ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো–কে ব্যঙ্গাত্মক শুভেচ্ছা জানিয়ে ডিজিটাল কার্ড প্রকাশ করেছে হোয়াইট হাউস। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির একটি কারাগারে বন্দি মাদুরোকে উদ্দেশ্য করে প্রকাশিত এক কার্ডে লেখা হয়েছে, ‘আপনি আমার হৃদয় হরণ করেছেন।’ সূত্র: এএফপি
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স–এ কয়েকটি ডিজিটাল কার্ড প্রকাশ করা হয়। একটি কার্ডে ভেনেজুয়েলা থেকে মাদুরোকে নিউইয়র্কে নিয়ে আসার সময়কার একটি ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। সেখানে তাঁর চোখ বাঁধা এবং হাতে হাতকড়া দেখা যায়। কার্ডটিতে লেখা ছিল, ‘আপনি আমার হৃদয় হরণ করেছেন।’ ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয়, ‘শুধু আপনার জন্য তৈরি করা।’
মাদুরোর সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ। ২০১৬ সালে প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় এসে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। পরবর্তী সময়ে জো বাইডেন–এর প্রশাসনেও সেই নিষেধাজ্ঞা বহাল ছিল।
২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতা গ্রহণের পর দুই দেশের সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়ে ওঠে। গত ৪ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে সামরিক অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস–কে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে এবং সেই অভিযোগের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার প্রস্তুতি চলছে। বর্তমানে তাঁরা নিউইয়র্ক সিটির একটি ফেডারেল কারাগারে বন্দি আছেন।
১৪ ফেব্রুয়ারি আরও কিছু কার্ড প্রকাশ করা হয়, যেগুলোর ক্যাপশনেও একইভাবে লেখা ছিল—‘শুধু আপনার জন্য তৈরি করা।’ এসব কার্ডে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন পদক্ষেপ ও বিতর্কিত বিষয় তুলে ধরা হয়েছে, যার মধ্যে গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গও রয়েছে।
আরেকটি কার্ডে এল সালভাদরের নাগরিক কিলমার অ্যাবার্গো গার্সিয়া এবং ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন–এর প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়। সেখানে লেখা ছিল, “অবৈধ ভিনদেশীদের জন্য ডেমোক্র্যাটদের ভালোবাসার মতো আপনার জন্য আমার ভালোবাসাও দৃঢ়। আমি আপনার সঙ্গে মদ্যপানের জন্য ১ হাজার ৫৩৭ মাইল উড়ে যাব।”
গার্সিয়া ২০২৫ সালের মার্চে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভুলবশত এল সালভাদরে নির্বাসিত হন। এমএস–১৩ গ্যাংয়ের সদস্য সন্দেহে আটক করা হলেও পরে জানা যায়, তিনি নিজ দেশে হুমকির মুখে থাকা একজন বৈধ অভিবাসনপ্রত্যাশী। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনা হয় এবং অনথিভুক্ত অভিবাসীদের সহায়তার অভিযোগ আনা হয়।
মার্কিন দৈনিক দ্য নিউ ইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, অনলাইনে প্রকাশিত বেশিরভাগ কার্ড প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর উপপ্রধান কর্মচারি ড্যান স্কাভিনো এবং যোগাযোগবিষয়ক উপপরিচালক কায়েলান ডর–কে সঙ্গে নিয়ে তৈরি করেছেন।

