আজ ২১ অক্টোবর, বিশ্ব আয়োডিন অভাবজনিত রোগ প্রতিরোধ দিবস। দিনটির উদ্দেশ্য একটাই; আয়োডিনের গুরুত্ব নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো, আর প্রতিদিনের খাবারে আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার নিশ্চিত করা।
আয়োডিন হলো একটি খনিজ উপাদান, যা শরীর নিজে তৈরি করতে পারে না। খাবারের মাধ্যমেই এটি গ্রহণ করতে হয়। থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে হরমোন তৈরির পাশাপাশি শরীরের বিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ এবং শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এই আয়োডিন।
শরীরে আয়োডিনের ঘাটতি দেখা দিলে থাইরয়েড গ্রন্থি বড় হয়ে যায়, যাকে বলা হয় গলগণ্ড। শুধু তাই নয়, শিশুদের ক্ষেত্রে আয়োডিনের অভাবে মস্তিষ্কের বিকাশ ও বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। গর্ভাবস্থায় আয়োডিনের ঘাটতি মা ও অনাগত শিশুর জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করে। তাই জীবনের শুরুতেই আয়োডিনের সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও ইউনিসেফসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে লবণে আয়োডিন সংযোজনের ওপর জোর দিয়ে আসছে। এই কর্মসূচিকে সার্বজনীন লবণ আয়োডিনীকরণ বা ইউএসআই বলা হয়। জনসচেতনতা বাড়ানো এবং সবার জন্য আয়োডিনযুক্ত লবণের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা গেলে এই প্রতিরোধযোগ্য পুষ্টিসংকটের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

