ঢাকাকে আধুনিক মহানগর হিসেবে গড়ে তুলতে একের পর এক উড়ালসড়ক, মেট্রোরেল, প্রশস্ত সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে। কিন্তু এই উন্নয়নের আড়ালে নাগরিক জীবনের একটি মৌলিক সংকট ক্রমেই প্রকট হচ্ছে- পর্যাপ্ত ও পরিচ্ছন্ন গণশৌচাগারের অভাব। রাজধানীর ফুটপাত, সড়কের দেয়াল, পার্ক, উড়ালসড়কের নিচের অংশ, সরকারি স্থাপনার সীমানাতে জনপরিসরেই প্রকাশ্যে মূত্রত্যাগ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের দৃশ্য দেখা যায়। কোথাও মানববর্জ্য ও দুর্গন্ধে পথচারীদের চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। প্রশ্ন হলো, যে শহরে প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ কাজ, চিকিৎসা, শিক্ষা ও ব্যবসার প্রয়োজনে ঘরের বাইরে বের হন, সেই শহরে তাঁদের জন্য ন্যূনতম শৌচাগার সুবিধা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না কেন? নাগরিকের কাছ থেকে পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলা প্রত্যাশা করা হচ্ছে, অথচ সেই শৃঙ্খলা মেনে চলার প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরিতে নগর কর্তৃপক্ষের এত ঘাটতি কেন?
দেড় কোটি পথচারী, গণশৌচাগার মাত্র ১৪৮টি
ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) সাম্প্রতিক গবেষণার বরাত দিয়ে ২০২৬ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত দ্য ডেইলি স্টার-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকায় প্রতিদিন প্রায় দেড় কোটি পথচারী যাতায়াত করেন। তাঁদের জন্য ব্যবহৃত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী প্রয়োজন প্রায় ১ হাজার ৫০০টি গণশৌচাগার। অথচ রাজধানীতে স্থায়ী গণশৌচাগার রয়েছে ১৩১টি এবং ভ্রাম্যমাণ শৌচাগার ১৭টি—সব মিলিয়ে ১৪৮টি। অর্থাৎ এই হিসাব অনুযায়ী প্রয়োজনের তুলনায় বিদ্যমান শৌচাগারের সংখ্যা ১০ শতাংশেরও কম। সংখ্যার হিসাবে ঘাটতি প্রায় ১ হাজার ৩৫২টি।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন। দেড় কোটি বলতে দেড় কোটি পৃথক ব্যক্তি বোঝায় না; এটি দৈনিক পথচারী যাতায়াত বা চলাচলের হিসাব। একই ব্যক্তি দিনে একাধিকবার যাতায়াত করলে সেই চলাচলও হিসাবে আসতে পারে। একইভাবে ১ হাজার ৫০০টি শৌচাগারের হিসাবটি আইপিডির উল্লেখ করা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের ভিত্তিতে করা প্রয়োজনীয়তার হিসাব, বাংলাদেশের কোনো বাধ্যতামূলক আইনগত কোটা নয়। তবু এই পরিসংখ্যান রাজধানীর স্যানিটেশন অবকাঠামোর ঘাটতির ভয়াবহতা বোঝার জন্য যথেষ্ট।
অন্যদিকে, খসড়া ঢাকা স্ট্রাকচার প্ল্যান ২০১৬–২০৩৫-এ প্রতি দুই হাজার মানুষের জন্য একটি এবং প্রতি বর্গকিলোমিটারে আটটি গণশৌচাগারের মানদণ্ড বিবেচনায় ২ হাজার ৪০০টির বেশি শৌচাগারের প্রয়োজনীয়তার হিসাব উঠে এসেছিল। এখানে দুটি হিসাবের ভিত্তি আলাদা- একটি দৈনিক পথচারী চলাচল, অন্যটি জনসংখ্যা ও নগর এলাকার আয়তন। তাই এগুলোকে একই জরিপের ফল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং প্রশ্ন হলো, এত বছর ধরে পরিকল্পনা ও প্রয়োজনীয়তার হিসাব সামনে থাকার পরও রাজধানীতে পর্যাপ্ত গণশৌচাগার নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা গেল না কেন?
