বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাজেট নিয়ে আলোচনা হলে আমরা সাধারণত একটি সংখ্যার দিকে তাকাই—এবার কত হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু একটি দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বোঝার জন্য শুধু মোট বরাদ্দ জানা যথেষ্ট নয়। বরং আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, এই টাকার কত অংশ জনবল ও বেতন-ভাতায় যাচ্ছে, কত অংশ দৈনন্দিন পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় হচ্ছে এবং কত অংশ দিয়ে নতুন সামরিক সক্ষমতা তৈরি হচ্ছে।
২০২৬–২৭ অর্থবছরে প্রতিরক্ষা সেবার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪২ হাজার ২৯১ কোটি টাকা। এর মধ্যে পরিচালন ব্যয় ৩৮ হাজার ৭২১ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন ব্যয় ১ হাজার ৬১১ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রতিরক্ষা সেবার বরাদ্দের প্রায় ৯১ দশমিক ৬ শতাংশ পরিচালন ব্যয় এবং মাত্র ৩ দশমিক ৮ শতাংশ উন্নয়ন ব্যয়।
এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা দরকার। পরিচালন ব্যয়ের পুরোটা বেতন-ভাতা নয়। এর মধ্যে জনবল ব্যয়ের পাশাপাশি জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ, প্রশিক্ষণ, রসদ, পরিবহন ও অন্যান্য দৈনন্দিন ব্যয়ও রয়েছে। একইভাবে উন্নয়ন ব্যয়ের পুরোটাই নতুন অস্ত্র কেনার অর্থ নয়।
কিন্তু সমস্যাটি হলো নতুন সামরিক সরঞ্জাম ও সক্ষমতা তৈরিতে প্রকৃতপক্ষে জনগণের প্রদত্ত করের কত টাকা যাচ্ছে এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর কি আমরা পাচ্ছি?
প্রতিরক্ষা বাজেটের একটি বড় অংশ যদি বিদ্যমান জনবল ও ব্যবস্থাপনা সচল রাখতে ব্যয় হয়, তাহলে নতুন যুদ্ধবিমান, ট্যাংক, যুদ্ধজাহাজ, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন, যোগাযোগ ও নজরদারি প্রযুক্তি কিংবা অন্যান্য আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহের জন্য প্রকৃত আর্থিক পরিসর কতটুকু এটি জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা শুধু সৈন্য সংখ্যা বা মোট বাজেটের অঙ্ক দিয়ে নির্ধারিত হয় না। আধুনিক সামরিক সক্ষমতার জন্য প্রয়োজন প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ, অস্ত্র, রক্ষণাবেক্ষণ, অবকাঠামো এবং নিয়মিত আধুনিকায়ন।
সাম্প্রতিক কিছু দূর্ঘটনাও এ প্রশ্নকে আরও প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে ঢাকার উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুলে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি এফ–৭ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা দেশকে নাড়া দিয়েছিল। এফ–৭ যুদ্ধবিমানের মূল নকশাগত উৎস শীতল যুদ্ধের সময়কালীন সোভিয়েত মিগ–২১-এর সঙ্গে সম্পর্কিত চীনা জে–৭ যুদ্ধবিমান। বাংলাদেশ যে এফ–৭বিজিআই সংস্করণ ব্যবহার করে, সেটি অবশ্য পুরোনো মূল নকশার ওপর উল্লেখযোগ্য আধুনিকায়ন করা সংস্করণ। তাই এটিকে সরাসরি কয়েক দশক আগের মিগ–২১ বলা ঠিক হবে না।
সাম্প্রতিক হাটহাজারীর ট্যাংক বিস্ফোরণের ঘটনাও একই ধরনের প্রশ্ন সামনে এনেছে। ওই ট্যাংকটি চীনা টাইপ–৫৯ শ্রেণির বলে সংবাদমাধ্যমে এসেছে, যার মূল নকশা শীতল যুদ্ধের সময়কালীন সোভিয়েত টি–৫৪ ট্যাংকের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে কোনো দুর্ঘটনার কারণ কেবল যন্ত্রের বয়স কিংবা পুরানো যুগের নকশা, তদন্তের আগে এমন সিদ্ধান্তে যাওয়া সমীচীন নয়।
তবু জনমনে যে প্রশ্নটি থেকেই যায়: আমরা কি পুরোনো সামরিক সরঞ্জামের জীবনকাল বাড়াতে বেশি অর্থ ব্যয় করছি, নাকি নতুন সামরিক সক্ষমতা তৈরির জন্য যথেষ্ট বিনিয়োগ করছি?
