গোপালগঞ্জের একটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা পরিচালনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আদালতের পরিবেশ ও কার্যক্রমের ধরন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহাবুবুল ইসলাম জুয়েল। তিনি মনে করেন, আদালতের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে বার ও বেঞ্চের মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন।
একটি মামলায় জামিন শুনানির জন্য গোপালগঞ্জের বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দুইবার অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, তার সঙ্গে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন (আনু), যিনি বর্তমানে অ্যাটর্নি জেনারেল মহোদয়ের জুনিয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
অ্যাডভোকেট জুয়েল জানান, আদালতের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে তিনি দেখতে পান, এজলাসে বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী সহকারী, আইনজীবী ও বিচারক—সবার মধ্যে কথোপকথনের একটি ভিন্ন ধরনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে বিচারপ্রার্থীরাও সরাসরি মামলার বিষয়ে কথা বলছেন বলে তার পর্যবেক্ষণ।
তিনি অভিযোগ করেন, কিছু ক্ষেত্রে মামলার প্রস্তুতি ও পরিচালনায় আইনজীবীর তুলনায় আইনজীবী সহকারীর ভূমিকা বেশি দৃশ্যমান বলে মনে হয়েছে। এমনকি শুনানির সময় সহকারীরা আইনজীবীদের বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিষয়টি নিয়ে কয়েকজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলার পর তিনি জানতে পারেন, এটি স্থানীয়ভাবে প্রচলিত একটি চর্চা। কয়েকজন আইনজীবী তাকে বলেছেন, মামলা সংক্রান্ত নথি ও বিষয়বস্তু ভালোভাবে না পড়লে অনেক সময় সহকারীদের ওপর নির্ভর করতে হয়।
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে অ্যাডভোকেট জুয়েল বলেন, আদালতের এমন পরিবেশ দীর্ঘদিন চলতে থাকলে একসময় বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করেছিলেন। সম্প্রতি এজলাসে বিচারকের পেপার ওয়েট ছোড়ার ঘটনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি এর নিন্দা জানান। তিনি বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি হঠাৎ করে তৈরি হয় না। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, শৃঙ্খলার ঘাটতি ও পারস্পরিক সমন্বয়ের অভাব থেকেই এমন পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
অ্যাডভোকেট জুয়েল মনে করেন, আদালতের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বার ও বেঞ্চের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, দীর্ঘদিন ধরে যদি কোনো সমস্যা চলতে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দায়িত্ব তা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া।
তিনি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সভাপতি ও কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রথমে গোপালগঞ্জ বার ও বেঞ্চের মধ্যে একটি সুন্দর ও কার্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
অ্যাডভোকেট মাহাবুবুল ইসলাম জুয়েল বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বরিশাল অঞ্চলের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর এই বক্তব্য মূলত আদালতের শৃঙ্খলা, পেশাগত দায়িত্ব ও বিচার ব্যবস্থার পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগের প্রতিফলন।
| বি: দ্র: প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। এটি লেখকের ফেসবুক পোস্ট থেকে সংগৃহীত। এর বক্তব্য ও দায়ভার সম্পূর্ণ লেখকের এবং তা সিটিজেন্স ভয়েসের সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়। |

