Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice সোম, জুলাই 20, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » মামলার ফাঁদে বন্দি জীবন: দীর্ঘসূত্রতার অন্ধকারে হারিয়ে যাচ্ছে স্বপ্ন ও স্বাধীনতা
    মতামত

    মামলার ফাঁদে বন্দি জীবন: দীর্ঘসূত্রতার অন্ধকারে হারিয়ে যাচ্ছে স্বপ্ন ও স্বাধীনতা

    মনিরুজ্জামানজুলাই 19, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    একবার এক বনে হঠাৎ দেখা গেল, মহিষের একটি পাল আতঙ্কে দিকবিদিক ছুটছে। বিষয়টি দেখে শিয়ালের কৌতূহল হলো। সে জিজ্ঞেস করল, ‘তোমরা এমন দৌড়াচ্ছ কেন?’ হাঁপাতে হাঁপাতে এক মহিষ বলল, ‘বনে পুলিশ এসেছে, হাতি ধরতে।’

    শিয়াল অবাক হয়ে বলল, ‘কিন্তু তোমরা তো মহিষ। তোমাদের ভয় পাওয়ার কারণ কী?’ মহিষের উত্তর ছিল, ‘পুলিশ যদি ভুল করে আমাকে হাতি ভেবে ধরে নিয়ে যায়, তাহলে আমি যে হাতি নই—এটা প্রমাণ করতেই হয়তো আমার পুরো জীবন কেটে যাবে।’

    গল্পটি হাস্যরসের হলেও এর ভেতরে লুকিয়ে আছে একটি গভীর বাস্তবতা। কোনো ব্যক্তি যদি ভুল, হয়রানিমূলক বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় জড়িয়ে পড়েন, তাহলে অনেক সময় তাঁর সবচেয়ে বড় লড়াই হয়ে দাঁড়ায় নিজের নির্দোষিতা প্রমাণ করা। আর সেই প্রমাণের অপেক্ষায় হারিয়ে যেতে পারে জীবনের মূল্যবান সময়।

    বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় দীর্ঘসূত্রতার কারণে এমন অনেক মানুষ রয়েছেন, যারা অভিযোগ প্রমাণ হওয়ার আগেই বছরের পর বছর কারাগারে কাটাচ্ছেন। কারও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় চলে যাচ্ছে কারাগারের চার দেয়ালের মধ্যে, আবার কেউ কেউ সেই অপেক্ষার শেষ দেখতেও পারছেন না।

    মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে কারা হেফাজতে মারা গেছেন ৬১ জন বন্দি। তাদের মধ্যে ৩৭ জন ছিলেন বিচারাধীন বন্দি। এর আগে ২০২৩ সালে কারা হেফাজতে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১০৭ জন, যার মধ্যে বিচারাধীন বন্দি ছিলেন ৬৯ জন। ২০২৪ সালে কারা হেফাজতে মারা যান ৬৫ জন, তাদের মধ্যে ৪২ জন ছিলেন বিচারাধীন অবস্থায়।

    বর্তমানে দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দির সংখ্যা প্রায় ৮৩ থেকে ৮৫ হাজার। অথচ কারাগারগুলোর নির্ধারিত ধারণক্ষমতা এর তুলনায় অনেক কম। ফলে অতিরিক্ত বন্দির চাপ যেমন বাড়ছে, তেমনি প্রশ্ন উঠছে দীর্ঘদিন বিচার না হওয়া বন্দিদের অধিকার নিয়েও।

    কারাগারে থাকা এসব মানুষের বড় অংশই বিচারাধীন বন্দি। অর্থাৎ আদালতে এখনো তাদের অপরাধ প্রমাণিত হয়নি। কিন্তু বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা বন্দিজীবন কাটাচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, এসব বন্দির একটি অংশ রাজনৈতিক বিরোধ বা বিভিন্ন ধরনের হয়রানিমূলক মামলার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে আটকে আছেন।

    আইনে বিচারপ্রক্রিয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমাও রয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধির সর্বশেষ সংশোধনী অনুযায়ী, পুলিশকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য ৬০ দিনের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বা বিশেষ আদালতে বিচার শেষ করার সময়সীমা ১৮০ দিন এবং দায়রা জজ আদালতের ক্ষেত্রে ৩৬০ দিন নির্ধারিত রয়েছে। তবে বাস্তব চিত্র অনেক ক্ষেত্রেই ভিন্ন। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তদন্ত প্রতিবেদন জমা হয় না, আবার অনেক মামলা বছরের পর বছর ঝুলে থাকে। ফলে বিচার পাওয়ার অপেক্ষা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়।

