Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice বুধ, মে 13, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » কেন ইসরায়েল ইরানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বোমা হামলা করে?
    মতামত

    কেন ইসরায়েল ইরানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বোমা হামলা করে?

    নিউজ ডেস্কমে 13, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    ৭ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখে তেহরানের শরিফ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার পর একটি ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদের বাইরে থেকে সাংবাদিকরা ভিডিও ধারণ করছেন। ছবি: এএফপি
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    “একটি শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার নিন্দা জানিয়েছে ইরানিরা।” যখন দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস ইরানি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর একটি নৃশংস ইসরায়েলি হামলার খবর প্রকাশ করে, ততক্ষণে– ফারসি ভাষায় যেমন বলা হয়, “ঝোলটা এতটাই নোনতা হয়ে যায় যে রাঁধুনিকেও তা স্বীকার করতে হয়”।

    কিন্তু বরাবরের মতোই, তথাকথিত ‘প্রামাণ্য সংবাদপত্র’টির উদ্দেশ্য টাইমস-এর প্রিয় বসতি স্থাপনকারী উপনিবেশ কর্তৃক সংঘটিত সন্ত্রাসের সত্য প্রকাশ করা নয়। বরং যখনই ইসরায়েলের বর্বরতা বদনাম বয়ে আনে, তখনই তথ্যকে নিজেদের মতো করে সাজিয়ে-গুছিয়ে উপস্থাপন করাই এর কাজ।

    টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, “সরকারি কর্মকর্তা ও সরকারবিরোধী কর্মী উভয়েই তেহরানের শরিফ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার নিন্দা জানিয়েছেন; এটি ইরানের সর্বশেষ উচ্চশিক্ষা কেন্দ্র যা হামলার শিকার হয়েছে।”

    এটি নিঃসন্দেহে একটি বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্য। একটি প্রধান উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করাকে সেই চিরাচরিত সরকারপন্থী বনাম সরকারবিরোধী দ্বিবিভাজনের ছাঁকনি দিয়ে বিচার করা যায় না, যা টাইমস পত্রিকা ইরানের ওপর অভ্যাসবশত চাপিয়ে দেয়। একটি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন নির্বিশেষে, ইরান, ফিলিস্তিন বা লেবাননে একটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বোমা হামলা একটি বর্বর কাজ।

    মার্কিন কর্পোরেট গণমাধ্যমের দাবির চেয়ে অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য সাংবাদিকতা ইরানের ক্যাম্পাসগুলোতে যা ঘটছে তা অনেক বেশি নির্ভুলভাবে তুলে ধরেছে। একটি নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, “প্রায় ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয় আক্রমণের শিকার হয়েছে, যা ইরানি শিক্ষাবিদ ও শিক্ষার্থীদের মতে সার্বভৌমত্ব এবং প্রযুক্তিগত স্বায়ত্তশাসন মুছে ফেলার একটি প্রচেষ্টা।”

    যদি কোনো প্রতিবেদক প্রেক্ষাপট তুলে ধরার প্রয়োজন বোধ করেন, তাহলে আমরা পড়ি: “প্রায়শই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (এমআইটি)-র সাথে তুলনা করা হয়, শরিফ ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি কয়েক দশক পুরোনো একটি প্রতিষ্ঠান। এটি পশ্চিম এশিয়ার অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রকৌশল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যাপকভাবে স্বীকৃত। এর প্রাক্তনীদের মধ্যে রয়েছেন মরিয়ম মির্জাখানি, যিনি ২০১৪ সালে গণিতের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার ফিল্ডস মেডেল লাভকারী প্রথম নারী এবং প্রথম ইরানি হয়েছিলেন।”

    এটাই দায়িত্বশীল প্রতিবেদন।

    দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর জায়নবাদী সম্পাদক ও পাঠকরা কি আদৌ জানেন মরিয়ম মির্জাখানি কে ছিলেন? এই ইসরায়েলপন্থী সংগঠনগুলো তাদের পাঠকদের তথ্য জানানোর কাজে নিয়োজিত নয়, বরং তাদের মানসিক বিকারগ্রস্ত অজ্ঞতাকে টিকিয়ে রাখতেই ব্যস্ত।

