০ মাইল পথ অতিক্রম করেন তিনি।
এই তরুণী বলেন, তিনি সব সময় ফ্যাবলের সুস্থতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। প্রতি এক ঘণ্টা ঘোড়া চালানোর পর ১০ মিনিট করে বিরতি নেওয়া হতো। এ ছাড়া প্রতিদিনের যাত্রার প্রায় এক–চতুর্থাংশ সময় তিনি নিজে হেঁটে চলেছেন, যাতে ফ্যাবলের পিঠ কিছুটা বিশ্রাম পায়।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার বাসিন্দা জিন জ্যাগোলা এর আগেও নিজ দেশে ঘোড়ার পিঠে চড়ে দীর্ঘ পথ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন। তবে অস্ট্রেলিয়ায় বুনো ব্রাম্বি ঘোড়া সম্পর্কে জানার পর তাঁর মধ্যে নতুন ধরনের অনুপ্রেরণা তৈরি হয়।
জ্যাগোলা বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় এসে একটি ব্রাম্বিকে একেবারে শুরু থেকে নিজ হাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে সেটির পিঠে চেপে পুরো মহাদেশ অতিক্রম করার ভাবনাই তাঁকে এই যাত্রায় নামতে উৎসাহিত করেছে।
ফ্যাবল ছিল কোসচিউসকো ন্যাশনাল পার্কের একটি বুনো ব্রাম্বি। ভিক্টোরিয়ান ব্রাম্বি অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে ঘোড়াটিকে দত্তক নেন জ্যাগোলা। তিনি জানান, প্রথমবার ফ্যাবলকে দেখার সময় সেটিকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার চেষ্টা চলছিল, তবে আচরণে তখনো সেটি পুরোপুরি বুনো ঘোড়ার মতোই ছিল।
যাত্রা শুরুর আগে ছয় থেকে আট মাস ধরে পরিকল্পনা করেন জ্যাগোলা। এরপর তিন মাস ধরে ফ্যাবলকে প্রশিক্ষণ দেন। তিনি বলেন, যাত্রার শুরুতে নিজেকে তিনি বলেছিলেন, সবকিছু হয় সফলভাবে হবে, নয়তো পুরোপুরি ব্যর্থ হয়ে তাঁরা ফিরে যাবেন।
এই দীর্ঘ যাত্রার পথে জ্যাগোলা অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে দীর্ঘ সরল সড়ক নুলারবোর সমভূমি অতিক্রম করেন, যার দৈর্ঘ্য প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার।
প্রতিদিন রাতে তিনি তাঁর ঘোড়ার পাশেই ঘুমিয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে ছিল একটি তাঁবু ও স্যাডল ম্যাট। শুরুতে অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কে, বিশেষ করে নুলারবোর অঞ্চল নিয়ে তাঁর খুব বেশি ধারণা ছিল না। তবু শেষ পর্যন্ত তিনি সফলভাবে পুরো সফর সম্পন্ন করতে সক্ষম হন।
জ্যাগোলা বলেন, তিনি এখন সত্যিই বুনো ঘোড়ার প্রেমে পড়ে গেছেন।
এই অভিযান শেষ করার পর চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি জিন জ্যাগোলা তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ‘জিন অ্যান্ড ফ্যাবল’-এ একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লেখেন, অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূল থেকে পশ্চিম উপকূল পর্যন্ত ৪ হাজার ৪০০ কিলোমিটার পথ তিনি একটি ঘোড়ার সঙ্গে পাড়ি দিয়েছেন এবং এটি করার প্রথম ব্যক্তি তিনি। পোস্টে তিনি তাঁর ‘সাহসী সঙ্গী’ ফ্যাবলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