    আইন অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিচার সম্পন্ন না হলে একজন অভিযুক্তের জামিন পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে সেই অধিকার কার্যকর হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

    বাংলাদেশের সংবিধানেও নাগরিকের জীবন ও স্বাধীনতার সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, আইন অনুযায়ী ছাড়া কোনো ব্যক্তির জীবন, স্বাধীনতা, দেহ, সুনাম বা সম্পত্তির ক্ষতি হয়—এমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। একইভাবে ৩৫(৫) অনুচ্ছেদে নিষ্ঠুর, অমানবিক বা লাঞ্ছনাকর আচরণ ও শাস্তি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

    কিন্তু কোনো ব্যক্তি আদালতে দোষী প্রমাণিত হওয়ার আগেই যদি দীর্ঘ সময় কারাগারে কাটান, তাহলে সেই ব্যবস্থার ন্যায়সংগততা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিচার মানে শুধু শাস্তি দেওয়া নয়, বরং নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

    কারাগার অপরাধীদের জন্য হলেও বিচারাধীন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি যেন শাস্তির বিকল্প হয়ে না দাঁড়ায়—এটাই একটি কার্যকর বিচারব্যবস্থার অন্যতম শর্ত। কারণ একজন নির্দোষ মানুষের হারিয়ে যাওয়া সময় কোনো আদালতের রায় দিয়েও আর ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়।

    বিচারের অপেক্ষায় থেমে যাওয়া জীবন, হারিয়ে যাওয়া দুই যুগের স্বপ্ন:

    একটি ভুল মামলা, একটি দীর্ঘ অপেক্ষা—আর তাতেই কারও জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সময় হারিয়ে যেতে পারে। আইনের জটিলতা ও ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতার কারণে এমন অনেক মানুষ রয়েছেন, যারা অপরাধ প্রমাণ হওয়ার আগেই কারাগারের অন্ধকারে কাটিয়েছেন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

    সিলেটের ফজলু মিয়ার ঘটনা সেই নির্মম বাস্তবতার একটি উদাহরণ। মানসিক ভারসাম্যহীন এই ব্যক্তি কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হননি। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে তাঁকে বিনা বিচারে কারাগারের চার দেয়ালের মধ্যে কাটাতে হয়েছে দীর্ঘ ২২ বছর সাত মাস। জীবনের প্রায় একটি প্রজন্ম পার হয়ে গেল কারাগারে। প্রশ্ন থেকে যায়—এই হারিয়ে যাওয়া সময়ের দায় নেবে কে?

    কমলা বানুর ঘটনাও বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতার এক করুণ দৃষ্টান্ত। উচ্চ আদালত তাঁকে মামলা থেকে খালাস দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই আদেশের কপি যথাসময়ে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছায়নি। ফলে আইনি মুক্তি পাওয়ার পরও তাঁকে আরও সাত বছর বন্দিজীবন কাটাতে হয়েছে।

    মিষ্টন মিয়ার ঘটনাটি আরও বেদনাদায়ক। মামলা থেকে ১১ বছর আগেই তিনি অব্যাহতি পেয়েছিলেন। কিন্তু নথিপত্রের জটিলতা ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাবে সেই তথ্য কার্যকর হয়নি। শেষ পর্যন্ত তাঁকে অতিরিক্ত ১১ বছরসহ মোট ২৪ বছর কারাগারে থাকতে হয়।

    এই দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান শুধু একজন মানুষের জীবন থেকেই কেড়ে নেয়নি স্বাধীনতা, কেড়ে নিয়েছে পারিবারিক সম্পর্কের স্বাভাবিক ধারাও। গ্রেপ্তারের সময় যিনি তাঁকে বিদায় জানিয়েছিলেন, মুক্তির দিনে তাঁকে স্বাগত জানাতে আসেন আরেক প্রজন্মের একজন। প্রথমজন ছিলেন তাঁর মেয়ে, আর দ্বিতীয়জন তাঁর নাতনি।

