Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice বৃহস্পতি, সেপ্টে. 24, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • জলবায়ু ও পরিবেশ
      • লাইফস্টাইল
      • বিশ্লেষণ
      • বিশেষ বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » খেলাপি ঋণের চোরাবালিতে ব্যাংকিং খাত, নিরাপদ কি সাধারণ মানুষের সঞ্চয়?
    সম্পাদকীয়

    খেলাপি ঋণের চোরাবালিতে ব্যাংকিং খাত, নিরাপদ কি সাধারণ মানুষের সঞ্চয়?

    নিউজ ডেস্কসেপ্টেম্বর 23, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    একজন সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাংক শুধু টাকা রাখার জায়গা নয়; এটি ভবিষ্যতের নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অবলম্বন। মাস শেষে বেতন থেকে জমানো অর্থ, সন্তানের পড়াশোনার জন্য রাখা সঞ্চয়, চিকিৎসার খরচ, অবসরজীবনের প্রস্তুতি কিংবা ছোট ব্যবসার মূলধন—জীবনের নানা প্রয়োজনের অর্থ মানুষ ব্যাংকে জমা রাখে। ফলে কোনো ব্যাংকের আর্থিক দুর্বলতা, খেলাপি ঋণের বিস্তার কিংবা আমানত ফেরত পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে তার প্রভাব শুধু আর্থিক ব্যবস্থায় সীমাবদ্ধ থাকে না; সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাবোধ ও প্রাতিষ্ঠানিক আস্থাতেও তার প্রভাব পড়ে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই শেষে দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলোর মোট আমানত ছিল প্রায় ২০ লাখ ৯৩ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। এক বছর আগের তুলনায় এই আমানত বেড়েছে ১১ দশমিক ৩৬ শতাংশ। একই সময়ে ব্যাংক খাতে মোট ঋণ ও অন্যান্য ব্যাংক-ঋণসদৃশ সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৫ লাখ ৮১ হাজার ৭৫ কোটি টাকা।  অর্থাৎ দেশের সঞ্চয় ব্যবস্থায় ব্যাংক এখনো একটি প্রধান মাধ্যম হিসেবে অবস্থান করছে। কিন্তু এই বিপুল আমানত ও ঋণের ব্যবস্থাপনা কতটা নিরাপদ ও সুশাসিত—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

    ঋণের চোরাবালিতে ব্যাংকিং খাত। ব্যাংকের অন্যতম প্রধান কাজ হলো মানুষের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করে সেই অর্থ উৎপাদনশীল খাতে ঋণ হিসেবে সরবরাহ করা। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিনিয়োগ, ব্যবসা, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ে। কিন্তু ঋণ যথাযথভাবে যাচাই না করে দেওয়া হলে, ঋণগ্রহীতার সক্ষমতা বিবেচনায় না নিলে কিংবা ঋণ আদায়ে কার্যকর ব্যবস্থা না থাকলে সেটিই ব্যাংকের জন্য বড় ঝুঁকিতে পরিণত হয়।

    বিশ্বব্যাংকের ২০২৬ সালের জুনের মূল্যায়নে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে দুর্বল করপোরেট সুশাসন, নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষকে ঋণ দেওয়ার মতো সমস্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০২৬ সালের মার্চ শেষে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের অনুপাত দাঁড়ায় ৩২ দশমিক ৬ শতাংশ, যেখানে দক্ষিণ এশিয়ার ব্যাংকগুলোর গড় ছিল ৭ দশমিক ৯ শতাংশ। একই সঙ্গে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকিং ব্যবস্থার ঝুঁকিভিত্তিক মূলধন পর্যাপ্ততার অনুপাত ঋণাত্মক ২ দশমিক ৬ শতাংশ ছিল।

    খেলাপি ঋণ বেড়ে গেলে ব্যাংকের আয় কমে, সম্ভাব্য ক্ষতির বিপরীতে সংরক্ষণ বা প্রভিশনের প্রয়োজন বাড়ে এবং মূলধনের ওপর চাপ তৈরি হয়। একই সঙ্গে ব্যাংকের তারল্য ব্যবস্থাপনাও কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে একটি ব্যাংকের ঋণ-সংক্রান্ত দুর্বলতা ধীরে ধীরে আমানতকারী, বিনিয়োগকারী এবং বৃহত্তর অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

    এই পরিস্থিতিতে ব্যাংকিং খাতের সংস্কারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও এসেছে। ২০২৬ সালের ২৪ জুন বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের আর্থিক খাত শক্তিশালী করতে ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থায়ন অনুমোদন করে। এর আওতায় আমানত সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি সক্ষমতা বাড়ানো, ব্যাংক পুনর্গঠন ও রেজল্যুশনের প্রস্তুতি এবং দুর্বল ব্যাংক মোকাবিলার কাঠামো উন্নয়নের মতো বিষয় রয়েছে।

