বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ঘিরে আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে ডলারের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। এর বিপরীতে ইউরোসহ কয়েকটি প্রধান মুদ্রা দুর্বল অবস্থানে রয়েছে।
মঙ্গলবার ইউরো ডলারের বিপরীতে এক মাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম বৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রের বন্ড বাজারে চাপ তৈরি করেছে, যার ফলে দেশটির সরকারি বন্ডের সুদহার বেড়েছে এবং ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদহার ২০০৭ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। একদিনে এটি ৭ দশমিক ২ ভিত্তি পয়েন্ট বেড়ে ৫ দশমিক ০৩ শতাংশে উঠেছে।
বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম চার মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি অবস্থান করছে। প্রতি ব্যারেল তেলের দাম উঠেছে ১০৭ দশমিক ৭ ডলারে।
ইয়েমেনের ইরানপন্থি হুথি গোষ্ঠীর সৌদি আরবে নতুন করে হামলা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের ইরান-সম্পর্কিত আলোচনার স্থগিত হওয়ার পর তেলের বাজারে উদ্বেগ বেড়েছে।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে সাধারণত মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এ কারণে বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার নিয়ে নতুন করে হিসাব করছেন।
বাজারে এখন ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ চলতি সপ্তাহে সুদের হার বাড়াতে পারে।
সিএমই ফেডওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা ৯৪ শতাংশের বেশি বলে মনে করছেন বাজার অংশগ্রহণকারীরা।
আইএনজির মুদ্রা কৌশলবিদ ফ্রান্সেস্কো পেসোলে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা অনেক বেশি। বন্ড বাজারের পরিবর্তনগুলো একটি সতর্ক সংকেত দিচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।তার মতে, মুদ্রাবাজারের দৃষ্টিকোণ থেকে সুদের হার বৃদ্ধি ডলারের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ডলারের শক্তিশালী অবস্থানের কারণে ইউরোর দাম কমেছে। মঙ্গলবার ইউরো ০ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি ইউরোর মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ১৫৩ ডলার। এটি গত ১৪ আগস্টের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি।
ব্রিটিশ পাউন্ডও ০ দশমিক ১ শতাংশ কমে ১ দশমিক ৩৪ ডলারে নেমেছে। বাজার এখন বৃহস্পতিবারের ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাজ্যের শ্রমবাজার দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। দেশটিতে চাকরির শূন্যপদ চার বছরের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে, যদিও বেতন বৃদ্ধির হার স্থিতিশীল রয়েছে।
জাপানি ইয়েনও ডলারের বিপরীতে কিছুটা দুর্বল হয়েছে। ডলারের মূল্য প্রায় ০ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১৫৪ দশমিক ৯৪ ইয়েনে উঠেছে।
এর আগে ইয়েন সাত মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল। তবে শুক্রবার জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্ভাব্য সুদের হার বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের আগে বাজারে নতুন করে হিসাব শুরু হয়েছে।
বাজারে ইয়েন নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মনোভাবও পরিবর্তন হচ্ছে। ফেব্রুয়ারির পর প্রথমবারের মতো অনেক জল্পনাকারী এখন জাপানি মুদ্রার পক্ষে অবস্থান নিতে শুরু করেছেন।
বিশ্ব অর্থনীতিতে বর্তমানে জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার নীতি মুদ্রাবাজারের প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে। তেলের দাম ও সুদের হার নিয়ে নতুন সিদ্ধান্তগুলো আগামী দিনে ডলারের অবস্থান এবং বৈশ্বিক মুদ্রাবাজারের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