মেট্রোরেল ও উড়ালসড়ক নির্মাণ নিঃসন্দেহে নগরের যোগাযোগব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু প্রতিদিন যাঁরা বাস, রিকশা, ট্রেন কিংবা ব্যক্তিগত যানবাহনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলাচল করেন, তাঁদের জন্য পরিচ্ছন্ন শৌচাগারের ব্যবস্থা কি উন্নয়ন পরিকল্পনার বাইরে থাকবে? একটি শহরের উন্নয়ন কি শুধু যানবাহনের গতি দিয়ে পরিমাপ করা হবে, নাকি নাগরিকের মৌলিক প্রয়োজন পূরণের সক্ষমতাও এর মানদণ্ড হবে?
পাঁচ-দশ টাকার নাগরিক বৈষম্য
গণশৌচাগারের সংকটের সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছেন রিকশাচালক, বাসচালক, হকার, দিনমজুর, নির্মাণশ্রমিক, নিরাপত্তাকর্মী ও অন্যান্য নিম্ন আয়ের পেশাজীবীরা। তাঁদের কর্মস্থল মূলত রাস্তাঘাট ও জনপরিসর। দিনের বড় অংশ তাঁদের ঘরের বাইরে কাটাতে হয়। অথচ প্রয়োজনের সময় কাছাকাছি শৌচাগার না পেলে তাঁদের দূরে যেতে হয়, দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় কিংবা বাধ্য হয়ে অস্বাস্থ্যকর কোনো জায়গার আশ্রয় নিতে হয়। অনেক গণশৌচাগারে প্রবেশের জন্য নির্ধারিত ফি দিতে হয়। ফলে দৈনিক আয় থেকে বারবার এই খরচ বহন করাও কারও কারও জন্য বাড়তি চাপ হয়ে দাঁড়ায়।
এখানে রাষ্ট্রের কাছে একটি মৌলিক প্রশ্ন হলো, নাগরিকের শৌচাগার ব্যবহারের অধিকার কি তার আর্থিক সামর্থ্যের ওপর নির্ভর করবে? যাঁরা প্রতিদিন শহরের অর্থনীতি সচল রাখছেন, তাঁদের জন্য ন্যূনতম স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করা কি সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব নয়? অন্তত গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগমস্থলে বিনা মূল্যে অথবা ভর্তুকিতে শৌচাগার ব্যবহারের সুযোগ রাখা যায় কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। কারণ পরিচ্ছন্ন শৌচাগার কোনো বিলাসী নাগরিক সুবিধা নয়; এটি জনস্বাস্থ্য ও মানবিক মর্যাদার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
নারী ও প্রতিবন্ধীদের জন্য গণশৌচাগার কতটা নিরাপদ?
এই সংকটের সবচেয়ে সংবেদনশীল দিক হলো নারী ও কিশোরীদের ভোগান্তি। একজন পুরুষ যেখানে প্রয়োজনে তুলনামূলক সহজে বিকল্প জায়গা খুঁজে নিতে পারেন, সেখানে নারীদের জন্য নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন শৌচাগারের অভাব অনেক বেশি জটিল পরিস্থিতি তৈরি করে। কর্মজীবী নারী, শিক্ষার্থী, হাসপাতালে আসা রোগীর স্বজন কিংবা দীর্ঘ সময় বাইরে থাকা নারীদের প্রায়ই প্রয়োজনীয় শৌচাগার খুঁজে পেতে সমস্যায় পড়তে হয়। অপরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তাহীনতা, পর্যাপ্ত আলো না থাকা এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অভাব তাঁদের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করে।
কেউ কেউ এ কারণে দীর্ঘ সময় প্রস্রাবের চাপ আটকে রাখেন বা পানি পান কমিয়ে দেন। দীর্ঘ সময় প্রস্রাব আটকে রাখা এবং পানিশূন্যতা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। অপরদিকে, শৌচাগারে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা, সাবান, পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকলে সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য প্রবেশযোগ্য র্যাম্প, উপযোগী কমোড ও চলাচলের পর্যাপ্ত জায়গা না থাকলে তাঁদের জন্য বিদ্যমান শৌচাগারও কার্যত ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
প্রশ্ন হলো, ঢাকার গণশৌচাগার পরিকল্পনায় নারী, শিশু, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রয়োজন কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে? শুধু শৌচাগারের সংখ্যা বাড়ালেই কি তাঁদের সমস্যার সমাধান হবে, নাকি প্রতিটি স্থাপনার নকশা, নিরাপত্তা ও ব্যবহারযোগ্যতা নিশ্চিত করাও জরুরি?