    আমানতকারীর ভয় কোথা থেকে আসে? সাধারণ আমানতকারীর কাছে ব্যাংক বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ—টাকার নিরাপত্তা, প্রয়োজনের সময় টাকা তোলার সক্ষমতা এবং আমানতের বিপরীতে প্রত্যাশিত আয়। কোনো ব্যাংক সম্পর্কে নেতিবাচক খবর ছড়িয়ে পড়লে এই তিনটির প্রথমটিই সবচেয়ে বেশি প্রশ্নের মুখে পড়ে।

    একটি ব্যাংকের আর্থিক দুর্বলতার খবর শুনে কেউ যদি মনে করেন তাঁর টাকা সময়মতো পাওয়া নাও যেতে পারে, তখন তিনি অন্যদের আগে টাকা তুলে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। অনেক মানুষ একইভাবে আচরণ করলে তা আতঙ্কজনিত উত্তোলনে রূপ নিতে পারে। তখন গুজব নিজেই একটি আর্থিক ঝুঁকিতে পরিণত হতে পারে।

    এখানে মানুষের আচরণও গুরুত্বপূর্ণ। নিজের হাতে থাকা তথ্যের পাশাপাশি অন্যদের আচরণ দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা আর্থিক সংকটের সময়ে বেড়ে যায়। একজন আমানতকারী যখন দেখেন অন্যরা টাকা তুলছেন, তখন তিনিও মনে করতে পারেন যে দ্রুত টাকা তুলে নেওয়াই নিরাপদ। ফলে একটি গুজব বা অসম্পূর্ণ তথ্যও অল্প সময়ে বড় প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে আতঙ্কের গতি। বর্তমান সময়ে ব্যাংকিং-সংক্রান্ত তথ্য শুধু সংবাদপত্র বা টেলিভিশনের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছায় না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েক মিনিটের মধ্যে একটি তথ্য হাজারো মানুষের কাছে ছড়িয়ে পড়তে পারে। কোনো ব্যাংক সম্পর্কে সত্য, অর্ধসত্য কিংবা সম্পূর্ণ ভুল তথ্য—সবই একই গতিতে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পায়।

    তাই ব্যাংক সংকট মোকাবিলায় শুধু আর্থিক সক্ষমতা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন দ্রুত, নির্ভরযোগ্য ও স্বচ্ছ যোগাযোগব্যবস্থা। কোনো ব্যাংক সম্পর্কে গুজব ছড়ালে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীরবতা অনেক সময় অনিশ্চয়তা আরও বাড়াতে পারে। বিপরীতে যাচাইযোগ্য তথ্য, স্পষ্ট ব্যাখ্যা এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা আমানতকারীর উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করতে পারে।

    বিশ্বব্যাংকের ২০২৬ সালের প্রকল্পেও বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো আধুনিকায়ন, তথ্য বিশ্লেষণ এবং ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

    ব্যাংকের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা তখনই শক্তিশালী হয়, যখন তারা মনে করেন নিয়ম সবার জন্য সমান। একজন সাধারণ আমানতকারী তাঁর সীমিত সঞ্চয় ব্যাংকে রাখেন নিয়ম মেনে। অন্যদিকে বড় ঋণগ্রহীতার ক্ষেত্রে যদি ঋণ অনুমোদন, পুনঃতফসিল, আদায় কিংবা আইনগত ব্যবস্থায় দীর্ঘসূত্রতা দেখা যায়, তাহলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

    খেলাপি ঋণ কমানোর জন্য তাই শুধু নতুন আইন করলেই হবে না; ঋণ অনুমোদনের সময় যথাযথ যাচাই, ঋণ ব্যবহারের নজরদারি, সময়মতো আদায় এবং ইচ্ছাকৃত খেলাপির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা—সবগুলো একসঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে।

    ব্যাংকের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনায় সুশাসনও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট পক্ষকে ঋণ দেওয়া, স্বার্থের সংঘাত কিংবা দুর্বল তদারকি ব্যাংকের সম্পদের মান নষ্ট করতে পারে। ফলে আমানতকারীর সুরক্ষা শেষ পর্যন্ত ব্যাংকের ঋণ ব্যবস্থাপনা ও সুশাসনের সঙ্গেই যুক্ত।

    আমানতকারীর নিরাপত্তা জোরদারে ২০২৬ সালে আমানত সুরক্ষা ব্যবস্থায় নতুন আইনি কাঠামো এসেছে। নতুন আমানত সুরক্ষা আইনে একজন আমানতকারীর প্রতি সদস্য প্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত সুরক্ষার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সীমা স্থির নয়; ট্রাস্টি বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার সরকারি গেজেটের মাধ্যমে অন্তত প্রতি তিন বছরে একবার তা পুনর্নির্ধারণ করতে পারবে।

    এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার থাকা জরুরি—২ লাখ টাকা হলো আইনে নির্ধারিত সুরক্ষিত আমানতের সর্বোচ্চ সীমা। এর বেশি আমানতের ক্ষেত্রে অন্যান্য আইনগত দাবি বা অধিকার আলাদা বিষয়। অর্থাৎ এই সীমাকে এমনভাবে দেখা ঠিক নয় যে ২ লাখ টাকার বেশি অর্থের ওপর আমানতকারীর কোনো অধিকারই থাকে না।

    আমানত সুরক্ষা ব্যবস্থার উদ্দেশ্য হলো ব্যাংকিং খাতে কোনো প্রতিষ্ঠান সংকটে পড়লে ক্ষুদ্র আমানতকারীদের ওপর তার প্রভাব কমানো এবং আর্থিক ব্যবস্থার প্রতি আস্থা ধরে রাখতে সহায়তা করা। বিশ্বব্যাংকের ২০২৬ সালের আর্থিক খাত সহায়তা প্রকল্পেও ছোট আমানতকারীদের সুরক্ষা এবং আমানত সুরক্ষা তহবিল শক্তিশালী করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

    ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের নতুন ভূমিকা। কোনো ব্যাংক যখন মূলধন ঘাটতি, তারল্য সংকট, দেউলিয়াত্ব বা অস্তিত্বের জন্য গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়ে, তখন সমস্যাটি কীভাবে নিয়ন্ত্রিতভাবে মোকাবিলা করা হবে—এই প্রশ্নের জন্য ২০২৬ সালের ব্যাংক রেজল্যুশন আইন গুরুত্বপূর্ণ।

    আইনটির লক্ষ্য হলো সংকটে পড়া তফসিলি ব্যাংকের রেজল্যুশনের জন্য একটি নির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি করা, যাতে আমানতকারী ও আর্থিক ব্যবস্থার ওপর ক্ষতিকর প্রভাব কমানো যায়। একটি দুর্বল ব্যাংককে কোনো ব্যবস্থা ছাড়া চলতে দেওয়া যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি হঠাৎ করে অগোছালোভাবে বন্ধ করে দেওয়াও আমানতকারী ও অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

    এই আইনের ১৮(ক) ধারা নিয়ে পরে সমালোচনা তৈরি হয়। ওই ধারার আওতায় রেজল্যুশন প্রক্রিয়ায় যাওয়ার আগে ব্যাংকের শেয়ারধারী ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে পুনরায় ব্যাংকের শেয়ার, সম্পদ ও দায় অর্জনের জন্য আবেদন করার সুযোগ পেতে পারতেন।

    শেষ পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ২০২৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিল পাস করে ১৮(ক) ধারা বাতিল করে। সংসদে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, আইন কার্যকর হওয়ার পর ওই ধারার সব শর্ত পূরণ করে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আবেদন না করায় ধারাটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    খেলাপি ঋণ কমাতে কী করতে হবে? খেলাপি ঋণ কমানোর প্রথম ধাপ হওয়া উচিত ঋণ দেওয়ার আগেই ঝুঁকি যাচাই করা। ঋণগ্রহীতার আয়, ব্যবসার সক্ষমতা, পূর্ববর্তী ঋণ পরিশোধের ইতিহাস এবং ঋণের প্রকৃত উদ্দেশ্য যাচাই ছাড়া ঋণ দেওয়া হলে ভবিষ্যতে আদায়ের ঝুঁকি বাড়ে।

    দ্বিতীয়ত, ঋণ নেওয়ার পর সেই অর্থ কোথায় ব্যবহার হচ্ছে তা পর্যবেক্ষণ করতে হবে। তৃতীয়ত, ঋণখেলাপি হওয়ার পর দ্রুত ও কার্যকর আদায়ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তবে ব্যবসায়িক কারণে সাময়িক সমস্যায় পড়া এবং ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণ পরিশোধ না করা—এই দুই পরিস্থিতিকে একইভাবে দেখা উচিত নয়।

    খেলাপি ঋণ ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজন হলে আলাদা সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান গঠন নিয়েও আলোচনা হতে পারে। এমন প্রতিষ্ঠান সমস্যাগ্রস্ত ঋণ ও সম্পদ আলাদাভাবে ব্যবস্থাপনা করতে পারলে ব্যাংকের মূল কার্যক্রমে চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এ ধরনের কাঠামোর সাফল্য নির্ভর করবে স্বচ্ছতা, মূল্যায়নের নির্ভুলতা, জবাবদিহি এবং রাজনৈতিক বা স্বার্থগত প্রভাবমুক্ত ব্যবস্থাপনার ওপর।

