Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice সোম, জুলাই 27, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে নীতিমালায় স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে
    মতামত

    বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে নীতিমালায় স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে

    নিউজ ডেস্কজুলাই 27, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    আজম জে চৌধুরী
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    বিশ্ব এখন ধীরে ধীরে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশকেও জ্বালানি খাতের রূপান্তরের দিকে এগোতে হবে। তবে এ জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি, স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য নীতিমালা। নীতি প্রণয়নে স্বচ্ছতা ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা না গেলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব নয়।

    জ্বালানি খাতের উন্নয়নে শুধু নতুন প্রযুক্তি বা বিনিয়োগ নয়, প্রয়োজন একটি সমন্বিত পরিকল্পনা। এ ধরনের আলোচনামূলক আয়োজনের মাধ্যমে সরকারি সংস্থা, ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও বিশেষজ্ঞরা একসঙ্গে বসলে বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা এবং কার্যকর সমাধানের পথ বের করা সম্ভব।

    বাংলাদেশের জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবস্থায় নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই জ্বালানি উৎসকে বহুমুখী করার পাশাপাশি অর্থনীতির প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি কার্যকর রূপান্তর পরিকল্পনা নিতে হবে। এ জন্য একটি জাতীয় পর্যায়ের কমিটি গঠন করে নিয়মিত মতবিনিময়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করা যেতে পারে।

    জ্বালানি খাতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো নীতির ধারাবাহিকতার অভাব। বিনিয়োগকারীদের আস্থা তৈরি করতে হলে নীতিমালা হতে হবে স্পষ্ট, স্থায়ী ও সবার জন্য বোধগম্য। কোনো নীতি পরিবর্তনের আগে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করাও গুরুত্বপূর্ণ।

    সৌর জ্বালানি খাতে শুল্ক সুবিধা নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, নীতি সহজ করার পরিবর্তে কিছু ক্ষেত্রে জটিলতা বেড়েছে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।

    এলএনজি, এলপিজি কিংবা নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে কেউ বিনিয়োগ করতে চাইলে তাকে একটি নির্ভরযোগ্য নীতি কাঠামোর নিশ্চয়তা দিতে হবে। ঘন ঘন নীতি পরিবর্তন হলে বড় বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি নিতে আগ্রহ হারান। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজন এমন একটি পরিবেশ, যেখানে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়।

    জ্বালানি সরবরাহের পূর্বানুমানযোগ্যতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিল্প উদ্যোক্তারা বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করে উৎপাদনে যেতে চান, কিন্তু পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত না হলে সেই বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়ে। বর্তমানে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তার কারণে বিভিন্ন শিল্পে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায়।

    সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি কার্যকর নিয়ন্ত্রক কাঠামো গড়ে তুলতে হলে নীতিতে স্থিতিশীলতা ও সরবরাহ ব্যবস্থায় পূর্বাভাসের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এই দুই বিষয় নিশ্চিত করা গেলে দেশীয় ও বিদেশি উভয় ধরনের বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে জ্বালানি রূপান্তরের লক্ষ্যও বাস্তবায়নের পথে এগোবে।

    নবায়নযোগ্য জ্বালানির পাশাপাশি প্রয়োজন বহুমুখী জ্বালানি ব্যবস্থা:

    টেকসই অর্থনীতির জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির গুরুত্ব বাড়ছে। তবে আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সক্ষমতা কাজে লাগালেও দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার বড় অংশ পূরণ করা সম্ভব হবে না। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ সময়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে সর্বোচ্চ ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত অবদান পাওয়া যেতে পারে। তাই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলপিজি, এলএনজি ও অন্যান্য জ্বালানি উৎসের সমন্বিত ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর নির্ভর করলে অর্থনীতির গতি ধরে রাখা কঠিন হবে। পর্যাপ্ত ও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত না হলে শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এর প্রভাব পড়বে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও। কারণ এসব প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন শিল্প প্রকল্পে বড় অঙ্কের অর্থায়ন করেছে। তাই জ্বালানি নীতি তৈরির সময় পুরো অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ঝুঁকিও বিবেচনায় রাখতে হবে।

    জ্বালানি খাতে ঝুঁকি কমানোর জন্য কার্যকর ব্যবস্থাও প্রয়োজন। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার ক্ষেত্রেও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সুযোগ তৈরি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকার যদি একটি কার্যকর বীমা কাঠামো চালু করতে পারে, তাহলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে এবং সংকট মোকাবিলায় একটি নিরাপদ ব্যবস্থা তৈরি হবে।

    জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে এলএনজি ও এলপিজি অবকাঠামো নিয়ে আলোচনা হচ্ছে—এসব স্থাপনা ভাসমান হবে নাকি স্থায়ীভাবে নির্মাণ করা হবে, তা নিয়ে দীর্ঘ সময় ব্যয় হচ্ছে।

    বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রবন্দরগুলোকে কাজে লাগিয়ে জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে। বেসরকারি খাতকে যুক্ত করে স্থলভিত্তিক টার্মিনাল ও জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলার সুযোগ দেওয়া হলে দেশের জ্বালানি সক্ষমতা বাড়বে। বিশেষ করে মাতারবাড়ীকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি জ্বালানি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে।

    বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি পণ্যের দাম বাড়লে বাংলাদেশকে অনেক সময় বেশি দামে জ্বালানি কিনতে হয়। এটি প্রকৃত অর্থে জ্বালানি নিরাপত্তার নির্দেশ করে না। দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য দেশে বড় আকারের জ্বালানি অবকাঠামো ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

    সংশ্লিষ্টদের মতে, টার্মিনাল নির্মাণ বা বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে শুধু সরকারি উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে বিনিয়োগকারীদের প্রস্তাব দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা উচিত। তারা পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ প্রস্তাব নিয়ে এলে দ্রুত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ সহজ করতে হবে।

    আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল সংস্থা (আইএমও) ২০৩০ সালের পর বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি ব্যবহারের বিষয়ে প্রস্তুতির কথা বলছে। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশকেও দ্রুত পরিকল্পনা নিতে হবে। দেশে বিনিয়োগ প্রস্তাব জমা দেওয়ার পর দীর্ঘসূত্রতা কমানো জরুরি।

    বাংলাদেশের জ্বালানি নিয়ে প্রচলিত কিছু ধারণা পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে। দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বর্তমানে চাহিদার তুলনায় বেশি। কিন্তু উৎপাদিত বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে। গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত সঞ্চালন ও বিতরণ লাইন। পাশাপাশি বন্দরের সক্ষমতাও বাড়াতে হবে। কারণ জ্বালানি আমদানি ও শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহের ক্ষেত্রে বন্দরের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বর্তমানে বন্দরের কার্যক্রমে কিছু উন্নতি হলেও পণ্য খালাস ও সরবরাহ ব্যবস্থায় এখনো বিলম্বের অভিযোগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানের ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাস্টমস ও বন্দর কার্যক্রম আরও দ্রুত করার প্রয়োজন রয়েছে।

    বিশ্বের অধিকাংশ দেশের নিজস্ব বড় জ্বালানি টার্মিনাল ও মজুত ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে এখনো বড় আকারের জ্বালানি সংরক্ষণ অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। বর্তমানে যে পরিমাণ মজুত সক্ষমতা রয়েছে, তা বাংলাদেশের মতো ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির জন্য যথেষ্ট নয়। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় আকারের জ্বালানি টার্মিনাল, সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও সরবরাহ অবকাঠামো তৈরি করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমেই দেশের জ্বালানি রূপান্তর সফল করা সম্ভব।

    জ্বালানি খাতের উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে বাস্তবে পিপিপি প্রক্রিয়া এখনো অনেক ধীরগতির বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বেসরকারি খাত থেকে কোনো উদ্যোগ বা প্রস্তাব এলেও অনেক সময় তা দ্রুত বাস্তবায়নের পর্যায়ে যেতে পারে না।

    পিপিপির আওতায় প্রকল্প নিতে হলে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া যদি আগের মতোই দীর্ঘ হয়, তাহলে বড় বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা কঠিন হবে। সরকার সম্প্রতি পিপিপি কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (বিডা) সমন্বয় করে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ উদ্যোগ নিয়েছে। এখন এই উদ্যোগ কত দ্রুত বিনিয়োগকারীদের সমস্যার সমাধান করতে পারে, সেটিই বড় বিষয়।

    জ্বালানি রূপান্তরের আলোচনায় শুধু উৎপাদন নয়, পাইকারি পর্যায়ের জ্বালানি ব্যবস্থাপনাকেও গুরুত্ব দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে হাইড্রোজেন, জ্বালানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং স্মার্ট জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর নজর দিতে হবে। বর্তমানে হাইড্রোজেন উৎপাদন ব্যয়বহুল হলেও ভবিষ্যতের জন্য এটি একটি সম্ভাবনাময় জ্বালানি। পাশাপাশি কার্যকর সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা আনা সম্ভব হবে।

    স্মার্ট প্রযুক্তির ব্যবহারেও বড় পরিবর্তন আনা যেতে পারে। বর্তমানে গ্যাস ও তেলের পাইপলাইন ব্যবস্থায় ৫ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত সিস্টেম লস হচ্ছে। উন্নত দেশগুলোতে এ ধরনের ক্ষতি অনেক কম। প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা, বিশেষ করে ভৌগোলিক তথ্য ব্যবস্থা (জিআইএস) ও সুপারভাইজরি কন্ট্রোল অ্যান্ড ডাটা অ্যাকুইজিশন (স্কাডা) ব্যবস্থার মাধ্যমে পাইপলাইনের কোথায় সমস্যা হচ্ছে তা দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব।

