বিশ্ববাজারে গুঁড়া দুধের চাহিদা বাড়ায় দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। সর্বশেষ গ্লোবাল ডেইরি ট্রেডের (জিডিটি) নিলামে স্কিম মিল্ক পাউডার বা ননিছাড়া গুঁড়া দুধের (এসএমপি) দাম এক লাফে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। দুধের প্রোটিনসমৃদ্ধ পণ্যের চাহিদা বাড়াকেই এই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড, ইডেইরি নিউজ ও এগ্রিল্যান্ডের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত জিডিটির ৪১১তম নিলামে সামগ্রিক দুগ্ধপণ্যের মূল্যসূচক বেড়েছে দশমিক ৯ শতাংশ। এর মধ্য দিয়ে টানা চতুর্থ নিলামে সূচকটি ঊর্ধ্বমুখী হলো। সর্বশেষ নিলামে বিক্রি হওয়া দুগ্ধপণ্যের গড় দাম ছিল প্রতি টনে প্রায় ৩ হাজার ৯১০ ডলার। সব মিলিয়ে ৪৩ হাজার ৯৭৬ টন দুগ্ধপণ্য বিক্রি হয়েছে। নিলামে অংশ নেন ১৫৭ জন ক্রেতা।
ফারমারস উইকলির তথ্য অনুযায়ী, এসএমপির দাম টানা দ্বিতীয় নিলামেও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এর আগের নিলামে পণ্যটির দাম ৭ দশমিক ৬ শতাংশ বাড়ে। সর্বশেষ বৃদ্ধির পর প্রতি টন এসএমপির দাম দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৬৬৫ ডলারে। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের পর এটিই এসএমপির সর্বোচ্চ দাম।
সাধারণত ফুল ক্রিম বা ননিযুক্ত গুঁড়া দুধের (ডব্লিউএমপি) দাম এসএমপির চেয়ে বেশি থাকে। এর কারণ, ডব্লিউএমপিতে দুধের ফ্যাট বা চর্বি থাকে। তবে এবার বাজারের চিত্র কিছুটা বদলে গেছে। প্রোটিনসমৃদ্ধ পণ্যের চাহিদা বাড়ায় এসএমপির দাম ডব্লিউএমপিকে ছাড়িয়ে গেছে।
সর্বশেষ নিলামে ডব্লিউএমপির দাম দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি টনে প্রায় ৩ হাজার ৫৫৫ ডলারে নেমে এসেছে। অর্থাৎ বর্তমানে ননিছাড়া গুঁড়া দুধের দাম ননিযুক্ত গুঁড়া দুধের চেয়ে বেশি।
এদিকে সরবরাহ বাড়লেও বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়নি। বিশ্বের শীর্ষ দুগ্ধ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ফনটেরার সরবরাহ প্রায় ৮ শতাংশ বাড়িয়েছে। তারপরও বাড়তি সরবরাহ ক্রেতারা তুলনামূলক স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে গ্রহণ করেছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
নিউজিল্যান্ড এক্সচেঞ্জের দুগ্ধবাজার বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান ক্রিস্টিনা আলভারাডো বলেন, মৌসুমি সরবরাহ বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিলে জিডিটির সর্বশেষ নিলামের ফলাফল প্রত্যাশার তুলনায় বেশ স্থিতিশীল ছিল। একই সঙ্গে তিনি জানান, গুঁড়া দুধের চাহিদা বর্তমানে তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী।
গুঁড়া দুধের বাজারে দাম বাড়লেও দুগ্ধজাত চর্বি ও পনিরের বাজারে দেখা গেছে ভিন্ন প্রবণতা। সর্বশেষ নিলামে অ্যানহাইড্রাস মিল্ক ফ্যাট (এএমএফ) বা বিশুদ্ধ দুগ্ধজাত চর্বির দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। মাখনের দামও কমেছে দশমিক ৮ শতাংশ।
সবচেয়ে বড় পতন হয়েছে চেডার পনিরের দামে। পণ্যটির দাম কমেছে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ। এর ফলে পাঁচ বছরের মধ্যে জিডিটির কোনো নিলামে চেডার পনিরের দাম এবার সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব দুগ্ধবাজারে বর্তমানে পণ্যভেদে চাহিদার পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। প্রোটিনসমৃদ্ধ দুগ্ধপণ্যের চাহিদা বাড়ায় গুঁড়া দুধের বাজার শক্তিশালী রয়েছে। বিপরীতে দুগ্ধজাত চর্বি ও পনিরের বাজারে সরবরাহের চাপ দেখা যাচ্ছে।
নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুধ উৎপাদন বেড়েছে। ফলে সামনে বিশ্ববাজারে দুগ্ধপণ্যের সরবরাহ আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, প্রোটিনসমৃদ্ধ দুগ্ধপণ্যের চাহিদা শক্তিশালী থাকলে বাড়তি সরবরাহের চাপ সামলেও দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকতে পারে।
পরবর্তী জিডিটি নিলাম অনুষ্ঠিত হবে ১৪ ও ১৫ সেপ্টেম্বর। সাম্প্রতিক নিলামগুলোতে গুঁড়া দুধের দামে যে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, সেটি আগামী নিলামেও অব্যাহত থাকে কি না, এখন সেদিকেই নজর রাখছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।