    অন্যান্য নির্ভরযোগ্য সংবাদ সংস্থাগুলো, যারা সত্যিই বিষয়টি নিয়ে ভেবেছিল, তারা আরও গভীরভাবে তদন্ত করে প্রতিবেদনগুলোর সত্যতা যাচাই করে। একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, “ইরানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় আমাদের জানিয়েছে যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”

    এতক্ষণে আমরা জেনে গেছি যে আমরা এমন এক পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছি, যাকে পণ্ডিতরা ‘জ্ঞান-হত্যা’ (epistemicide) বলে থাকেন: মিরিয়াম অ্যাডেলসনের মতো গণহত্যাবাদী জায়নবাদী এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো কেনা-বেচা করা রাজনীতিবিদদের মদতে একটি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী উপনিবেশ একটি সম্পূর্ণ শিক্ষাগত, পাণ্ডিত্যপূর্ণ এবং বৈজ্ঞানিক পরিমণ্ডলকে নিশ্চিহ্ন করতে চাইছে, যার উৎস অন্তত ষষ্ঠ শতাব্দীতে সাসানিদ আমলে গোন্দিশাপুরের অ্যাকাডেমি পর্যন্ত বিস্তৃত—যার নামানুসারেই আমার নিজ শহর আহভাজের বর্তমান জুন্দিশাপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরণ করা হয়েছে।

    ‘ইসরায়েল’ শব্দটির প্রতি বিশ্বব্যাপী বিতৃষ্ণার অনেক কারণ রয়েছে। এটি সেগুলোর মধ্যে মাত্র একটি।

    শীঘ্রই এমনকি ইসরায়েলি গণমাধ্যমকেও এই নৃশংসতার মাত্রা স্বীকার করতে হয়েছিল। ‘বোমাবর্ষণে বিধ্বস্ত বিশ্ববিদ্যালয়কে জাদুঘরে পরিণত করবে ইরান,’ ইসফাহান ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি সম্পর্কে দ্য টাইমস অফ ইসরায়েল রিপোর্ট করেছিল।

    ততক্ষণে খবরটি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং ইউনিভার্সিটি ওয়ার্ল্ড নিউজও এই অঞ্চলজুড়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সমাজের ওপর ইসরায়েলের চালিয়ে যাওয়া অপরাধমূলক ধ্বংসযজ্ঞের বিবরণ নথিভুক্ত করছিল।

    কেন ইসরায়েল ইরানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বোমা হামলা করে এবং আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে স্তব্ধ করে দেয়…

    জ্ঞানহত্যা

    ২০২৬ সালের এপ্রিলের শুরু নাগাদ, ট্রাম্পের জামাতা, কট্টর জায়নবাদী জ্যারেড কুশনারের মদতে ইসরায়েলি হামলায় ইরানের ৩০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে বলে জানা গেছে, যিনি ইরানের সাথে যুদ্ধ বৃদ্ধি থেকে রাজনৈতিক ও আর্থিকভাবে লাভবান হয়ে চলেছেন।

    প্রাপ্ত তথ্যমতে, ইসরায়েল যেসব প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করে ধ্বংস করতে চেয়েছিল, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে শরিফ ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি, ইসফাহান ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি এবং শহীদ বেহেশতি ইউনিভার্সিটি—আমার নিজের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যখন এর নাম ছিল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

    অন্যান্য প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে শিরাজ বিশ্ববিদ্যালয় এবং উরমিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ও আক্রান্ত হয়েছিল। প্রত্যাশিতভাবেই, সবচেয়ে বিস্তারিত নথিগুলো ইরানের ভেতর থেকেই ফারসি ভাষায় পাওয়া গেছে।

    গবেষণা কেন্দ্র, পরীক্ষাগার, প্রশাসনিক ভবন, শ্রেণীকক্ষ, বক্তৃতা কক্ষ, মসজিদ এবং অন্যান্য উপাসনালয়গুলো ইসরায়েলি বোমারু বিমানের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল বলে জানা গেছে এবং একই সাথে ইসরায়েলি লবি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ আমেরিকানদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে এই হামলাকে সমর্থন করার জন্য লিন্ডসে গ্রাহাম এবং টেড ক্রুজের মতো দুর্নীতিগ্রস্ত মার্কিন রাজনীতিবিদদের সংগঠিত করেছিল।

    কিন্তু উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর এই ব্যাপক হামলায় ইরানের এতগুলো বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে?