    জ্বালানি রূপান্তরের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষাও এখন বড় বিষয়। তাই কার্বন ও সালফারের নিঃসরণ কম হয়—এমন জ্বালানি ব্যবহারের পরিমাণ বাড়াতে হবে। শুধু প্রচলিত জ্বালানি ব্যবহার করে ভবিষ্যতের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়। সৌর, পারমাণবিক, প্রাকৃতিক গ্যাস ও হাইড্রোজেনসহ বিভিন্ন উৎসকে সমন্বিত করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ জ্বালানি কাঠামো তৈরি করতে হবে।

    তবে নতুন জ্বালানি উৎস ব্যবহারের আগে এর প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, উৎপাদন সক্ষমতা ও বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করা জরুরি। এ জন্য গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ উদ্ভাবনের মাধ্যমে জ্বালানি খাতে এগিয়ে যাচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়া হাইড্রোজেন ব্যবহারে অবকাঠামো উন্নয়নের উদাহরণ তৈরি করেছে। সেখানে বিস্তৃত হাইড্রোজেন ফিলিং স্টেশন গড়ে তোলা হয়েছে, যাতে যানবাহনে সহজে জ্বালানি সরবরাহ করা যায়। বাংলাদেশেও প্রকৌশলী ও গবেষকদের যুক্ত করে স্থানীয় প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের সুযোগ রয়েছে।

    জ্বালানি ও পানি ব্যবস্থাপনায় নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারেও বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশ সমুদ্রের পানি পরিশোধন প্রযুক্তি ব্যবহার করে একদিকে সুপেয় পানি তৈরি করছে, অন্যদিকে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। সৌরশক্তি ব্যবহার করে সমুদ্রের পানি পরিশোধনের প্রযুক্তি বাংলাদেশেও সম্ভাবনাময় হতে পারে। নদীমাতৃক দেশ হিসেবে ভাসমান সৌরচালিত পানি পরিশোধন প্রকল্প চালুর সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া সূর্যালোক থেকে সরাসরি হাইড্রোজেন উৎপাদনের মতো প্রযুক্তি নিয়েও বিশ্বে গবেষণা চলছে। ভবিষ্যতে এসব প্রযুক্তি সৌরশক্তি সংরক্ষণ ও সরবরাহে নতুন পথ তৈরি করতে পারে।

    জ্বালানি রূপান্তরের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো অর্থায়ন। তবে দেশের ব্যাংকগুলোকে সবুজ জ্বালানি খাতে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। অনেক ব্যাংকেরই সবুজ জ্বালানিতে অর্থায়নের সক্ষমতা রয়েছে। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ব্যাংকার, বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তাদের নিয়ে নিয়মিত আলোচনা করা গেলে অর্থায়নের পথ সহজ হতে পারে। কারণ নবায়নযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাত দেশের জন্য তুলনামূলক নতুন। তাই এই খাতের সম্ভাবনা ও ঝুঁকি সম্পর্কে ব্যাংকগুলোকে ধারণা দেওয়া প্রয়োজন।

    শিল্প ও আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা অনেকাংশেই নির্ভর করছে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের ওপর। কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে শুধু উদ্যোক্তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হন না, ওই প্রতিষ্ঠানে অর্থায়ন করা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানও ঝুঁকিতে পড়ে।

    তাই জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের ঝুঁকি কমাতে বিশেষ বীমা ব্যবস্থা চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। বিশেষ করে বাসাবাড়ির সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা বা ছাদভিত্তিক সৌর প্রকল্পে বিনিয়োগকারীদের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা দুর্ঘটনার ঝুঁকি মোকাবিলায় এ ধরনের উদ্যোগ সহায়ক হতে পারে।

    ঝুঁকি কমানোর ব্যবস্থা, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন—এই তিনটি বিষয় নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশে জ্বালানি রূপান্তরের পথ আরও শক্তিশালী হবে। দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন একটি জ্বালানি ব্যবস্থা তৈরি করা, যা অর্থনীতিকে গতিশীল রাখবে এবং ভবিষ্যতের চাহিদা পূরণে সক্ষম হবে।

    • আজম জে চৌধুরী: চেয়ারম্যান, ইস্ট কোস্ট গ্রুপ
    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    আইন আদালত

    ধর্ষণের প্রমাণ নাকি দ্বিতীয়বার নির্যাতন? টু ফিঙ্গার টেস্টের আইনি লড়াই

    জুলাই 27, 2026
    সম্পাদকীয়

    ব্যাংক খাতের নতুন দিশা: প্রযুক্তির ছোঁয়া ও সুশাসন

    জুলাই 26, 2026
    মতামত

    মার্কিন মুসলিমদের কেন ডিএইচএসের কাছে নিরাপত্তা চাইতে বলছে কায়ার?

    জুলাই 26, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.