দুর্গন্ধের আড়ালে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি
প্রকাশ্যে মূত্রত্যাগ ও খোলা জায়গায় মানববর্জ্য পড়ে থাকা শুধু নগরের সৌন্দর্য নষ্ট করে না, জনস্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করে। মানববর্জ্য ও অপরিচ্ছন্ন স্যানিটেশন ব্যবস্থার কারণে জীবাণু দূষিত পানি, মাটি, খাবার ও হাতের মাধ্যমে ছড়াতে পারে। অপর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং দূষিত পানি ডায়রিয়া, টাইফয়েড ও হেপাটাইটিস এ-সহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষ করে বর্ষাকালে বৃষ্টির পানির সঙ্গে বর্জ্য ড্রেন, জলাশয় ও আশপাশের পরিবেশে ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়।
কিন্তু এই সমস্যার দায় কি শুধু প্রকাশ্যে মূত্রত্যাগকারী ব্যক্তির? একজন মানুষ যখন দীর্ঘ সময় বাইরে থাকার পরও প্রয়োজনীয় শৌচাগার খুঁজে পান না, তখন তাঁর সামনে বাস্তবসম্মত বিকল্প কী থাকে? অবশ্যই জনপরিসরে মূত্রত্যাগ গ্রহণযোগ্য নয়। তবে বিকল্প সুবিধা নিশ্চিত না করে শুধু জরিমানা বা অভিযান চালালে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। নাগরিককে যেমন পরিচ্ছন্নতার নিয়ম মানতে হবে, তেমনি রাষ্ট্রকেও সেই নিয়ম মানার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
আইন আছে, দায়িত্ব আছে—জবাবদিহিতা কোথায়?
গণশৌচাগার নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব বাংলাদেশে নতুন কোনো ধারণা নয়। তবে এ ক্ষেত্রে আইনের উল্লেখ করতে গিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন প্রয়োজন। ১৯৮৩ সালের ঢাকা সিটি করপোরেশন অধ্যাদেশের ৭৯ ধারায় পর্যাপ্ত ও উপযুক্ত স্থানে নারী-পুরুষের জন্য পৃথক গণশৌচাগার নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের বিধান ছিল। কিন্তু ওই অধ্যাদেশটি ২০০৯ সালের স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন দ্বারা রহিত হয়েছে। বর্তমান ২০০৯ সালের আইনের তৃতীয় তফসিলের ১.৮ উপদফায় সিটি করপোরেশনকে পর্যাপ্ত সংখ্যক ও উপযুক্ত অবস্থানে নারী-পুরুষের জন্য পৃথক গণশৌচাগার সরবরাহ, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ দায়িত্বের আইনগত ভিত্তি রয়েছে; মূল প্রশ্ন বাস্তবায়ন ও জবাবদিহির।
তাহলে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এত দিনেও পর্যাপ্ত গণশৌচাগার নিশ্চিত করতে পারল না কেন? কোন এলাকায় কতটি শৌচাগার প্রয়োজন, কতটি সচল, কতটি বন্ধ এবং কোনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা হয়—এসব তথ্য নাগরিকদের সামনে নিয়মিত প্রকাশ করা হয় না কেন? গণশৌচাগার নির্মাণের জন্য বরাদ্দ অর্থের ব্যবহার, পরিচালনার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম এবং সেবার মান যাচাইয়ের জন্য কার্যকর তদারকি ব্যবস্থা কোথায়? শুধু নতুন স্থাপনা নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে কি এই সংকটের সমাধান সম্ভব?
এখানে ঢাকা ওয়াসা, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একটি গণশৌচাগার নির্মাণ করাই শেষ কথা নয়; সেখানে পানি সরবরাহ, নিয়মিত পরিষ্কার, বর্জ্য সংগ্রহ, পরিবহন ও নিরাপদ নিষ্কাশনের ব্যবস্থাও থাকতে হবে।

সমাধান কি খুবই কঠিন?
