ভারতের রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ–এর বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগ তুলে সংগঠনটির আর্থিক অস্বচ্ছতা নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা প্রিয়াঙ্ক খাড়গে। তিনি বলেন, আরএসএসকে সরকারিভাবে নথিভুক্ত করে আইনের আওতায় আনা উচিত। সূত্র: পিটিআই
কংগ্রেস–শাসিত কর্নাটক–এর গ্রামোন্নয়ন ও পঞ্চায়েতমন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়গে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে–এর ছেলে। উপকূলবর্তী কর্নাটকে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও তার চরিত্র নিয়ে লেখা এক বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে রোববার তিনি এসব মন্তব্য করেন।
প্রিয়াঙ্কের দাবি, দেশে–বিদেশে আরএসএসের অনুমোদিত আড়াই হাজারের বেশি শাখা ও সংগঠন রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইংল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশ থেকে সংগঠনটি অর্থ পায়। ‘গুরুদক্ষিণা’ নামের অনুদানের মাধ্যমে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করা হয় এবং সেই অর্থের উৎস ও ব্যবহারের বিষয়ে স্বচ্ছতা নেই। তাঁর ভাষ্য, আরএসএস অর্থ পাচারের সঙ্গে যুক্ত এবং এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া দরকার।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই অর্থ কোথা থেকে আসে এবং কীভাবে সংগঠনের হাতে পৌঁছায় তা খতিয়ে দেখা জরুরি। আরএসএস দেশভক্তির কথা বললেও স্বাধীনতার পর ৫২ বছর তারা নিজেদের কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেনি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আরএসএস ও তাদের রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টি–কে ‘শয়তান ও তার ছায়া’ আখ্যা দিয়ে প্রিয়াঙ্ক বলেন, লড়াই শুধু ছায়ার বিরুদ্ধে নয় বরং মূল শক্তির বিরুদ্ধেও হওয়া উচিত।
সংবাদ সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া জানায়, অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্য ও পরে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে প্রিয়াঙ্ক বলেন, প্রায় ১০০ বছর বয়স হলেও আরএসএস এখনো সরকারিভাবে নথিভুক্ত সংগঠন নয়। সংঘপ্রধান মোহন ভাগবত দাবি করেছেন, আরএসএস ব্যক্তি সমষ্টির সংগঠন হওয়ায় নথিভুক্তির প্রয়োজন নেই। এ যুক্তিকে ‘আশ্চর্যজনক’ বলে মন্তব্য করেন প্রিয়াঙ্ক।
তিনি বলেন, বেঙ্গালুরু ক্লাবও ব্যক্তি সমষ্টির সংগঠন হলেও তারা নথিভুক্ত এবং সরকারকে কর দেয়। অথচ আরএসএস অন্যদের কর দিতে বললেও নিজেরা দেয় না বলে তাঁর অভিযোগ।
কংগ্রেস ও আরএসএসের আদর্শগত দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। কর্নাটকে কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে প্রিয়াঙ্ক মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া–কে চিঠি দিয়ে বিদ্যালয়গুলোতে আরএসএসের শাখা ও অনুষ্ঠান বন্ধের দাবি জানান।
এরপর রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, সরকারি বিদ্যালয় বা অন্য কোনো সরকারি স্থাপনায় অনুষ্ঠান করতে হলে সংশ্লিষ্ট সংগঠনকে আগাম অনুমতি নিতে হবে। সিদ্ধান্তটি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে মুখ্যমন্ত্রী ব্যাখ্যা দেন যে, রাজ্যে আরএসএসকে নিষিদ্ধ করা হয়নি। পরে কর্নাটক হাইকোর্ট ওই নির্দেশে স্থগিতাদেশ দেন।
২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রিয়াঙ্কের নির্বাচনী এলাকা চিত্তপুরে আরএসএসের মিছিলের অনুমতি দেওয়া হয়নি। প্রশাসনের দাবি ছিল, মিছিল হলে এলাকায় শান্তি–শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হতে পারে। একই সময়ে আরএসএসের এক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ায় এক পঞ্চায়েত কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। সর্বশেষ অর্থ পাচারের অভিযোগ এনে প্রিয়াঙ্ক খাড়গে সেই বিরোধে নতুন মাত্রা যোগ করলেন।