    একজন মানুষের জীবনের দুই যুগ হারিয়ে যাওয়া, পরিবারের একটি প্রজন্মের সঙ্গে সম্পর্কের সময় ফুরিয়ে যাওয়া—এমন ক্ষতি কোনো ক্ষতিপূরণেই কি পূরণ করা সম্ভব? বিচারব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য শুধু অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করা নয়, নিরপরাধ মানুষের অধিকার রক্ষাও। কারণ ভুলের মাশুল যদি কোনো নির্দোষ মানুষকে বছরের পর বছর দিতে হয়, তাহলে সেই ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও ন্যায়বিচার নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।

    মামলার জট, দীর্ঘ অপেক্ষা: ন্যায়বিচারের পথে বড় বাধা:

    বিনা বিচারে দীর্ঘদিন কারাগারে থাকা মানুষের বড় একটি অংশই আর্থিকভাবে দুর্বল। তাদের অনেকের পরিবার নির্ভর করে একজনের আয়ের ওপর। সেই মানুষটি যখন কারাগারে বন্দি হন, তখন শুধু একজন ব্যক্তিই নয়, পুরো পরিবারই সংকটে পড়ে যায়।

    মামলার শুরুতে অনেক পরিবার ধারদেনা করে, জমিজমা বা গবাদিপশু বিক্রি করে আইনজীবীর খরচ চালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু সময় যত গড়ায়, আর্থিক চাপ তত বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে মামলা চালানোর সামর্থ্য হারিয়ে ফেলে অনেক পরিবার। এরপর মামলার কাগজপত্র আদালতের নথির স্তূপে পড়ে থাকে, আর বিচারপ্রার্থীদের অপেক্ষা দীর্ঘ হতে থাকে।

    বিচার ব্যবস্থায় জমে থাকা মামলার বিপুল চাপ এই দীর্ঘসূত্রতার অন্যতম বড় কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে জমতে থাকা মামলার ভার কমাতে না পারায় অনেক মানুষ দ্রুত বিচার পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

    ২০১৮ সালে উন্নয়ন সংস্থা জিআইজেডের সহযোগিতায় আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিচালিত বিচার বিভাগীয় জরিপ ‘জাস্টিস অডিট’-এ দেশের বিচারব্যবস্থার এই চিত্র উঠে আসে। ওই জরিপ অনুযায়ী, সে সময় দেশে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ছিল প্রায় ৩৭ লাখ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, নতুন কোনো মামলা দায়ের না হলেও বিদ্যমান বিচারক ও অবকাঠামো দিয়ে এসব মামলা নিষ্পত্তি করতে প্রায় ১৮ বছর সময় প্রয়োজন হবে। এরপর সময়ের সঙ্গে মামলার সংখ্যা আরও বেড়েছে। বর্তমানে দেশে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা প্রায় ৪৮ লাখে পৌঁছেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

    বাংলাদেশের আইনি প্রক্রিয়ার একটি বড় সমস্যা হলো একই মামলা নিষ্পত্তির পথে একাধিক ধাপ তৈরি হওয়া। একটি মামলা নিম্ন আদালত থেকে আপিল, রিভিশনসহ বিভিন্ন পর্যায়ে গিয়ে আরও দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে। ফলে অনেক বিচারপ্রার্থী বছরের পর বছর আদালতের দ্বারে ঘুরতে থাকেন। বিচার পাওয়ার এই দীর্ঘ পথ অনেকের জন্য যেন এক অদৃশ্য গোলকধাঁধায় পরিণত হয়েছে, যেখানে মামলা শেষ হওয়ার আগেই অনেকের জীবন থেকে হারিয়ে যায় মূল্যবান সময়।

    সমাধানের পথ: দ্রুত বিচার ও কার্যকর সংস্কারই ভরসা

    বিচারব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা দূর করতে হলে প্রয়োজন শুধু নতুন আইন নয়, প্রয়োজন কার্যকর প্রয়োগ ও দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার বিষয়টি রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা না করলে কেবল কাঠামোগত পরিবর্তনে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।

    প্রথমেই প্রয়োজন বিচারাধীন মামলার প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করা। একই সঙ্গে মামলাগুলোকে অপরাধের ধরন, বয়স ও গুরুত্ব অনুযায়ী শ্রেণিবিন্যাস করতে হবে। যেসব মামলায় আসামি দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে রয়েছেন, সেগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