এই প্রশ্ন করা সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া নয়। বরং একটি শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীর জন্যই এই প্রশ্ন জরুরি।
আর এই প্রশ্নের উত্তর চাওয়ার সবচেয়ে স্বাভাবিক জায়গা হলো—জাতীয় সংসদ।
অর্থের ওপর সংসদের সাংবিধানিক কর্তৃত্ব- বাংলাদেশের সংবিধান সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সংসদের কর্তৃত্বকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
সংবিধানের ৮৩ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সংসদের আইনের কর্তৃত্ব ছাড়া কোনো কর আরোপ বা সংগ্রহ করা যাবে না। ৮৪ অনুচ্ছেদে সংযুক্ত তহবিল ও সরকারি হিসাবের কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। ৮৫ অনুচ্ছেদে সরকারি অর্থের হেফাজত, সংযুক্ত তহবিল থেকে অর্থ প্রদান ও উত্তোলনের বিষয় আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এরপর আসে আরও গুরুত্বপূর্ণ ৮৯ ও ৯০ অনুচ্ছেদ। সরকারি ব্যয়ের দাবিগুলো সংসদের সামনে উপস্থাপন করা হয় এবং সংসদ সেগুলো অনুমোদন, প্রত্যাখ্যান বা কমাতে পারে। সংসদের অনুমোদন ছাড়া সংযুক্ত তহবিল থেকে অর্থ ব্যয়ের সাংবিধানিক সুযোগ নেই। অর্থাৎ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দও সংসদের বাইরে কোনো বিষয় নয়।
সংসদ যখন জনগণের অর্থ থেকে ৪২ হাজার কোটি টাকার বেশি প্রতিরক্ষা ব্যয়ের অনুমোদন দেয়, তখন সেই ব্যয়ের উদ্দেশ্য, কাঠামো ও ফলাফল সম্পর্কে প্রশ্ন করার অধিকার এবং দায়িত্ব দুটিই সংসদের রয়েছে।
তাহলে প্রশ্ন হলো, সংসদ কি শুধু মোট অঙ্ক অনুমোদন করবে, নাকি দেখতে চাইবে সেই অঙ্কের ভেতরের বাস্তব চিত্রও?
সংসদ সদস্যের প্রশ্নের সুযোগ কোথায়?
সংসদীয় কার্যপ্রণালিতে সংসদ সদস্যদের সরকারের কাছে প্রশ্ন করার ব্যবস্থা রয়েছে। একজন সংসদ সদস্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর কাছে জানতে চাইতে পারেন—প্রতিরক্ষা বাজেটের কত অংশ জনবল ব্যয়ে যাচ্ছে, কত অংশ রক্ষণাবেক্ষণে যাচ্ছে এবং কত অংশ নতুন সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহে ব্যয় হচ্ছে।
এ ধরনের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে কোনো গোপন সামরিক অবস্থান বা যুদ্ধকৌশল প্রকাশ করার প্রয়োজন নেই।
উদাহরণ হিসেবে প্রশ্নটি হতে পারে: “২০২৬–২৭ অর্থবছরে প্রতিরক্ষা সেবার মোট বরাদ্দের মধ্যে নতুন সামরিক সরঞ্জাম ও সক্ষমতা অর্জনের জন্য কত টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে?”
আরও একটি প্রশ্ন হতে পারে: “গত পাঁচ বছরে পুরোনো যুদ্ধবিমান, ট্যাংক ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জামের রক্ষণাবেক্ষণ ও জীবনকাল বৃদ্ধির জন্য মোট কত টাকা ব্যয় হয়েছে এবং একই সময়ে নতুন সরঞ্জাম সংগ্রহে কত টাকা ব্যয় হয়েছে?”