ঢাকার গণশৌচাগার সংকট সমাধানে প্রথমেই প্রয়োজন এলাকাভিত্তিক চাহিদা নিরূপণ। বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন, মেট্রোরেল স্টেশন, হাসপাতাল, বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পার্ক ও গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগমস্থলে কত মানুষের যাতায়াত হয়, তার ভিত্তিতে শৌচাগারের সংখ্যা নির্ধারণ করতে হবে। যেখানে জমির সংকট রয়েছে, সেখানে আধুনিক ভ্রাম্যমাণ শৌচাগার স্থাপন করা যেতে পারে। পাশাপাশি প্রতিটি স্থাপনায় নারী-পুরুষের পৃথক ব্যবস্থা, প্রতিবন্ধীবান্ধব প্রবেশপথ, পর্যাপ্ত আলো, নিরাপত্তা, পানি, সাবান এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে গণশৌচাগার নির্মাণ ও পরিচালনায় যুক্ত করা যেতে পারে। তবে সিটি করপোরেশনকে সেবার মান, নির্ধারিত ব্যবহারমূল্য ও পরিচ্ছন্নতা নিয়মিত তদারকি করতে হবে। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বিনা মূল্যে বা ভর্তুকিতে ব্যবহারের সুযোগও বিবেচনা করা প্রয়োজন। প্রতিটি গণশৌচাগারের অবস্থান, খোলার সময়, ব্যবহারমূল্য, পরিচ্ছন্নতার অবস্থা ও অভিযোগ জানানোর নম্বরসহ একটি ডিজিটাল তালিকা প্রকাশ করা হলে নাগরিকদের সুবিধা বাড়বে এবং কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিও নিশ্চিত করা সহজ হবে।
উন্নয়নের সংজ্ঞায় নাগরিকের মৌলিক প্রয়োজন কোথায়?
ঢাকার উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করতে গেলে মেট্রোরেল, উড়ালসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে ও বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্পের কথা সামনে আসে। কিন্তু একজন নাগরিক যখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাইরে অবস্থান করেও প্রয়োজনের সময় একটি পরিচ্ছন্ন গণশৌচাগার খুঁজে পান না, তখন সেই উন্নয়নের প্রকৃত সুফল নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। যে শহরে একজন রিকশাচালক, একজন হকার কিংবা একজন দিনমজুরের জন্য শৌচাগারের ব্যবস্থা নেই, যে শহরে একজন নারী নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতার অভাবে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হন, সেই শহরকে কতটা আধুনিক বলা যায়?
ঢাকার সংকটের মূল কারণ শুধু নাগরিক অসচেতনতা নয়; এর পেছনে রয়েছে অপর্যাপ্ত অবকাঠামো, দুর্বল পরিকল্পনা, রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহির অভাব। তাই দেয়াল পরিষ্কার করা, দুর্গন্ধনাশক ছিটানো কিংবা প্রকাশ্যে মূত্রত্যাগের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় গণশৌচাগার নিশ্চিত করতে হবে।
রাষ্ট্র ও নগর কর্তৃপক্ষের কাছে প্রশ্ন হলো, একটি শহরে নতুন উড়ালসড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা করা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেই শহরের মানুষের জন্য পরিচ্ছন্ন শৌচাগারের ব্যবস্থা করা কি তার চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ? উন্নয়নের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও নাগরিকের এই মৌলিক প্রয়োজন কেন পরিকল্পনার অগ্রাধিকার পায় না?
মনে রাখতে হবে, একটি শহরে একজন সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদে, পরিচ্ছন্ন পরিবেশে এবং মর্যাদার সঙ্গে সেখানে জীবনযাপন করতে পারছেন, সেটিই প্রকৃত উন্নয়নের অন্যতম মাপকাঠি।
মিজানুর রহমান রুবেল, সিটিজেন্স ভয়েস-এর নির্বাহী পরিচালক এবং
এফ. আর. ইমরান, সিটিজেন্স ভয়েস-এর নির্বাহী সম্পাদক।

