ইরানের ক্ষমতাচ্যুত শেষ শাহর নির্বাসিত ছেলে রেজা পাহলভি বলেছেন, তিনি দেশের জন্য একটি ‘ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ’ গড়ে তোলার নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, ইরানে ক্ষমতার পরিবর্তনই হতে পারে ‘সবচেয়ে ভালো উপায়’। এই মন্তব্যটি তিনি গতকাল শনিবার জার্মানির মিউনিখে এক সমাবেশে করেছেন, যেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রায় দুই লাখ সমর্থক।
ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে সুইজারল্যান্ড জানিয়েছে, আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ওমান সরকার আগামী সপ্তাহে জেনেভায় নতুন দফা বৈঠক আয়োজন করবে। এ সময় রেজা পাহলভি ইরানে নেতৃত্ব দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
রেজা পাহলভি ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের আগে ইরান ত্যাগ করেছিলেন। এরপর থেকে তিনি দেশে ফেরেননি। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন।
মিউনিখে সমাবেশে তিনি বলেন, ‘আমি এখানে এসেছি আপনাদের জন্য একটি ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা দিতে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি রূপান্তরের নেতা হিসেবে অঙ্গীকারবদ্ধ, যেন একদিন আমরা ব্যালট বাক্সের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় দেশের ভাগ্য চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করতে পারি।’
উপস্থিত জনতা ‘জাভিদ শাহ’ (শাহ দীর্ঘজীবী হোক) স্লোগান দিচ্ছিলেন। তারা সিংহ ও সূর্যের চিহ্নযুক্ত সবুজ, সাদা ও লাল রঙের পতাকা উড়াচ্ছিলেন, যা ক্ষমতাচ্যুত রাজতন্ত্রের প্রতীক। সমাবেশে উপস্থিত ৬২ বছর বয়সী ইরানি নাগরিক সাইদ এএফপিকে বলেন, ‘ইরানের শাসনব্যবস্থা মৃত। এর অবসান হওয়া উচিত।’
রেজা পাহলভি দেশের ভেতরে ও বাইরে থাকা ইরানি নাগরিকদের প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সবাইকে ইরানি সময় শনিবার ও রবিবার রাত ৮টায় নিজেদের বাড়ি ও ছাদ থেকে স্লোগান দিতে বলেছেন। উদ্দেশ্য, জার্মানি ও অন্যান্য দেশে চলমান প্রতিবাদকে একযোগে শক্তিশালী করা।
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মল পর্যন্ত বিভিন্ন সমাবেশে হাজার হাজার মানুষ অংশ নিয়েছেন। তারা ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন। কানাডার টরন্টোয় বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিয়েছেন, ‘ট্রাম্প, এখনই পদক্ষেপ নিন।’
গত শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানে সরকার পরিবর্তনই ‘সবচেয়ে ভালো উপায়’ হতে পারে। তেহরানের ওপর সামরিক চাপ বাড়ানোর জন্য ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে একটি দ্বিতীয় বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ পাঠানো হয়েছে।
ইরানে গত মাসে বিক্ষোভ জোরালো হওয়ায় ব্যাপক ধরপাকড় ও সহিংসতা ঘটে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, ওই সময় কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন।
সমাবেশের আগে মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে রেজা পাহলভি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বলতে চাই, ইরানের মানুষ আপনাকে সাহায্যের জন্য আস্থা রাখে। তাদের সাহায্য করুন।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখন ইসলামি প্রজাতন্ত্রের অবসান ঘটার সময় এসেছে।’
জানুয়ারিতে ইরানে সরকারি দমন-পীড়ন শুরু হওয়ার পর ট্রাম্প প্রথমে জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিক্ষোভকারীদের সহায়তা দিতে প্রস্তুত। তবে সম্প্রতি তিনি বিক্ষোভকারীদের চেয়ে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। গত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের পারমাণবিক স্থাপনার ওপর হামলা চালিয়েছিল।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়। গত সপ্তাহে ওমানে দুই দেশের প্রতিনিধি তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করেছেন। ওমান আগামী সপ্তাহে জেনেভায় নতুন বৈঠক আয়োজন করবে, তবে বিস্তারিত এখনও জানা যায়নি।
সুত্র: এএফপি