    এ ছাড়া আদালতগুলোর মধ্যে মামলার চাপের ভারসাম্য তৈরি করা, অপরাধের ধরন অনুযায়ী আপিলের সুযোগ যৌক্তিক পর্যায়ে সীমিত করা এবং ছোটখাটো অপরাধের ক্ষেত্রে বিকল্প ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করা যেতে পারে। ছোট অপরাধে দোষ স্বীকারকারীদের ক্ষেত্রে কারাদণ্ডের পরিবর্তে প্রবেশনের সুযোগ দিলে তারা পরিবার ও সমাজের সঙ্গে যুক্ত থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগ পাবে।

    কারাগার ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও প্রয়োজন বড় ধরনের পরিবর্তন। কারাগার শুধু বন্দিশালা নয়, এটি সংশোধন ও পুনর্বাসনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা দরকার। বন্দিদের অপরাধের ধরন অনুযায়ী আলাদা রাখার ব্যবস্থা করা হলে ছোট অপরাধে আটক ব্যক্তিদের ওপর বড় অপরাধীদের নেতিবাচক প্রভাব কমানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি কারাবন্দিদের দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ ও নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি করতে হবে।

    বিচারপ্রক্রিয়ায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোও সময়ের দাবি। আদালতে আসামির উপস্থিতি, মামলার তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং শুনানির কার্যক্রমে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ালে সময় ও ব্যয় দুটোই কমানো সম্ভব। তবে এজন্য বিচারক, আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ করে তুলতে হবে।

    ছোটখাটো বিরোধ ও মীমাংসাযোগ্য মামলা আদালতের বাইরে সমাধানের উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আইনগত সহায়তা প্রদান আইন-২০২৬ অনুযায়ী ছোট বিরোধে মামলা করার আগে বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতার বিধান রাখা হয়েছে। একইভাবে ফৌজদারি কার্যবিধির সর্বশেষ সংশোধনীতে মীমাংসাযোগ্য মামলাগুলো মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির সুযোগ রাখা হয়েছে। বর্তমানে ১২-১৩টি জেলায় এর পাইলট প্রকল্প চলছে, যা একটি ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    তবে মধ্যস্থতা কার্যক্রম সফল করতে প্রয়োজন দক্ষ ও প্রশিক্ষিত মধ্যস্থতাকারী। কার্যকর মিডিয়েটর প্যানেল গঠন, প্যারালিগ্যাল নিয়োগ এবং অভিজ্ঞ বেসরকারি সংস্থাগুলোর সহযোগিতা নেওয়া গেলে এই প্রক্রিয়া আরও গতিশীল হতে পারে। কারণ বিপুলসংখ্যক মামলার চাপ কমাতে সরকারি ও বেসরকারি যৌথ উদ্যোগের বিকল্প নেই।

    মামলাজট নিরসনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতাও কাজে লাগানো যেতে পারে। বিশেষ করে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য অনুসরণীয় হতে পারে। একসময় বড় ধরনের মামলাজটে থাকা দেশটি বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা ও কার্যকর মামলা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নতি করেছে। শেষ পর্যন্ত বিচারব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা। আইনের শাসন শুধু সংবিধান ও আইনের বইয়ে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, তার বাস্তব প্রতিফলন থাকতে হবে সাধারণ মানুষের জীবনে।

    একজন নাগরিকের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা—তিনি যেন নিরাপদে জীবনযাপন করতে পারেন এবং কোনো অভিযোগে অভিযুক্ত হলেও যেন পান নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও দ্রুত বিচার। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো এমন একটি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, যেখানে কোনো নিরপরাধ মানুষকে ভুল পরিচয়ের বোঝা নিয়ে সারাজীবন দৌড়াতে না হয়। মহিষ যেন হাতি প্রমাণের ভয়ে জীবনভর পালিয়ে না বেড়ায়—ন্যায়বিচারের রাষ্ট্রে সেটিই হওয়া উচিত প্রধান অঙ্গীকার।

    • লেখক: মো. রাশেদুল ইসলাম: আইনজীবী ও উপপরিচালক (মামলা), বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)
    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    মতামত

    লিগ্যাল এইড অফিস: আদালতের সহায়ক, নাকি সালিশ ব্যবস্থার নতুন রূপ?

    জুলাই 20, 2026
    খেলা

    মেসির সঙ্গে কী প্রতারণা করল আর্জেন্টিনা?

    জুলাই 20, 2026
    অর্থনীতি

    আইনি জটে আটকে আছে ৮৫০০ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ

    জুলাই 20, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.