    এর একাধিক কারণ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষণা ও পাণ্ডিত্যের কেন্দ্রস্থল। এগুলো যেকোনো শক্তিশালী সমাজের বৈজ্ঞানিক অবকাঠামো গঠন করে।

    এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, ইউরোপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মতোই ইরানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও চিকিৎসা, প্রকৌশল, স্থাপত্য, কলা, সমাজবিজ্ঞান এবং মানবিক বিদ্যায় অত্যাধুনিক গবেষণার কেন্দ্রস্থল।

    শুধু বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুই নন, ইসরায়েলও চায় না যে তার চারপাশের সুস্থ সমাজগুলোতে এই ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলো ফুলেফেঁপে উঠুক। এর উদ্দেশ্য হলো তার সামরিক রাষ্ট্রের চারপাশের বিশ্বকে সেই একই অনুর্বর বর্বরতায় পর্যবসিত করা, যেখান থেকে স্বয়ং গণহত্যাবাদী জায়নবাদের উদ্ভব হয়েছিল।

    ইসরায়েলিদের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের সোচ্চার ও উৎসাহী সমর্থনে তাদের কাপুরুষ সেনাবাহিনী ফিলিস্তিন ও লেবাননে অনুরূপ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে এবং এখন অন্যত্রও—সম্ভবত তুরস্ক ও পাকিস্তানেও—একই কাজ করার প্রকাশ্য হুমকি দিচ্ছে।

    তারা তাদের চারপাশের বিশ্বকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত দেখতে চায়, যাতে তাদের সামরিক রাষ্ট্র—সেই বসতি স্থাপনকারী উপনিবেশ, এই গ্রহে ইউরোপীয় বর্বরতার সেই শেষ উত্তরাধিকার—ধ্বংসের মাধ্যমে এই অঞ্চলে আধিপত্য বজায় রাখতে পারে।

    ইতামার বেন-গভির, বেজালেল স্মোট্রিচ, নেতানিয়াহু, নাফতালি বেনেট, ইসরাইল কাটজ, ড্যানি ড্যানন, অ্যাড বমির দুষ্ট মুখের দিকে তাকান, কারণ তারা এই অপরাধগুলি করে।

    এটাই ইসরায়েল। আমাদের বিশ্বের ওপর ইউরোপীয় বর্বরতার চাপিয়ে দেওয়া এটাই সর্বশেষ উপহার।

    ক্যাম্পাসে ভয়ভীতি প্রদর্শন

    আপনি কি কল্পনা করতে পারেন, যদি ইসরায়েল ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বোমা হামলা শুরু করে? অক্সফোর্ড ও কেমব্রিজ, কলাম্বিয়া ও হার্ভার্ড, শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় ও স্ট্যানফোর্ডে যদি ইসরায়েল বোমা হামলা চালায়, তাহলে ইউরোপীয় ও আমেরিকানরা কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে?

    আপনি মনে করেন এমনটা কখনোই ঘটবে না? কেন? এখানেই তো সমস্যা।

    ইসরায়েলি এবং ইসরায়েলপন্থী জায়নবাদীরা কয়েক দশক ধরে এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর হামলা চালিয়ে আসছে এবং গত কয়েক বছরে তা সবচেয়ে নৃশংস রূপ নিয়েছে—এখনও বোমা দিয়ে নয়, বরং অপবাদ ও ভীতি প্রদর্শন, ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস, কোটি কোটি ডলারের মামলা, হলুদ সাংবাদিকতা এবং ইসরায়েলের গণহত্যাজনিত বর্বরতার বিরুদ্ধে ভিন্নমতকে স্তব্ধ করার জন্য নিরলস প্রচারণার মাধ্যমে।