এগুলো সামরিক গোপনীয়তার প্রশ্ন নয়। এগুলো জনগণের অর্থ ব্যবহারের প্রশ্ন।
সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ভূমিকা- সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদ সংসদীয় কমিটির সাংবিধানিক ভিত্তি দিয়েছে। সংসদীয় কমিটির অন্যতম উদ্দেশ্য হলো নির্বাহী বিভাগের কাজের ওপর নজরদারি করা এবং সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম পরীক্ষা করা।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি তাই শুধু প্রশাসনিক বিষয় পর্যালোচনার জায়গা নয়। প্রতিরক্ষা খাতে জনগণের অর্থ কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, সেই প্রশ্নও তার আলোচনার আওতায় আসতে পারে।
এই কমিটি নিয়মিতভাবে জানতে চাইতে পারে: মোট বরাদ্দের কত অংশ বেতন ও ভাতা; কত অংশ পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ; কত অংশ নতুন সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ; কত অংশ পুরোনো সরঞ্জামের সংস্কার ও জীবনকাল বৃদ্ধিতে; বড় সামরিক ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রকল্পের অনুমোদিত ব্যয় কত; প্রকৃত ব্যয় কত হয়েছে; নির্ধারিত সময়ের তুলনায় বাস্তবায়ন কতটা এগিয়েছে; এবং ব্যয়ের বিনিময়ে কী ধরনের সামরিক সক্ষমতা অর্জিত হয়েছে।
সংসদীয় কমিটির প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, নথি ও কাগজপত্র তলব করার এবং বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়ারও সুযোগ রয়েছে।
অর্থাৎ সংসদের হাতে একেবারে কোনো ক্ষমতা নেই—বিষয়টি এমন নয়। প্রশ্ন হলো, এই ক্ষমতাগুলো কতটা সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
প্রাক্কলন কমিটির প্রশ্নও হওয়া উচিত- প্রতিরক্ষা বাজেটের ক্ষেত্রে সংসদের প্রাক্কলন কমিটির ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ।
একটি বাজেটের প্রশ্ন শুধু ‘টাকা আছে কি না’এতটুকু নয়। সরকারি অর্থ সাশ্রয়ী, প্রয়োজনীয় ও কার্যকরভাবে ব্যয় হচ্ছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
ধরা যাক, পুরোনো কোনো সামরিক প্ল্যাটফর্মকে আরও ১০ বছর সচল রাখতে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হবে। একই সময়ে নতুন একটি প্ল্যাটফর্ম সংগ্রহের বিকল্প রয়েছে। কোনটি দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রের জন্য বেশি অর্থনৈতিক ও কার্যকর—এটি নিছক সামরিক কৌশলের প্রশ্ন নয়; এটি সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনারও প্রশ্ন। প্রতিরক্ষা খাত ও এই কাঠামোর বাইরে নয়।
জাতীয় নিরাপত্তা কি সব প্রশ্নের উত্তর?
এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আপত্তি আসতে পারে প্রতিরক্ষা খাত তো জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। সব তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়। অবশ্যই সম্ভব নয়।
কোন অস্ত্র কোথায় মোতায়েন, কোনো যুদ্ধবিমানের নির্দিষ্ট দুর্বলতা, সামরিক পরিকল্পনা, গোয়েন্দা সক্ষমতা কিংবা যুদ্ধকৌশল প্রকাশ করা রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
কিন্তু ‘কোন অস্ত্র কোথায় মোতায়েন’ এবং ‘অস্ত্র কেনার জন্য রাষ্ট্র কত টাকা ব্যয় করেছে’ এই দুটি বিষয় এক নয়।
একটি যুদ্ধবিমানের নির্দিষ্ট কারিগরি দুর্বলতা গোপন রাখা যেতে পারে। কিন্তু পুরো বহরের রক্ষণাবেক্ষণে গত পাঁচ বছরে কত টাকা ব্যয় হয়েছে এটি একটি আর্থিক প্রশ্ন।
কোনো নির্দিষ্ট অস্ত্রব্যবস্থার যুদ্ধক্ষমতা গোপন থাকতে পারে। কিন্তু নতুন অস্ত্র সংগ্রহের জন্য বাজেটে মোট কত টাকা বরাদ্দ হয়েছে এটি সংসদীয় আর্থিক নজরদারির প্রশ্ন হতে পারে।
তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এ জাতীয় নিরাপত্তাসহ নির্দিষ্ট কিছু তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে অব্যাহতির বিধান রয়েছে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে ‘প্রতিরক্ষা’ শব্দটি উচ্চারণ করলেই সংশ্লিষ্ট সব আর্থিক তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে গোপন হয়ে যাবে। জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজনীয় গোপনীয়তা এবং জনগণের অর্থের আর্থিক জবাবদিহি এই দুটির মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
সংসদে নতুন ধরনের প্রতিরক্ষা বাজেট আলোচনা দরকার- আমাদের সংসদে প্রতিরক্ষা বাজেট আলোচনার ধরন বদলানো দরকার। শুধু মোট বরাদ্দ কত হলো এটি জানানো যথেষ্ট নয়। অন্তত এমন একটি কাঠামো দরকার, যেখানে সংসদ জানতে পারবে: জনবল ব্যয় কত, পরিচালন ব্যয় কত, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কত, পুরোনো সরঞ্জাম সচল রাখতে কত, নতুন সরঞ্জাম কিনতে কত, এবং নতুন সরঞ্জাম থেকে কী ধরনের সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য রয়েছে।
এতে সামরিক গোপনীয়তা নষ্ট হবে না। বরং বাজেটের প্রতি জনগণের আস্থা বাড়বে। আর সংসদীয় কমিটিগুলোকে শুধু কাগজে-কলমে নয়, বাস্তবে আরও সক্রিয় হতে হবে। বড় প্রতিরক্ষা প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি, ব্যয়ের পরিবর্তন, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা এবং প্রত্যাশিত সক্ষমতা নিয়ে নিয়মিত পর্যালোচনা করা যেতে পারে।
প্রতিরক্ষা বাজেটের ক্ষেত্রে একটি নতুন ধারণা প্রয়োজন: ‘কত টাকা খরচ হলো’ নয়, ‘কত টাকায় কী সক্ষমতা তৈরি হলো’ এই হিসাব। কারণ ৪২ হাজার কোটি টাকা আমাদের মত ঋণগ্রস্থ দেশের জন্য একটি বিশাল অঙ্ক। কিন্তু যদি এর অধিকাংশ বিদ্যমান কাঠামো সচল রাখতেই ব্যয় হয়, তাহলে ভবিষ্যতের সামরিক আধুনিকায়নের জন্য রাষ্ট্রের হাতে কতটা জায়গা থাকে সেটিও জনগ্ণকে জানানো জরুরি। বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী শক্তিশালী হোক এটি প্রত্যেক সুনাগরিকের জাতীয় স্বার্থ। আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত প্রশিক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের সামরিক সরঞ্জামে আমাদের সক্ষমতা বাড়ুক এটিও জাতীয় স্বার্থ। কিন্তু জনগণের অর্থে সেই সক্ষমতা কীভাবে তৈরি হচ্ছে, তার ওপর সংসদীয় নজরদারি থাকাও সমানভাবে জাতীয় স্বার্থ।
প্রতিরক্ষা বাজেট নিয়ে প্রশ্ন করা মানে প্রতিরক্ষা বাহিনীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া নয়। বরং জনগণের অর্থের প্রতি সংসদের সাংবিধানিক দায়িত্বকে কার্যকর করা।
তাই বাজেট অধিবেশনে শুধু এই প্রশ্ন নয় যে— “প্রতিরক্ষা বাজেট কত?”
তার সঙ্গে আরও একটি প্রশ্ন শোনা দরকার: “এই ৪২ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে নতুন প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দেওয়ার জন্য প্রকৃতপক্ষে কত টাকা বরাদ্দ?”
আর সেই প্রশ্নের উত্তর চাওয়ার জায়গা হলো—জাতীয় সংসদ।
- এডভোকেট শামস নজীব আর্ক
আইনজীবী ও কলামিস্ট