    ব্যাংকিং খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার এখন শুধু দ্রুত লেনদেনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে কোনো ঋণগ্রহীতার আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন, পরিশোধের সক্ষমতায় অবনতি কিংবা কোনো ব্যাংকের ঝুঁকির সূচক আগেই শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বৃহৎ তথ্যভান্ডার বিশ্লেষণ ভবিষ্যতে ব্যাংকিং তদারকিতে আগাম ঝুঁকি শনাক্ত করার কার্যকর হাতিয়ার হতে পারে। তবে প্রযুক্তি নিজে কোনো সমস্যার সমাধান নয়। সঠিক তথ্য, দক্ষ জনবল, শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রক সিদ্ধান্তের সঙ্গে প্রযুক্তিকে যুক্ত করতে হবে।

    আমানতকারীর নিজেরও কিছু দায়িত্ব আছে। ব্যাংক নির্বাচন বা আমানত রাখার ক্ষেত্রে শুধু বেশি মুনাফার হার দেখলেই হবে না। ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা, সেবার মান, নিয়ন্ত্রক তথ্য এবং নির্ভরযোগ্য সংবাদ বিবেচনা করা প্রয়োজন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া কোনো পোস্ট বা বার্তাকে যাচাই না করে অন্যের কাছে ছড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়।

    একই সঙ্গে নিজের আমানতের হিসাব, নমিনি, হিসাবসংক্রান্ত কাগজপত্র এবং প্রয়োজনীয় ব্যাংক নথি সংরক্ষণ করাও আমানতকারীর দায়িত্ব। ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর আস্থা যেমন প্রয়োজন, তেমনি সচেতন আমানতকারীর আচরণও গুরুত্বপূর্ণ।

    সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা আস্থার। বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন শুধু কত টাকা আমানত আছে বা কত টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে—তা নয়। প্রশ্ন হলো, এই বিপুল অর্থের ব্যবস্থাপনা কতটা সুশাসিত, স্বচ্ছ এবং ঝুঁকি-সচেতন।

    একদিকে ব্যাংকিং খাতে আমানতের পরিমাণ বাড়ছে; অন্যদিকে খেলাপি ঋণ ও মূলধনসংক্রান্ত চাপ বড় বাস্তবতা হিসেবে সামনে এসেছে।  ফলে আমানতকারীর আস্থা রক্ষার জন্য একসঙ্গে কয়েকটি কাজ করতে হবে—ঋণের মান উন্নত করা, খেলাপি ঋণ কমানো, ব্যাংকের মূলধন শক্তিশালী করা, সুশাসন নিশ্চিত করা, কার্যকর তদারকি বাড়ানো এবং সংকটে পড়া ব্যাংকের জন্য স্বচ্ছ রেজল্যুশন ব্যবস্থা কার্যকর করা।

    সাধারণ মানুষ ব্যাংকে টাকা রাখেন মূলত একটি প্রত্যাশা নিয়ে—প্রয়োজনের সময় সেই টাকা পাওয়া যাবে। এই সাধারণ প্রত্যাশাটিই ব্যাংকিং ব্যবস্থার সামাজিক ভিত্তি। তাই ব্যাংক সংস্কারের সাফল্য শুধু নতুন আইন, নতুন প্রতিষ্ঠান বা বড় অঙ্কের অর্থায়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর চূড়ান্ত মাপকাঠি হবে সাধারণ আমানতকারী কতটা নিরাপদ বোধ করছেন এবং ব্যাংকের প্রতি তাঁর বিশ্বাস কতটা পুনর্গঠিত হচ্ছে।

    ঋণের চোরাবালি থেকে ব্যাংকিং খাতকে বের করে আনতে হলে তাই শুধু ঋণ আদায় নয়, পুরো ব্যবস্থাপনার সংস্কার প্রয়োজন। আর সেই সংস্কারের কেন্দ্রে থাকতে হবে আমানতকারীকে—কারণ ব্যাংকের সিন্দুকে জমা থাকা প্রতিটি টাকার পেছনে রয়েছে কোনো না কোনো মানুষের পরিশ্রম, পরিকল্পনা ও ভবিষ্যতের প্রত্যাশা।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    ব্যাংক

    নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের

    সেপ্টেম্বর 23, 2026
    ব্যাংক

    একত্রীকরণেই কি সংকট শেষ? ইসলামি ব্যাংকিংয়ের গভীর ক্ষত নিয়ে প্রশ্ন

    সেপ্টেম্বর 23, 2026
    ব্যাংক

    পুনঃঅর্থায়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সিটিজেনস ব্যাংকের তিন চুক্তি

    সেপ্টেম্বর 23, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.