সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের দর সামান্য কমেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশের কড়া অবস্থানের কারণে সুদের হার বাড়ানোর প্রত্যাশা বেড়ে যাওয়ায় ডলার প্রায় দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ অবস্থানের কাছাকাছি রয়েছে।
শুক্রবার ওয়ারশ বলেন, মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশে নামার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আস্থা তৈরি না হলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ফেডকে আরও পদক্ষেপ নিতে হবে। তার এই বক্তব্যের পর সেপ্টেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে বাজারে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। বর্তমানে আগামী মাসে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা ৫৮ শতাংশে উঠেছে।
এদিকে বিনিয়োগকারীদের নজর এখন যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক তথ্যের দিকে। শুক্রবার প্রকাশিতব্য দেশটির নন-ফার্ম পেরোলস প্রতিবেদন এবং পরের সপ্তাহের ভোক্তা মূল্যস্ফীতির তথ্য সেপ্টেম্বরে ফেডের বৈঠকের আগে সুদের হার নিয়ে বাজারের প্রত্যাশায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
সোমবার ইউরোর দর প্রায় ০.১১ শতাংশ বেড়ে ১ ইউরোতে ১.১৫৯৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ব্রিটিশ পাউন্ডও সামান্য বেড়ে ১.৩৫৪৩ ডলারে লেনদেন হয়েছে। উভয় মুদ্রাই টানা দ্বিতীয় মাসে দর বৃদ্ধির পথে রয়েছে।
ছয়টি প্রধান মুদ্রার বিপরীতে ডলারের অবস্থান পরিমাপকারী ডলার সূচক ০.১১ শতাংশ কমে ৯৯.৫৩ পয়েন্টে নেমেছে। শুক্রবার সূচকটি ৯৯.৭৩ পয়েন্টে উঠেছিল, যা ১৭ আগস্টের পর সর্বোচ্চ। তবে মাসিক হিসাবে সূচকটি টানা দ্বিতীয় মাসে পতনের পথে রয়েছে।
অন্যদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় তেলের দাম বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২.৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯০.২১ ডলারে উঠেছে। রোববার যুক্তরাষ্ট্র ইরানের লারাক দ্বীপে হামলা চালিয়েছে, যা জুলাইয়ের শেষের পর ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম হামলা বলে জানা গেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ ‘ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে’। তবে দ্বীপটিতে হামলার বিষয়ে তার দাবির সমর্থনে তাৎক্ষণিক কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

