অফিসের কাজে চাপ, বসের বকাবকি, প্রতিদিন একঘেয়েমি, মাঝে মধ্যে ছুটি পেলে মনটা একটু ফুরফুরে হয়ে ওঠে। কিন্তু সেই ছুটি কীভাবে নেওয়া উচিত? বছরের সব ছুটি একসঙ্গে নিয়ে ২০-২৫ দিন কোথাও ঘুরে আসবেন? নাকি সারা বছর ধরে ৫-৭ দিনের ছুটি কয়েকবার নেবেন? একটি নতুন গবেষণা বলছে, বারবার ছোট ছুটি নেওয়া মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অনেক বেশি ভালো।
আমেরিকার ন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ মেডিসিনে ২০২৫ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতি দুই মাস পর পর কয়েকদিনের ছুটি নেন, তাদের মানসিক চাপ কম থাকে এবং কাজের মনোযোগও ভালো থাকে। অন্যদিকে, যারা বছরের সব ছুটি একবারেই নিয়ে ফেলেন, তাদের ছুটির সুবিধা বেশি দিন স্থায়ী হয় না। কাজে ফিরে আসার মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আবার আগের মতো মানসিক চাপ ফিরে আসে।
গবেষকরা বলছেন, মস্তিষ্ক কিন্তু একটানা কাজ করতে পারে না। এটি একটি মেশিনের মতো, খানিকটা সময় চলার পর বিরতি প্রয়োজন। ছোট ছোট বিরতি মস্তিষ্ককে ‘রিচার্জ’ করার সুযোগ দেয়। আর যারা বারবার ছুটি নেন, তারা প্রতিবারই ফ্রেশ হয়ে কাজে ফিরে আসেন। তাদের কাজের গতি যেমন বজায় থাকে, তেমনি মানসিক অবসাদও কম দেখা যায়।
মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বছরে একবার বড় ছুটি নেওয়ার চেয়ে হরহামেশা ছোট ছুটি নেওয়া বেশি কার্যকর। কারণ ছোট ছুটির প্রভাব কাজের ওপর দীর্ঘস্থায়ী হয়। আর বড় ছুটির পর অফিসে ফিরে এসে কাজের সঙ্গে মানিয়ে নিতেই বেশ কিছু দিন লেগে যায়, যার মধ্যে কার্যক্ষমতা অনেক কমে যায়। তাই যারা প্রতি দুই মাসে অন্তত ৩-৫ দিনের ছুটি নেন, তারা কাজেও বেশি পারদর্শী হন এবং মানসিকভাবেও বেশি সতেজ থাকেন।
তাই আপনি যদি এখনও বছরের সব ছুটি একসঙ্গে নেওয়ার পরিকল্পনা করেন, তাহলে হয়তো আরেকবার ভাবা উচিত। গবেষণা বলছে, এক মাস বা ২০ দিনের লম্বা ছুটির চেয়ে ঘন ঘন ৫-৭ দিনের ছুটি নেওয়া মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য বেশি উপকারী। তাহলে চলুন, পরের ছুটির পরিকল্পনা করে ফেলুন কিন্তু একসঙ্গে সবটা শেষ করে ফেলবেন না, বরং সারাবছর ধরে ছড়িয়ে দিন।

