রাঙামাটির সাজেকে আলোড়ন সৃষ্টিকারী শান্তি লাল চাকমা হত্যা মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে রাঙামাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।
আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, নিহত ব্যক্তির নিজের ছেলে এবং ভাতিজাই এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রমাণিত হয়েছে। ২০১৭ সালের আগস্ট মাসের এক রাতে সাজেক থানার ভাইবোন ছড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, রাতের খাবার শেষে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে ভুক্তভোগীকে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর মরদেহ একটি নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল, যা আট দিন পর অন্য একটি নদী থেকে গলিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সতেরো জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এছাড়া দুই অভিযুক্তই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে আদালত দুই আসামিকেই মৃত্যুদণ্ড ও পঞ্চাশ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডের রায় দেন। মামলার একজন আসামি বিচার চলাকালে পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে, অন্যদিকে উপস্থিত আসামিকে সাজা পরোয়ানার মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রায়ের পর স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্স অনুমোদনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
রায় ঘোষণার সময় আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, এ ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড সমাজে বিরল এবং মানবসভ্যতার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
আসামিপক্ষের একজন আইনজীবী দাবি করেছেন, মূল অভিযুক্ত জামিনে থাকা অবস্থায় পলাতক হয়েছেন, আর নিহতের ছেলের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে তাঁর ভাষ্য। তাঁর মতে, পারিবারিক বিরোধের জের ধরে তাঁকে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে। রায়ের বিরুদ্ধে পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছেন তিনি।