    তারা ইতিমধ্যেই এই ক্যাম্পাসগুলোতে রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে বোমা বর্ষণ করছে।

    দ্য হেরিটেজ ফাউন্ডেশন কর্তৃক পরিচালিত প্রজেক্ট এস্থার কি আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে বোমাবর্ষণের একটি প্রচেষ্টা ছাড়া আর কিছু? এর উদ্দেশ্য হলো ক্যাম্পাস জুড়ে ভয়, ভীতি প্রদর্শন এবং নীরবতা ছড়িয়ে দেওয়া, যাতে ইসরায়েলের জঘন্য আচরণের সমালোচনা করে কেউ একটি কথাও বলার সাহস না করে।

    তারা কি প্রয়াত ফিলিস্তিনি-আমেরিকান পণ্ডিত এডওয়ার্ড সাঈদকে ভয় দেখিয়ে চুপ করানোর চেষ্টায় কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর কার্যালয়ে অগ্নিবোমা নিক্ষেপ করেনি?

    আমেরিকান ও ইউরোপীয়রা যদি মনে করে যে ইসরায়েল তার হামলা শুধু ফিলিস্তিনি, লেবানিজ ও ইরানি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেই সীমাবদ্ধ রাখবে, তাহলে জায়নবাদীরা ইতোমধ্যে তাদের নিজেদের প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কী করছে, সেদিকে তারা মনোযোগ দেয়নি।

    তারা সত্যকে ঘৃণা করে। তারা সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনাকে ঘৃণা করে। তারা তথ্যকে ঘৃণা করে।

    তারা চায় বিশ্ব মুখ ফিরিয়ে নিক, যখন তারা ফিলিস্তিনিদের হত্যা করে, লেবানন ধ্বংস করে, ইরানের ওপর নির্বিচার বোমাবর্ষণ করে, সিরিয়ার ভূখণ্ড দখল করে এবং আমেরিকানদের রাষ্ট্রপতিকে অন্তহীন যুদ্ধে সমর্থন দিতে প্ররোচিত করে তাদের দেউলিয়া করে দেয়।

    যে কারণে ট্রাম্প এবং আমেরিকান গণহত্যাবাদী জায়নবাদীরা যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানায়—এবং যার জন্য তারা ‘প্রজেক্ট এস্থার’ তৈরি করেছে—ঠিক একই কারণে তারা ইরানি ও ফিলিস্তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংস করার জন্য ইসরায়েলকে উৎসাহ দেয়, অর্থায়ন করে এবং অস্ত্র সরবরাহ করে।

    প্রজেক্ট এস্টারের একটি অভ্যন্তরীণ রণাঙ্গন রয়েছে—আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে—এবং একটি বৈদেশিক রণাঙ্গনও আছে, যেখানে ইরান ও ফিলিস্তিনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সরাসরি বোমা হামলা চালিয়ে ধ্বংস করে দেওয়া হয়।

    সেন্সরশিপ, ভীতি প্রদর্শন, কণ্ঠরোধ এবং পাঠ্যক্রম নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে আমেরিকান ও ইউরোপীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানানো রাজনৈতিকভাবে ইরানি ও ফিলিস্তিনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শারীরিকভাবে বোমা মেরে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করার সমতুল্য।

    ভিন্নমতের স্থান

    বিশ্বের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মতোই ইরানের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোও কেবল গবেষণা ও পাণ্ডিত্যের ক্ষেত্র নয়। এগুলো ভিন্নমতকে স্তব্ধ করতে চাওয়া একটি রাষ্ট্রের স্বৈরাচারী প্রবণতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধের কেন্দ্রও বটে।

    ছাত্র সমাবেশ, শ্রমিক ইউনিয়ন এবং নারী অধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে ইরানের নাগরিক স্বাধীনতার সংগ্রামের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। ইসরায়েল নাগরিক ও সংগঠিত রাজনৈতিক জীবনের এই রূপগুলোকে ভয় পায়, কারণ এগুলো একটি সুস্থ ও রাজনৈতিকভাবে সচেতন সমাজের সম্ভাবনাকে তুলে ধরে।

    ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে, হত্যাকারী গুপ্তচররা ইরানে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অনুপ্রবেশ করে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের হত্যা করতে শুরু করে, মসজিদ পুড়িয়ে দেয় এবং কোরআনের কপিতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

    এগুলো নাগরিক স্বাধীনতার জন্য গণ-অভ্যুত্থানের স্বাভাবিক বহিঃপ্রকাশ নয়। এগুলো এমন এক শক্তিশালী সুশীল সমাজ গঠনের প্রচেষ্টাকে বানচাল করার পরিকল্পিত কাজ, যা সংগঠিত ও বৈধ রাজনৈতিক বিচারবুদ্ধির মাধ্যমে ইসরায়েল এবং গণহত্যাবাদী জায়নবাদের বিরোধিতা করতে সক্ষম।

    উচ্চশিক্ষার বিরুদ্ধে এই অভিযান—যাকে অনেক পণ্ডিত এখন ‘শিক্ষাবিদহত্যা’ বলে অভিহিত করছেন—তা ইসরায়েলিদের এক গভীরতর ইতিহাসেরও প্রতিফলন ঘটায়। এই ইতিহাস হলো এমন যেকোনো প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতির প্রতি তাদের ঘৃণা, যাকে তারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না—এবং এর কারণ হলো ঈর্ষা ও বিদ্বেষ, যেহেতু তাদের নিজেদেরই তা নেই।

    এই ধরনের বর্বরতার জবাব কোনো একটি ইসরায়েলি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেরও ক্ষতি করা নয়। বরং এর ঠিক উল্টো। এর জবাব হলো সেই প্রতিষ্ঠানগুলোকে বয়কট করা, যতক্ষণ না তারা ইসরায়েলে এবং সমগ্র অধিকৃত অঞ্চল জুড়ে থাকা ফিলিস্তিনিদের জন্য সমানভাবে তাদের দরজা খুলে দেয়।

    একটি ইট, শিক্ষার্থী, শিক্ষক বা প্রশাসকেরও যেন কোনো ক্ষতি না হয়।

    এই প্রতিষ্ঠানগুলো ফিলিস্তিনি ভূমি ও ফিলিস্তিনি শ্রমের ওপর, ভগ্ন অথচ অদম্য মেরুদণ্ডের ওপর নির্মিত হয়েছিল এবং এগুলোকে অবশ্যই সংরক্ষণ করতে হবে যতক্ষণ না এগুলো চূড়ান্তভাবে তাদের প্রকৃত মালিকদের—ফিলিস্তিনিদের—ইহুদি, খ্রিস্টান, মুসলিম এবং অন্যান্য নির্বিশেষে—কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

    • হামিদ দাবাশি: নিউ ইয়র্ক সিটির কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইরানিয়ান স্টাডিজ ও তুলনামূলক সাহিত্যের হাগোপ কেভোরকিয়ান অধ্যাপক। সূত্র: ‘মিডল ইস্ট আই’-এর ইংরেজি থেকে সংক্ষিপ্তাকারে অনূদিত
    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    আন্তর্জাতিক

    ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৯ যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি

    মে 13, 2026
    আন্তর্জাতিক

    দর্জির মেয়ের একাই জিতলেন ১৭ স্বর্ণপদক

    মে 13, 2026
    মতামত

    স্টারমারের পতন আসন্ন, ফারাজকে থামাতে ব্রিটেনের বামপন্থীদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে

    মে 13, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ডিজিটাল ঋণ সুবিধা, জামানত ছাড়াই মিলবে টাকা

    ব্যাংক জানুয়ারি 10, 2026

    যমুনা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হলেন বেলাল হোসেন

    ব্যাংক অক্টোবর 30, 2025

    এক দিনেই ৩–৪ লাখ টাকা ঋণ পাবেন উদ্যোক্তারা

    ব্যাংক ডিসেম্বর 17, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত জানুয়ারি 13, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.